সব সমস্যা একদিন মিটে যাবে—ব্যক্তিগত, সম্পর্কের কিংবা দাম্পত্যের। সমস্যাসংকুল দুনিয়ায় সমাধানের ট্রেনটাও সমস্যাসমূহের সমান্তরালে ছোটে। তবে আপনার সমস্যা যাকে-তাকে বলে যে সহানুভূতিকুড়িয়েছেন, নালিশের রায় আপনার পক্ষে পেয়েছেন—সেই সমস্যা আর মিটবে না।
যে সমস্যা নিয়ে বৈঠক বসেছিল, সে সমস্যার হয়তো সমাধান হয়েছে; কিন্তু যাদের দিয়ে বৈঠক করিয়েছিলেন, তারাই এখন সমস্যারূপে আবির্ভূত হয়েছে। যারা সমস্যা শুনে কুবুদ্ধি দিয়েছিল, তারা আপনার সুন্দর দিনে পুরনো সমস্যার ঢেউ তুলবে।
অনেক কথা নিজের মধ্যে রাখতে পারা মানসিক পরিপক্বতা। সমস্যাবিহীন দুনিয়া পাবেন না। তবে আপনার সমস্যাগুলোকে সময় দিন, নিজেই সমাধানের চেষ্টা করুন।
সমস্যার সূত্রপাতেই সেটা বাজার করে দিলে কে আপনাকে সুপরামর্শ দেবে? আপনি কাকে আপন ভাবেন? যারা তথাকথিত সালিশদার, তারা আপনার আপন? এই বিশ্বাসে থাকলে ঝুলি ছাড়া ভিক্ষা করতে হবে।
যার সাথে আপনার সমস্যা, সেই আপন হবে। দু’দিন অমিল থাকতে পারে, রাগে শরীর গজগজ করতে পারে কিংবা কামনায় ক্ষতি থাকতে পারে, কিন্তু পাখিকে দিনশেষে নীড়ে ফিরতে হয়। যাপিত জীবনের ছোট ছোট গর্তগুলোকে মহাসাগরে পরিণত করবেন না। সবর করুন। রাগের মাথায় করা প্রত্যেকটি প্রতিক্রিয়া সুসম্পর্কেরহন্তারক। চুপ থাকলে জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
পাশাপাশি থাকলে মুখ কালাকালি হবে, মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হতে পারে। তাই বলে নিজেদের কথা এখানে-ওখানে দিলে সম্পর্কের ইমারত দুর্বল হতে পারে।
যাঁর কাছ থেকে বুদ্ধি নেন, সে আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না। বুদ্ধিদাতাদের অনেকেই বিচ্ছেদের ছড়ি ঘোরায়। সম্পর্ক যাতে পূর্বের অবস্থায় বা স্থিতিশীলতার দিকে টান নিতে না পারে, সেজন্য ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময়ই সজাগ থাকে।
যে সমস্যা দু’দিনেই মিটে যাবে এবং আপনিই সমাধান করতে পারবেন, তা জনে জনে বলে বেড়ালে আপনার ব্যক্তিত্ব হালকা হয় এবং অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ে। সম্মান রক্ষার জন্য একজীবনে অনেক কিছু চেপে যেতে হয়।
সমস্যাকে কখনোই গভীরে শিকড় দিতে দেবেন না। সমস্যা যদি ডালপালায় বাড়ে, তাতেও নোটেনশন—ইচ্ছা হলেই মূলসহ তুলে ফেলা যাবে।
সমস্যা যত কানে শেয়ার করবেন, সেটার সমাধান তত জটিল আকার ধারণ করবে। মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও মানসিক অসুস্থতার এই সময়টাতে অনেকেই অনেকের মঙ্গল চায় না; বরং কীভাবে ক্ষতি করা যায়, অশান্তির চাষ করা যায় সেই চেষ্টা করে।
কাজেই কাকে বিশ্বাস করে মনের কথা বলছেন? যারা কায়দা করে ফায়দা লুটবে, তারাই কেবল আপনাকে স্বার্থহীনের ভাব ধরে সময় দেবে। অতঃপর অস্ত্র যখন তাদের গ্রিপে যাবে, তখন আপনি পুতুল—দুষ্টু তখন যেমন নাচায়, তেমনি নাচতে হবে।
আপনার সমস্যা সমাধানে আপনি ডাক্তার হোন। অন্য কাউকে অপারেশন করতে দিলে ছাল-বাকল তুলে দিয়ে লবণ ছেটাবে। আপনার বলা কথা দিয়েই আপনাকে ঘায়েল করবে।
কাজেই সাহসী হোন এবং আত্মবিশ্বাস রাখুন। কিছু হারিয়ে গেলেও দুনিয়া শেষ হয়ে যায় না। যা-কিছু সঞ্চয় করে যাবেন, সেটারই মুনাফা ফিরে পাবেন।
সমস্যাগুলোকে সামান্য করে দেখুন। দুঃখহীন থাকলে সুখের মূল্য থাকে না। আঘাতের পরেই পদক্ষেপটাই ভালোবাসার। জীবনকে ভালোবাসুন। সমস্যাগুলোকেও সমাধানের লক্ষ্যে আগলে রাখুন।
আস্থার দুনিয়া সুন্দর, বিশ্বাসের দুনিয়ায় শান্তি। তবে যাকে-তাকে বিশ্বাস করে, নিজের সমস্যাকে অন্যের পালে তুলে দিয়ে সুখের তালাশ বৃথা। মানুষ যেন সেই নীতিতে অটল থাকে, যা তার জন্য কল্যাণকর।
রাজুআহমেদ, প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com








