রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: দিন যায় তবুও কথা থেকেই যায়। এক সময় জীবিকার তাগিদে পথে পথে ছুটে চলা সেই লেইস ফিতাওয়ালা হারিয়ে যাচ্ছে। লেইস ফিতাওয়ালারা প্রতিদিন লেইস ফিতা, রঙিন সুতা, রঙিন টিপ, হাতের রঙিন চুড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রয় করার জন্য ঘুরতেন। সেই লেইস ফিতাওয়ালাদের এখন আর আগের মতো দেখা মেলে না। আধুনিকতার যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে লেইস ফিতাওয়ালা। তবে মফস্বল বা গ্রামের পথে মাঝেমধ্যে দেখা যায় তাদের। আধুনিক সভ্যতা কেড়ে নিয়েছে সেই লেইস ফিতাওয়ালাদের বিচরণ। সচরাচর আর চোখে পড়ে না কাগজের কার্টুনের উপর সাদা বা লাল কাপড় পেঁচিয়ে পুটলি কাঁধে ঝুলিয়ে আরেক হাতে কাঁচের ঢাকনা ওয়ালা বক্স বহনকারী লেইস ফিতাওয়ালাদের। এক সময় দুপুরের পর যখন নারীরা মধ্যাহ্নভোজ ছেড়ে উঠানের আড্ডায় জন্য প্রস্তুত, তখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেন লেইস ফিতাওয়ালা। তাদের সে ডাক শুনে খুকুমণিরা বায়না ধরতো টিকা চুড়ি বা নেই-লপলিশের। খুকুমণিদের আবদারে মায়েরাও দেখতে ইচ্ছা করত কি আছে ফেরিওয়ালার বক্সে। এটা থেকে ওটা বরফ করে নারীরা ক্রয় করে নিতেন ক্রিম বা কদুর তেল, খুকুমনির কাঁধ ঝোলানো চুলে বেদে দেওয়া হতো লাল টুকটুকে ফিতা। এখন বক্স বন্দি ব্যবসার চেয়ে অনেকে দোকান খুলে কিংবা অন্য ব্যবসার দিকে ঝুঁকে গেছে। ফেরি করে লাভবান হওয়া যায় না বলে ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে। খুকুমনিরাও আর লাল ফিতার বায়না ধরে না। বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় লেইস ফিতাওয়ালা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন আর আগের মতো গ্রামে কেউ চুরি ফিতা ক্রয় করে না। মার্কেটে সব রকম প্রসাধনী সামগ্রী আর সাজাসজ্জর জিনিস পাওয়া যায়। এখন সবাই মার্কেটে যান তারপরও জাহাঙ্গীর আলমের কন্ঠে শোনা যায় লেস ফিতা, এই লেস ফিতার ডাক। গোপীনাথপুর এলাকার মরিয়ম বেগম বলেন, ছোটবেলার লেস ফিতাওয়ালাদের কাছ থেকে জিনিস কিনতাম এখন আর তাদের দেখা যায় না। সবাই একসঙ্গে এটা সেটা দেখে অনেক মজা করে চুড়ি-ফিতা নেইলপালিশ কিনতাম। আগের দিনগুলো সত্যিই অনেক মজার ছিল।







