রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুরে বর্ণিল আয়োজনে শুরু হয়েছে বিভাগীয় ভাওয়াইয়া উৎসব। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ৩ দিনের এ উৎসবের আয়োজন করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ভাওয়াইয়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে ভাওয়াইয়া শিল্পীদের কণ্ঠে রংপুর হামার রঙে ভরা রে, আরে ও বন্ধু আইসেন হামার বাড়ি গানের সুরের মধ্যদিয়ে শুরু হয় আয়োজন। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ অঞ্চল রংপুর। ভাওয়াইয়া এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-স¤পদ। আধুনিকতার সঙ্গে গা ভাসিয়ে বর্তমান প্রজন্ম শিকড়ের ভাওয়াইয়া থেকে অনেক দূরে। তাদের মাঝে ভাওয়াইয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এ সময় ভাওয়াইয়া গানের শিক্ষা সংগ্রহ, সংরক্ষণ গবেষণায় নিবেদিত সংগঠক, শিল্পী, সুরকার, গীতিকারসহ ভাওয়াইয়া প্রেমীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভাওয়াইয়ার মানোন্নয়ন, প্রচার-প্রসার ও সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সংস্কৃতিমনা বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মিজানুর রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) সায়ফুজ্জামান ফারুকী, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান। আলোচক ছিলেন সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান, সংগঠক ও গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু জাফর। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় রংপুর জিলা স্কুল সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর হতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এতে ভাওয়াইয়া গীতিকার, সুরকার শিল্পী ও সংগঠকেরা অংশগ্রহণ করে। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বেলুন উড়িয়ে রংপুর বিভাগীয় ভাওয়াইয়া উৎসব ২০২৩ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উদ্বোধনী দিনের পরিবেশনায় পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার শিল্পীদের ভাওয়াইয়ার সুর মন কেড়েছে দর্শক শ্রোতাদের। প্রত্যেক জেলার শিল্পীরা নিজেদের আঞ্চলিক সংস্কৃতির ইতিহাস-ঐতিহ্য সুরের মূর্ছনায় তুলে ধরেন। শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকাল দশটায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন বিকাল তিনটা থেকে শুরু হয় গান পরিবেশন। দ্বিতীয় দিন গাইবান্ধা, লালমনিহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুরের শিল্পীগণ গান পরিবেশনা করেন। সমাপনী দিন রবিবার সকালে আলোচনা পর্ব শেষে বিকাল থেকে দর্শক মাতাবেন বিভাগের আট জেলার খ্যাতিমান ভাওয়াইয়া শিল্পীরা।







