রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দেশের রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সংলাপ ও পার¯পারিক সমঝোতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলসমূহকে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই সমঝোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ এবং সমঝোতাসূত্র নির্ধারণ করতে হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে রংপুর আরডিআরএস ভবনের তিস্তা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতাশীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় আলোচকগণ এসব কথা বলেন। ভোটার অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এ্যাকটিভ সিটেজেনারি প্রকল্পের আওতায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রংপুর জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস, বাংলাদেশ জাসদ রংপুর মহানগর সভাপতি গৌতম রায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রংপুর জেলা শাখার স¤পাদক কাফি সরকার, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। কর্মশালায় বক্তাগণ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। সুস্থ ধারার আদর্শভিত্তিক জনকল্যাণমুখী রাজনীতি না থাকায় নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। তারা বলেন, উন্নয়ন দিয়ে নয় সুশাসন দিয়ে নির্বাচন হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অসাম্প্রদায়িক বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের চেতনা বিকশিত করতে হবে। কারো প্রতিপক্ষ নয়, কারো লেজুর নয়। রাজনৈতিক দলসমূহ এবং নেতাদের হতে হবে জনগণের কণ্ঠস্বর। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে উদ্যোগী হতে হবে। কর্মশালায় রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার লক্ষ্যে ১৫টি প্রস্তুাব তুলে ধরে একটি প্রস্তাবিত জাতীয় সনদ উপস্থাপন করা হয়। এসময় নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনকালে অংশীজনদের ভূমিকা ও নির্বাচন পদ্ধতি, নবনির্বাচিত সরকারের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ, গঠনমূলকভাবে বিরোধীদলের ভূমিকা পালন, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূখী রাষ্ট্রগঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের জন্য বিনিয়োগ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির বাস্তবায়তন, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকট মোকাবেলা ও জাতীয় সনদ সমুন্নত রাখার কৌশলগত পদ্ধতি, পরামর্শ ও আইনগতভিত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








