রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: উজানের ঢল আর বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমরের পানি। প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন অন্তত ৫০ হাজার পরিবার। সঙ্কট দেখা দিয়েছে শুকনা খাবারের। তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, তিস্তার পানি লালমিনরহাটের তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে নয় সেন্টিমিটার, তালুকশিমুলবাড়ি পয়েন্টে ২১, এবং দুধকুমরের পানি কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের পানি কুড়িগ্রামের নুন খাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে, আত্রাই করতোয়া নদীর পানি দিনাজপুরের ভুষিরবন্দর, পূনর্ভবার পুলহাট, ফুলবাড়ি পয়েন্টে ইসামতি, করতোয়ার পানি পঞ্চগড়, টাঙ্গনের পানি ঠাঁকুরগাঁও পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ভারতের গাজলডোবা পয়েন্টে পানির লেভেল ছিল ১০৮ সেন্টিমিটার এবং দোয়ানী পয়েন্টে ৮৫ দশমিক ৯৬ সেন্টিমিটার। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি মেঘালয়েরর চেরাপুঞ্জিতে ২০০, নাচলের পাসিঘাটে ৫৩, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ১৩৩, শিলিগুড়িতে ১১০ এবং সিকিমের গ্যাংটক ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় উজান থেকে পানির ঢল নেমেছে। ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টের ৪৪টি কপাট খুলে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার নোহালী, কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, লক্ষিটারী, মর্নেয়া এবং গজঘণ্টা ইউনিয়ন, কাউনিয়ার বালাপাড়া, টেপামধুপুর, পীরগাছার তাম্বুলপুর, ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তা বেষ্টিত চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথা হাটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। চরের উঠতি পাটসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১৬ পরিবার। বন্যা কবলিত মানুষের জন্য শুকনা খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন বলেন, বন্যা এবং ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় কাজ করছি। মাঠ প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এবং বন্যা কবলিতদের তালিকা তৈরি করছে। শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে। এদিকে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, কালিগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী মানুষের অভিযোগ করেন, তারা ৪দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও কোনো ত্রান সহযোগিতা পায়নি। অন্যদিকে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ দিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক সতর্ক আছি। কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ৬টি উপজেলার দেড় শতাধিক চরের প্রায় ৮ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় প্লাবিতরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বাড়ির ভিতরে পানি উঠায় তারা ঠিকমতো রান্নাবান্না করতে পারছে না। স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে ভুগছে বন্যাকবলিত এসব পরিবার। দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট। ঘরবাড়িতে পানি উঠায় অনেকেই গবাদি পশু নিয়ে রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ ঘরের ভেতর চকি উঁচু করে অবস্থান নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, ইতোমধ্যে ৬৫ টন চাল উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৫৮৫ টন চাল, ১০ লক্ষ টাকা ও ১হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা ও ভাঙ্গন এলাকাসমুহ তদারকি করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তার বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। যখন যা প্রয়োজন হবে, তখন তা পৌঁছে দেয়া হবে। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলোর মানুষকে উচু স্থান এবং
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।







