রংপুর ব্যুরো: বিভাগীয় নগরী রংপুরের প্রবেশদ্বার মর্ডান মোড়ে ধর্মদাস এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে গরু রাখার জন্য ‘আবাসিক হোটেল’। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০টি গরু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় এখানে একটি গরু রাখা যায়। রংপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরুর পাইকারি ব্যবসায়ী এবং খামারিরা এখানে গরু রাখছেন। ইতোমধ্যে গরুর আবাসিক হোটেল সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের দেশি গরুর মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, বাগেরহাট, খুলনা,কক্সবাজার, টেকনাফ, কুমিল্লা, নোয়াখালি, বরিশাল অঞ্চল থেকে পাইকাররা গরু ক্রয় করতে রংপুরে আসে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে অনেক পাইকার আসে রংপুর এলাকায়। এর আগে পাইকারদের গরু ক্রয় করে রাখার জায়গা ছিল না। নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে থাকতো তারা। এছাড়া রংপুরে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অনেক গৃহস্থ নগরীর বিভিন্ন হাটে গরু বিক্রি করতে এসে কাঙ্খিত দাম না পেলে ফিরিয়ে নিয়ে যেত। গরু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে গড়ে তুলেছেন গরু রাখার আবাসিক হোটেল। অল্প দিনের মধ্যে এই হোটেলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। আলমগীর হোসেন বলেন, একটি গরু একদিন রাখার জন্য ৫০ টাকা ভাড়া গ্রহণ করা হয়। গরুর খাবারের ব্যবস্থা পাইকার বা মালিকদের নিজ উদ্যোগে করতে হয়। এ জন্য ধানের খড় এখানে পাওয়া যায়। হয় তারা নিজেরাই খাওয়াতে পারে অথবা হোটেলের কর্মচারীদের সহায়তা নিতে পারে। দেশি জাতের গরু ক্রয় করতে চট্টগ্রাম থেকে আসা মমিন সরকার বলেন, আগে গরু ক্রয় করতে এসে নানা সমস্যায় পড়তেন। এক ট্রাকে ৩৫ থেকে ৪০টি গরু পরিবহন করা যায়। এসব গরু ক্রয় করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগে। এখন বিভিন্ন হাটে গিয়ে করে গরু ক্রয় করে আবাসিক হোটেলে রাখা যায়। রংপুর অঞ্চলের দেশি জাতের গরুর চাহিদা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বেশি, এজন্য আরও কয়েকটি গরুর আবাসিক হোটেল হলে ভালো হয়। শরীয়তপুর থেকে গরু ক্রয় করতে আসা আব্দুল মতিন বলেন, রংপুর অঞ্চলের দেশি গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেননা ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর মাংসের চাইতে দেশি গরুর মাংসের স্বাদ অনেক বেশি। এখন গরুর আবাসিক হোটেল হওয়ায় সব দুশ্চিন্তা নেই। এদিকে পীরগাছা থেকে দুটি গরু বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়ে পাইকার আফজাল হোসেন। তিনি কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় গরু দুটি আবাসিক হোটেলে রেখে অন্য হাটে বিক্রির চেষ্টা করছেন। জানা যায়, আবাসিক হোটেলে ১৫ জন কর্মচারী রয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন। কর্মচারী রহিম মিয়া বলেন, এখানে তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন ৫০০ টাকা আয় হয়। সংসারে অভাব কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। একইভাবে গরুর খড়, ভুসিসহ গরুর খাদ্য বিক্রেতাগণ বলেন, এখানে গোখাদ্য বিক্রির মাধ্যমে ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গরুর আবাসিক হোটেল মালিক আলমগীর বলেন, ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়ে জায়গাটি মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া নিয়েছেন। এখানে ৪০০ থেকে ৫০০ গরু রাখা যায়। রংপুর জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, গরুর আবাসিক হোটেল নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। রংপুর অঞ্চলের দেশি জাতের গরুর ব্যাপক চাহিদা আছে দক্ষিণাঞ্চলে। ফলে অনেক পাইকার আর গৃহস্থরা আসেন গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে। আবাসিক হোটেলে গরু রাখায় তাদের অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








