রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় হাতকড়াসহ মাদক বিক্রেতা পালিয়ে যাওয়া ও হাতকড়া ফেরত দিতে এসে ছোট ভাইকে গ্রেফতারের ঘটনায় ইউনুস আলী ও রবিউল ইসলাম নামে ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বৈরাতি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজির হোসেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার মিঠাপুকুরে হাতকড়াসহ সুভাষ চন্দ্র দাস নামে একজন মাদকবিক্রেতা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপ পুলিশ পরিদর্শক ইউনুস আলী ও সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়। জানা যায়, গত বুধবার বিকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৈরাতি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পুলিশ পরিদর্শক ইউনুস আলী, সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্সগণ ২শত ৫০ গ্রাম গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ি সুভাষ চন্দ্র দাসকে (৪৫) গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুভাষকে নিয়ে ইমাদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর এলাকার দুলু মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গ্রেফতারকৃত সুভাষ চন্দ্র দাস হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়। বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পরে হাতকড়া ফেরৎ দেওয়ার জন্য সুভাষ চন্দ্র দাসের ছোটভাই সুশীল চন্দ্র দাস আসলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বৈরাতি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজির হোসেন বলেন, সুভাষ চন্দ্র দাসকে গ্রেফতারের চেস্টা চলছে।
নিষিদ্ধ গাইড বই হিমশিম খাচ্ছে অভিভাবকগণ
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই উচ্চ মূল্যে ক্রয়ে হিমশিম খাচ্ছে অভিভাবকগণ। রংপুরে প্রকাশ্যে বিক্রয় করা হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই। নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে আঁতাত করে এসব বই শিক্ষার্থীদের ক্রয় করতে বাধ্য করছে। শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বইয়ের লাইব্রেরিগুলো খোলামেলাভাবে চলছে এসব বইয়ের রমরমা ব্যবসা। এসব গাইড ও নোটবই না ক্রয় করে দিয়ে রেহাই পাচ্ছেন না কোনো অভিভাবক। এমনকি ধারদেনা কওে দিতে বাধ্য হচ্ছে অভিভাবকগণ। কারণ নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই ক্রয় করে দিতে না পারলে কিছু শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করছেন। সম্প্রতি কয়েকজন অভিভাবক এসব নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই বিক্রি বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেছেন। সচেতন অভিভাবকদের পক্ষে শালবন এলাকার আফতাবুজ্জামান ও ফারুক হোসেনের দেওয়া লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, রংপুর পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কর্তৃক নগরীর মনি লাইব্রেরি, মাহফুজা পুস্তকালয়, ফারুক লাইব্রেরি, বুকস ফেয়ার, হাবীব বই ঘর, জ্ঞানবিকাশ বই ঘর, আইডিয়াল লাইব্রেরি, ফ্রেডন্স লাইব্রেরিসহ রংপুর নগরী ও জেলার বিভিন্ন বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরিতে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই অবাধে বিক্রয় করা হচ্ছে। নোট ও গাইড বই বিক্রয়ের ফলে কোমলমতি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মূল বই পড়া বাদ দিয়ে নোট ও গাইড বইয়ের দিয়ে ঝুঁকে পড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, নোট ও গাইড বইয়ের প্রবণতা বাড়তে থাকায় দেশে শিক্ষার মান দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মূল বইয়ের সঙ্গে স¤পর্ক গড়ে তুলতে এসব নিষিদ্ধ বইয়ের কারবার বন্ধে অভিযান পরিচালনা জরুরি বলে মনে করছে তারা। একইসঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বাজার থেকে সকল নোট ও গাইড বই তুলে নেওয়ার জন্য সরকারের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। হযরত আলী নামে একজন অভিভাবক বলেন, গাইড বই প্রকাশনীর লোকজনের মুনাফা পেয়ে স্কুলের শিক্ষকরা সিলেবাসে নিষিদ্ধ গাইড বই তালিকাভুক্ত করেন। আর অভিভাবকরা চড়া দামে সেসব বই ত্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। রংপুর নগরীর বিভিন্ন বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন উপজেলার বইয়ের দোকানে দেখা যায়, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড ও নোটবই প্রকাশ্যে বিক্রয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাঞ্জারী, জুপিটার, গ্যালাক্সী, লেকচার, অনুপম প্রকাশনীর গাইড বই উল্লেখযোগ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রেসক্লাব বিপণী বিতান মার্কেটের এক বই বিক্রেতা বলেন, গাইড ও নোটবই শিক্ষার্থীদের উপকারে আসছে। গাইড ও নোট পড়ে না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যাবে না। সকল শিক্ষার্থী গাইড ও নোটবই চায়। আর দোষ হয় শুধু বিক্রেতাদের। রংপুর নগরীর প্রথম সারির একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন সিলেবাস ও শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীল পড়ালেখার পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা মূল বইয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হবে। তবে এখন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকই এ নতুন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না। এ কারণে কিছু কিছু বিদ্যালযের শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকাশনী গাইড ও নোটবইয়ের বিক্রয়ের সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাইড বইকে নিরুৎসাহিত করে আসছেন তারা। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রশ্নের কাঠামোতে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হলেও তা অনেকটাই আটকে আছে গাইড বইয়ে। যা কি না শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার ১৯৮০ সালে আইন করে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের নোটবই মুদ্রণ, বিতরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। এছাড়া উচ্চ আদালতের এক রায়ে গাইড ও নোটবই মুদ্রণ ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিধি লঙ্ঘন করে এসব বই বিক্রয় করলে সাজাসহ জরিমানারও বিধান রয়েছে। তবে এ আইনের তোয়াক্কা না করেই এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই বিক্রয় করছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানান, এনসিটিবি প্রতিটি শ্রেণির জন্য কিছু সহায়ক বই নির্ধারণ করে দিয়েছে। ওই বইগুলো পড়লে গাইড ও নোটবইয়ের দরকার হয় না। তা ছাড়া সরকারিভাবে গাইড বই নিষিদ্ধ। সরকার নির্ধারিত বই ছাড়া কোনো বই পাঠ্য না করতে তারা প্রতিটি শিক্ষককে সতর্ক করেছে। আর এ সংক্রান্ত আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা গাইড নির্ভর বলে মনে করেন তারা। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষার্থীদের জন্য মূল পাঠ্য পুস্তককে সহজবোধ্য করার পরামর্শ তাদের। সচেতন মহলসহ অভিভাবকরা বলেন, সরকার ১৯৮০ সালে সকল নোটবই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরপর ২০০৮ সালে সরকারের নির্বাহী আদেশে নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ করে আইন প্রকাশ করা হয়। ২০০৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ের মাধ্যমে সকল নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এত কিছুর পরও এক শ্রেণির ব্যবসায়ীগণ আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি অনুশীলনীমূলক বই নাম দিয়ে নোট ও গাইড বই অবাধে বিক্রি করে আসছে। ২০০৯ সালের রায়ে উল্লেখ করা হয়, যে কোনো বোর্ড বইয়ের রেফারেন্সে কোনো বই বের করলেই তা নোট ও গাইড বই বলে বিবেচিত হবে।








