রংপুর ব্যুরো: রংপুরে জ্বালানি তেলের বিপণন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং তদারকি জোরদারে জেলাজুড়ে ৮৫ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ ৩০ মার্চ সোমবার সকাল থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পগুলোতে অবস্থান নিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, রংপুর মহানগরসহ সদর, কাউনিয়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গংগাচড়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় ৮৫টি জ্বালানি তেলের পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পের প্রতিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের একজন করে কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রতিদিনের তেল বিক্রি এবং সরবরাহ কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠে থাকলেও রংপুরের পাম্পগুলোতে এখনো তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। এমন সংকট সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত রবিবার জেলার ডিপোগুলোতে ৭ হাজার ৫২২ লিটার ডিজেল, ৩৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ১৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ২৭ হাজার লিটার কেরোসিন মজুত ছিল। তবে চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রংপুরের তিনটি জ্বালানি তেল ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, পাম্পগুলো আগে সপ্তাহে দুবার তেল নিলেও এখন প্রতিদিন চাহিদা দিচ্ছে, যা বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থায় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই ডিপোগুলোতে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে বিশেষ করে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। নগরীর ডিসির মোড়, মেডিকেল মোড়, কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, মর্ডাণ মোড়, সাতমাথা মোড় ও শাপলা চত্ত্বরে মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করেছে। এসময় ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা এবং আইন অমান্য করায় ২১টি মোটরসাইকেল ও ৫টি যানবাহনে মামলা, ২৭টি যানবাহন আটক করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য বিআরটিএ অফিসেও আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তি ভিড় বেড়েছে। যদিও আবেদন আনলাইনে করতে হয় চালকদের। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ রংপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৪৬৫টি আবেদন করেছে। এছাড়াও চারটি বড় গাড়ির আবেদনও রয়েছে। রমজান, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকার পরও গত মাসের চেয়ে এ মাসে আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বিআরটিএ রংপুর অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মো. মাহবুবার রহমান বলেন, প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০টি, আবার কখনো কখনো আবেদনের সংখ্যা বেশিও হয়। আনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হওয়ায় চালকদের আগ্রহ বেড়েছে। তাছাড়া এখন সচেতনতাও বেড়েছে। মানুষ মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন নিয়ে সড়কে নেমে কাগজের বিড়ম্বনায় পড়তে চায় না। এদিকে, দুপুরে বিআরটিএ রংপুর অফিস সংলগ্ন জেলা মডেল মসজিদ চত্বরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীদের জটলা দেখা যায়। যাদের অনেকই তাদের কাঙ্খিত লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে এসেছে। সেখানে আবেদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উত্তীর্ণ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র বিতরণ করা হয়। রংপুর নগরীর শাপলা সিনেমা টকিজ সংলগ্ন সুজুকি ব্রান্ডের মমতাজ মটরস শো-রুমের ব্যবস্থাপক মারুফ আহমেদ হিরা বলেন, জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাবে ব্যবসায় ধস নেমেছে। আগের মতো মোটরসাইকেল বিক্রি নেই বললেই চলে। গত দুই মাসের তুলনায় এ মাসে অর্ধেকে নেমেছে বিক্রি। জ্বালানি তেলের সংকটে সৃষ্ট এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শো-রুমে সার্ভিসিং ছাড়া বিক্রয় কার্যক্রম শুন্যে নামবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নগরীর শাপলা চত্বর হাজীপাড়ায় সিএফ মোটো ব্রান্ডের পিসিডিটি মটরস্ শো-রুমের ব্যবস্থাপক তানবীর ফেরদৌস বলেন, আমাদের সিএফ মোটো ব্রান্ডের মোটরসাইকেল ২৫০ সিসি থেকে শুরু, এসব মোটরসাইকেলে তেল পরিমাণে বেশি লাগে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসায় মন্দাভাব যাচ্ছে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







