রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুর চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো মা হয়েছে এক জলহস্তী। দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাচ্চা দিয়ে জলনূপুর মেতেছে আনন্দ উচ্ছ্বাসে। শাবকটির সঙ্গে কাদা পানিতে হাবুডুবি খেলায় সময় কাটছে মা জলনূপুর। দর্শনার্থীরা এমন দৃশ্য উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত। গত ৪ আগস্ট বৃহ¯পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শাবকটির জন্ম হয়। জলনুপুর ৮ মাস গর্ভধারণের পর প্রসব করে। জলহস্তীর শাবকটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে এটি স্ত্রী নাকি পুরুষ তা জানা সম্ভব হয়নি। রংপুর চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি পুরুষ জলহস্তী ছিল। যার নাম ছিল লিয়ন। ২১ বছরের বেশি সময় পর লিয়নের সঙ্গী হিসেবে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে জলহস্তী জলনূপুর (স্ত্রী) আর কালাপাহাড়কে (পুরুষ) এখানে আনা হয়। বয়স্ক লিয়ন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মারা যায়। এরপর থেকে জলবন্দি খাঁচায় কালাপাহাড় আর জলনূপুরের সুবন্ধন গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর তাদের ভালোবাসায় রংপুর চিড়িয়াখায় বাচ্চা জন্মের সুখবর দিলো জলনূপুর। ফলে রংপুরবাসী প্রথমবারের মতো জলহস্তীর শাবক দেখতে পান। রংপুর চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা রাজিয়া সুলতানা চায়না বলেন, আমার বাসার পাশেই চিড়িয়াখানা। দুপুরে শুনলাম জলহস্তী বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। দেরি না করে বাচ্চাটি দেখতে এসেছি। সঙ্গে আমার ছোট ছেলে এবং ভাগনে এসেছে। সবাই খুব খুশি। দেখে খুবই ভালো লাগছে। রংপুর চিড়িয়াখানার অফিসার এইচএম শাহাদাত বলেন, আমরা যখন বুঝতে পারলাম জলনূপুরের পেটে বাচ্চা এসেছে তখন থেকে বিশেষ পরিচর্জা শুরু করা হয়। দীর্ঘ ৮ মাসের প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চাটির ওজন ২৫ থেকে ৩০ কেজি হবে। বাচ্চাটি সুস্থ ও সবল রয়েছে। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. আমবার আলী তালুকদার বলেন, জলহস্তী জলনূপুর গর্ভধারণের পর থেকেই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ছিলাম। নিরাপদে বাচ্চা প্রসবের জন্য ইতোমধ্যে পুরুষ জলহস্তী কালাপাহাড়কে আলাদা করে রাখা হয়। কারণ বাচ্চা মেরে ফেলার প্রবণতা আছে পুরুষ জলহস্তীর। মা জলনূপুর সার্বক্ষণিক নজরদারি করে তার শাবকটিকে আগলে রাখছে। জলহস্তী জাতভেদে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। সংরক্ষিত জায়গায় আরও বেশি দিন বাঁচার নজির আছে। একটি করে বাচ্চার জন্ম দেয়। জলহস্তী তৃণভোজী। একবার ডুব দিয়ে পানির নিচে পাঁচ মিনিটের বেশি থাকতে পারে। বসতি মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন বনাঞ্চলে। ২০১৪ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানায় কালাপাহাড়ের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে সেখানেই ছিল। ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট কালাপাহাড়কে রংপুরে আনা হয়। সঙ্গী জলনূপুরকে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা থেকে আনা হয়েছে। দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুর একটি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ হুসেইন রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলেন রংপুর চিড়িয়াখানাটি। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৯২ সালে খুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটিতে ৩২ প্রজাতির প্রাণি রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, হরিণ, অজগর সাপ, ইমু, উটপাখি, বানর, কেশওয়ারি, গাধা, ঘোড়া, ভাাল্লুক উল্লেখযোগ্য।
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...








