রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: খাল-বিলে পানি নেই। পুকুরগুলোয় পানি থাকলেও মাছ চাষ করায় সেখানে পাট পঁচানো যাচ্ছে না। পানির অভাবে পাট পঁচাতে না পেরে বিপাকে পড়ে রংপুর অঞ্চলের কৃষকগণ। রংপুরের বিভাগের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকগণ শুধু পাট নিয়েই চরম বিপাকে পড়েনি, পানির অভাবে আমন ধানের চারা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে গেছে খাল-বিল। পানির অভাবে কৃষকরা পঁচাতে পারছে না পাট। জমিতে পাট কেটে ফেলে রেখেছেন। অপেক্ষা করছে বৃষ্টির পানিতে খাল-বিলে পানি হলে সেখানে পাট পঁচাবেন। কোন কোন কৃষক পাটকাঠির আশা ছেড়ে গাছ থেকে আঁশ তুলে স্বল্প পানিতে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতিতে পাট পঁচাচ্ছেন। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর এলাকার কৃষক আতাউর রহমান বলেন, গত বছর ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিপাকে পড়েছিলাম। এ বছর অর্ধেক জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিলে পানি নেই। পাট পঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। পাট কেটে জমিতেই ফেলে রাখা হয়েছে। কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিন দিন পাট চাষ কমে যাচ্ছে। পানির অভাবে সঠিকভাবে পাট পঁচাতে না পারলে উৎকৃষ্টমানের আঁশ পাওয়া যায় না। মিঠাপুকুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের কৃষক আফছার আলী বলেন, রিবন রেটিং পদ্ধতিতে স্বল্প পানিতে পাট পঁচানো যায়। তবে এতে পাটকাঠি নষ্ট হয়ে যায়। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির প্রয়োজন। বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। সময় মত যদি বৃষ্টি না হয় তবে রিবন রেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের রংপুর আঞ্চলিক কর্মকর্তা ড. আবু ফজল মোল¬া বলেন, খাল-বিলে পানি না থাকায় রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পঁচানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, অনেক পাট এখনও কাটার বাকি রয়েছে। বৃষ্টি হলে কৃষকদের সমস্যার সমাধান হবে। আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৩৫০-৪০০ মিলিমিটার। গত ২৫ দিনে ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়টাতে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩২-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। তবে গত ২৩ দিনে রংপুর বিভাগে ২৬ থেকে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর বিভাগে ২০২০ সালে জুলাইয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৮০৪ মিলিমিটার। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক শূন্য ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২১ সালে বৃষ্টি হয়েছিল ১৯৬ মিলিমিটার, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২২ সালে জুলাই মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। চলতি বছরের জুলাই মাসে বৃষ্টি ১৬৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা ২১ দিন ধরে স্বাভাবিকের থেকে তাপমাত্রা বেশি ছিল ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, গত জুনের বৃষ্টির তুলনায় জুলাইয়ে কম হয়েছে। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি না হলেও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








