কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গতকাল শুক্রবার এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি প্রয়াত এ ধনকুব–সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথির ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিন মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইন একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, এপস্টেইন–সম্পর্কিত বিপুল নথিপত্র পর্যালোচনায় বিচার বিভাগের ওপর হোয়াইট হাউস প্রভাব খাটায়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে ব্লাঞ্চ বলেন, ‘কীভাবে আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে, কী দেখতে হবে, কোন অংশ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, কিংবা কোন অংশ ঢেকে দেওয়া যাবে না—সেসব বিষয়ে তারা (হোয়াইট হাউস) বিচার বিভাগকে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।’
এপস্টেইনের নথিতে ট্রাম্প–সংক্রান্ত বিব্রতকর বিষয়গুলো কালো কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে ব্লাঞ্চ তা নাকচ করে দিয়েছেন। ব্লাঞ্চ একসময় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন প্রকাশ করা নথিগুলোর কোনো কোনোটির মধ্যে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পকে নিয়ে কিছু ‘মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ’ রয়েছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) কাছে অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়েছিল।
গতকাল প্রকাশিত এপস্টেইনের নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মতো বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এর আগে প্রকাশিত নথিতেও তাঁদের নাম দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া তালিকায় ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে।
নতুন নথিতে নাম থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

নথিপত্রগুলোয় এফবিআইয়ের তৈরি করা একটি তালিকা আছে। এতে ট্রাম্প–সংক্রান্ত যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তথ্য ছিল। অভিযোগকারীদের অনেকে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন এবং নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করেননি। আবার কিছু অভিযোগ এমন সূত্রের কাছ থেকে এসেছে, যাঁদের তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
অভিযোগগুলো এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেন্টারে এসেছিল। তারা ফোনে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে।
নথিপত্র বলছে, তদন্তকারীরা কিছু অভিযোগের ওপর অনুসন্ধান করেছেন। তবে কিছু অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
ট্রাম্প সব সময়ই এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোনো অপরাধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
গতকাল নথি প্রকাশের সময় বিচার বিভাগ বলেছে, ‘কিছু নথিতে ট্রাম্পকে নিয়ে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ আছে, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এফবিআইতে জমা দেওয়া হয়েছিল। এগুলো সব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।’

বিল গেটস
নথিপত্রে থাকা একটি খসড়া ই–মেইলে এপস্টেইন অভিযোগ করেছেন যে বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
ই–মেইলে এপস্টেইন লিখেছেন, রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং বিবাহিত নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জন্য বিল গেটসকে সুযোগ তৈরি করে দিতে তিনি কাজ করেছেন।
ইলন মাস্ক
নথিপত্রে এপস্টেইন ও ধনকুবের মাস্কের মধ্যে অনেক ই–মেইল আদান–প্রদানের তথ্য রয়েছে।
২০১২ সালের নভেম্বরে মাস্ককে একটি ই–মেইল পাঠান এপস্টেইন। সেখানে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘হেলিকপ্টারে করে আইল্যান্ডে কতজন আসবে?’
মাস্কের জবাব ছিল, ‘সম্ভবত শুধু তালুলাহ আর আমি। আপনার দ্বীপে সবচেয়ে উন্মত্ত পার্টি কোন দিন/রাতে হবে?’

রিচার্ড ব্র্যানসন
নথিপত্রে দেখা যায়, ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসন ও এপস্টেইনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এপস্টেইনকে পাঠানো এক ই–মেইলে ব্র্যানসন লিখেছেন, ‘গতকাল আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে সত্যিই দারুণ লাগল। ওয়াটারস্পোর্টসের ছেলেরা এখনো এ নিয়েই কথা বলছে! যখনই আপনি এ এলাকায় আসবেন, আপনার সঙ্গে দেখা হবে বলে আশা করি। শর্ত হলো, আপনার হারেমকে (সঙ্গী) সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।’






