যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আমজাদ হোসেন এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে পদোন্নতি নেবার অভিযোগ উঠেছে।
এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য আমাদের হস্তগত হয়েছে। উক্ত তথ্য সমূহ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ড. মোঃ আমজাদ হোসেন এর সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা স্বর্তেও তৎকালীন প্রশাসনের সহায়তায় তিনি নিজে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নেন।
সেই সময়ে ড. মোঃ আমজাদ হোসেন নিজেই বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্লানিং কমিটির সভাপতি হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুর্নীতি করেন। নিজে প্রার্থী হয়ে নিজেই নিজের প্লানিং/আবেদন যাচাই-বাছাই করার এখতিয়ার তার নেই। প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায় সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদনের পূর্বে তার চাকুরীর অভিজ্ঞতার বর্ণনা অনুযায়ী তিনি যবিপ্রবিতে ৬ বছর ৮ মাস ৭ দিন এবং একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় University of Information Technology and Sciences (UITS), Rajshahi Campus -এ ১৫/০৫/২০১০ থেকে ০৬/০২/২০১২ পর্যন্ত মোট ১ বছর ৮ মাস ২১ দিন চাকুরী করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউ জি সি) হতে জানা যায়, University of Information Technology and Sciences (UITS) এর ঢাকার বাহিরে সরকার বা UGC অনুমোদিত কোন ক্যাম্পাস নাই। এছাড়া, এ বিষয়ে ইউ আই টি এস বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা জানান ঢাকার বাইরে তাদের কোন ক্যাম্পাস নেই। অর্থাৎ ইউ আই টি এস এর রাজশাহী ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ অবৈধ। সুতরাং তিনি সম্পূর্ণ অবৈধ একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর অভিজ্ঞতা তার সহযোগী অধ্যাপক পদে পদায়নের জন্য ব্যবহার করেছেন।
উপরন্তু, ইউ আই টি এস এর রাজশাহী ক্যাম্পাস হতে প্রদত্ত তার নিয়োগ পত্র হতে দেখা যায় যে তিনি উক্ত অবৈধ ক্যাম্পাসে চুক্তি ভিত্তিক (on contract) ভাবে অস্থায়ী প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ছিলেন। যবিপ্রবি হতে জানা যায় যে, চুক্তি ভিত্তিক বা খন্ডকালীন চাকুরীর অভিজ্ঞতা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবেচনা করার কোন নিয়ম নাই।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অভিজ্ঞতার তথ্য কারচুপির মাধ্যমে ড. মোঃ আমজাদ হোসেন তার অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হবার চার মাস পূর্বেই সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন। যা অনিয়ম এবং দুর্নীতি। এছাড়া, সময়ের পূর্বেই সহযোগী অধ্যাপক হবার প্রেক্ষিতে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান, এবং বর্তমানে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন, যা অবৈধ। এছাড়া, যবিপ্রবি হতে আরও খোজ নিয়ে জানা যায় যে, তার বিরুদ্ধে Plagiarism এর গুরুতর অভিযোগও ছিল।
এ বিষয়ে দুদক, ইউজিসি এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কে অবহিত করা হলেও এখনও পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।








