যখন আমি বিয়ে করেছিলাম তখন আমার বয়স ২২ আর আমার স্বামীর বয়স ৩৩। প্রথমে আমাদের মধ্যে সবকিছু ঠিক ছিল। দিনে বা রাতে যতোই ঝগড়া করতাম রাতে আবার একসাথে মিলে যেতাম।
প্রথমে আমি রাজি ছিলাম না বিয়ে করতে তার বয়সের কারণে কিন্তু ফ্যামিলির চাপে আমি রাজি হয়ে যাই।
সময়ের সাথে সাথে অবস্থা পরিবর্তন হতে থাকে। আমি ছিলাম এক পূর্ণ যুবতী। আমি আমার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে ও হাসাহাসি করতে খুবই পছন্দ করতাম কিন্তু আমার শাশুড়ি তা পছন্দ করতো না। তুমি নতুন বিয়ে করেছো তাই তুমার উচিত তুমার শুশুড় এবং দেবর বা বাশুড়কে শ্রদ্ধা করা।
আমি আমার অভ্যাস পরিবর্তন করি নি যা আমার শাশুড়ি অপছন্দ করতো আমার ব্যাপারে। কিন্তু আমি এগুলো তেমন পাত্তা দিতাম না।
প্রধান সময়ঃ
বিয়ের ১ বছর পর আমার স্বামী দেশের বাহিরে গেলো কাজের জন্য। আমি তার সাথে যেতে চাইলাম কিন্তু উনি রাজী হলো না।
আমি তর্ক করলাম এই বলে যে, আমি তুমাকে বিয়ে করেছি তোমার পরিবারকে না। অবশেষে, সে আমাকে পাসপোর্ট করতে বললো।
আমার পাসপোর্ট যখন হাতে পেলাম, তখন সে বলল, ” তুমি সেটাই করো যা তুমি করতে চাও। ” আমি বললাম আমি কারো মত চাই না আমার সিদ্ধান্ত নিতে।
তখন শশুর বাড়ির লোকেরা বলল যে মাত্র দু মাসের জন্যই তো যাচ্ছে, তুমি থেকে যাও। অনেক অনুরূধ করার পরে আমি রাজি হলাম কিন্তু শর্ত দিলাম এই দুই মাস আমি বাবার বাড়ি থাকবো।
কিছুদিন পরে আমার স্বামী আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠালো। আমার বাড়ির মানুষ আমাকে অনেক কিছু বুঝালো কিন্তু আমি আমার আত্মসম্মান কে প্রধান্য দিলাম এবং বিয়ের অবসান হলো। আমার বয়স তখন ২৩ বছর। ( বিয়ের ১ বছর পর)
ডিভোর্স এর পরের জীবন
আমার বয়স যখন ২৫ আমি তখন আবার বিয়ে করতে মনস্থ হলাম কিন্তু পাত্র যা আসে তাদের অনেকেই অনেক বসস্ক যেহেতু আমার দ্বিতীয় বিয়ে।
এখন আমার বয়স ৩০ এবং অবিবাহিত। আমি মাঝে মাঝে ভাবী স্বামীর সাথে বিদেশ যাওয়ার জন্য এমন পাগলামি করা আমার ঠিক হয় নি।
মেয়েদের প্রতি আমার বার্তাঃ
ডিভোর্স আসলে সহজ একটা ব্যাপার নয় যেমনটা টিভি বা সিনেমাতে দেখানো হয়। বাস্তবে ডিভোর্স এর পরের জীবন অনেক নিষ্ঠুর ।
আমরা নারীরা যতোই নিজেকে শক্তীশালো মনে করি না কেনো সবসময় নিজেকে একা লাগার একটা ভয় থাকে। যদিও আমরা এই কথাটা স্বীকার করি না আমাদের আত্ম অহংকার এর কারণে।
সকল মেয়েদের প্রতি আমার কথা হলো।
ডিভোর্সটাকে এতো হালকাভাবে নিয়ো না। ছোট ছোট বিষয়গুলো ধৈর্য এর মাধ্যমে সমাধান করা যায়। একবার বিয়ে নষ্ট হয়ে গেলে জীবন অনেক নিষ্ঠুর হয়ে যায়।
আমার এই জীবনের গল্প যদি কাঊকে দুঃক্ষ দিয়ে থাকে আমি আন্তরিকভাবে দুঃক্ষিত। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, আমার জীবনের অভিজ্ঞতা আপনার সাথে শেয়ার করা এবং কারো যদি উপকার আশে সেই উদ্দেশ্যে ।
যদি আমার গল্প তুমাদের ভালো লাগে তাহলে জানাও।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
তুমাদের একটা আপভোট আমাকে উৎসাহ দেয় আরো বেশি কাজ করতে।
আমাকে ফলো করতে ভুলে যাবেন না।








