এম এ হোসেন, রংপুর: দেশে ১৮ বছরের নিচের বয়সী মেয়েদের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে ধরা হয়। রংপুর মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে এবং জেলার ৮টি উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলছে বাল্যবিবাহ। ইউনিসেফের তথ্য বলছে, রংপুরে ১৮ বছরের আগে ৩.৫ শতাংশ মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে। বাস্তবে এর হার আরো বেশি। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, করোনা মহামারির দুই বছরে দেশে ১৫-১৯ বছর বয়সী যে ২৭ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়েছে তাদের মধ্যে প্রথম বছর (২০২০) বিয়ে হয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশের ও দ্বিতীয় বছর (২০২১) বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশের। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস্) ২০১৯ অনুসারে, একই বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর ১৮ বছর বয়সের নিচে এ হার ৫১ শতাংশ। সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের গ্রাম এলাকায় ও জেলার গংগাচড়া, সদর, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, পীরগঞ্জ, পীরগাছার কিছু কিছু অংশে বাল্যবিবাহ হচ্ছে নানা কৌশলে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বয়স কম হলেও টাকার বিনিময়ে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদও বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে জন্ম তারিখ সম্পাদন করে এবং সংশ্লিষ্ট বিবাহ রেজিস্ট্রারকে (কাজী-কে) অতিরিক্ত টাকা দিলেই সম্পন্ন হচ্ছে বিয়ে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বাল্যবিবাহ নিরোধে আইনের হচ্ছে না সঠিক নজরদারি, প্রয়োজন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন। অনেকেই ভাবেন, মেয়েদের বিয়ে দিয়ে পরিবারের বোঝা কমাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের এটা বোঝাতে হবে যে মেয়েকে যোগ্য করে বিয়ে দেওয়া হলে পরিবারও সমৃদ্ধ হয়। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সচেতনতা প্রয়োজন। সবকিছু ডিজিটালাইজ করা হয়েছে, বিবাহ রেজিস্ট্রার প্রক্রিয়াটাও ডিজিটালাইজ করা দরকার। সাধারণ মানুষেরা বলছেন, কাজী সাহেবরা ঠিক হলে বাল্যবিবাহ ৫০ শতাংশ কমে যাবে, সেইসাথে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। রংপুরের প্রশাসনকেও কঠোর হতে হবে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের প্রচলন সবচেয়ে বেশি। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ দশ দেশের মধ্যেও বাংলাদেশ চতুর্থ। বর্তমানে বাংলাদেশে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৫১ শতাংশেরই বাল্যবিবাহ হয়েছে। সেই হিসাবে এই মুহূর্তে দেশে বাল্যবিবাহের শিকার নারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৮০ লাখ। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদন বলছে, করোনাকালে দেশে গড়ে প্রতিদিন ৬৫টি করে মোট ১৩ হাজার ৮৮৬টি বাল্যবিবাহ হয়েছে। দেশে বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রথাগত আইনে সাজা হিসেবে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা রয়েছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়নে তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা। তাই আইনের চেয়ে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টা খুবই জরুরি বলে মনে করেন অনেকেই।








