রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুর বিভাগের দিন দিন বাড়ছে গরুর ল্যা¤িপ স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব। বিভাগের ৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। এতে গরুর মৃত্যুর ঘটনার একই সাথে বাড়ছে চিকিৎসার ব্যয়। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলাতেই গরুর ল্যা¤িপ স্কিন রোগের আক্রান্ত ও গরু মৃত্যুর সংখ্যা আনেক বেশী বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়। এদিকে ল্যা¤িপ স্কিন রোগের প্রতিরোধক ভ্যাকসিক সংকটে চরম বিপাকে পড়েছে খামারিগণ। সহসাই মিলছে না ভ্যাকসিন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পল্লী চিকিৎসকরা ভ্যাকসিনের নামে বিভিন্ন ইনজেকশন পুশ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভ্যাকসিন শূন্যতায় অনেক উপজেলায় প্রাণিস¤পদ কার্যালয়গুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে রয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ খামারপাড়া গ্রামের রাজ্জাক ও মহেবুল এবং ঠনঠনিয়াপাড়া গ্রামের রজব আলীর ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল আহারের দুটি করে গরু ল্যা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। দক্ষিণ খামারপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিন, ডাক্তারপাড়া গ্রামের টিপু ও কবিরাজপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেনের তিনটি করে গরু মারা গেছে। খামারিগণ বলেন, সব মিলিয়ে উপজেলয় অন্তত ৩০০ গরু ল্যা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু মুছা বলেন, প্রতিদিনই ল্যা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত ১৫-২০টি করে গরু আসছে। এগুলোকে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাইরে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। রংপুর প্রাণিস¤পদ কার্যালয়ের সামনে কল্যাণী ইউনিয়নের নবদীগঞ্জ এলাকার লোকমান মিয়া ভ্যানে করে ল্যা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এছাড়াও আরও ৩/৪ জনের ভ্যানে ছিল আরও কয়েকটি আক্রান্ত গরু। লোকমান মিয়া বলেন, গরুর বাছুর কিছু খাওছে (খাচ্ছে) না। পুরা শরীরে গুটির মতো উঠছে। গ্রামোত ১০ দিন চিকিৎসা করনু (করলাম), কমিল না। হাসপাতালোত আলছু (এসেছি)। এ রোগে হামার ওটে (আমাদের ওখানে) গরু মরি গেইছে। গরুটা নিয়া খুব চিন্তায় আছু। মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রায় সব জায়গায় ল্যা¤িপ স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রাণিস¤পদ অফিসের সামনে ভ্যানে করে আক্রান্ত গরু নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসছে। লতিবপুর গ্রামের অর্জুন রায় বলেন, বাড়ির পাঁচটি গরু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। চিথলী উত্তরপাড়ার মমিন মিয়া বলেন, খুব দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। রংপুর জেলা প্রাণিস¤পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, রংপুরের আট উপজেলায় গরুর ছোট-বড় খামার রয়েছে ১ হাজার ৬৬৮টি। গৃহপালিত গরুরয়েছে আরও প্রায় ১০ লক্ষ। জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে দেড় শতাধিক ল্যা¤িপ স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বলরাম কুমার বলেন, এ বছর গরুর বাছুরে ল্যা¤িপ স্কিন রোগের প্রকোপ বেশি। প্রতিদিন জেলা প্রাণিস¤পদ হাসপাতালে এ রোগে আক্রান্ত গরু আসছে গড়ে ৩০টি। একা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ল্যা¤িপ স্কিন রোগ হয়। পল্লী চিকিৎসকরা একই সিরিঞ্জ একাধিক গরুতে ব্যবহার করায় এ রোগ বেশি ছড়াচ্ছে। রক্তচোষা মাছি-মশা, আঁটালি তো আছেই। তাছাড়া পল্লী চিকিৎসক ও খামারিরা নিজেরাই অ্যান্টিবায়োটিক ও পেইন কিলার গরুকে খাওয়াচ্ছেন, যা স¤পূর্ণ ভুল চিকিৎসা। এভাবে গরু বাঁচানো যাবে না। রংপুর জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ল্যা¤িপ স্কিন রোগে গরু আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আট উপজেলায় গরু মারা যাওয়ার তেমন কোনো তথ্য নেই। বদরগঞ্জ উপজেলায় তিন শতাধিক গরু মারা যাওয়ার তথ্যকে তিনি ভুয়া বলে দাবি করেন। ওই উপজেলায় পাঁচটি গরু মারা গেছে, এমন তথ্য দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। বদরগঞ্জ উপজেলার প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তার হিসাবেই অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যু তথ্য জানালে ডা. সিরাজুল বলেন, উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা আমাকে একটি গরুর মৃত্যু তথ্যও দেননি। বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








