রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: এক সময়ের মঙ্গা কবলিত রংপুর বিভাগে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানির জন্য গবাদিপ্রাণি পালনে নিরব বিপ্লব ঘটেছে। দুই বছর আগে রংপুর বিভাগে কোরবানি যোগ্য গরু-খাসি ছিল প্রায় ১৫ লক্ষ। দুই বছরের ব্যবধানে তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে গবাদি প্রাণির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার রংপুর বিভাগের আট জেলায় কোরবানির প্রাণি চাহিদা রয়েছে ১৪ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭টি। চাহিদার বিপরীতে ২০ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৭টি প্রাণি কোরবানি জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদা ভিত্তিতে খামারি ও কৃষকদের প্রস্তুত কোরবানির প্রাণি বিভাগের চাহিদা মিটানোর পরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪১০টি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব প্রাণি দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খামারিদের আশা, এবার ভারত থেকে গরু না এলে তারা লাভবান হবে। ভালো দামের আশায় খামারিরা কোরবানির বাজার ধরার জন্য এখান থেকেই প্রাণিগুলো যতœ নিচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যলয় সুত্রে জানা যায়, ঈদুল আযহায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১৪ লক্ষাধিক কোরবানির প্রাণির চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগের ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন ছোট বড় খামারির মাধ্যমে ২০ লক্ষাধিক গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা, ভেড়াসহ কোরবানির প্রাণি প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। বিভাগের আট জেলায় মোট চাহিদার চেয়ে বেশি থাককে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ। কোরবানির প্রাণি বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ খামারি সাড়ে ৮ লক্ষাধিক গরু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া ২ লক্ষাধিক গৃহস্থলে কৃষকরা প্রায় ১০ লক্ষ গরু-খাসি বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর মধ্যে রংপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩৩ হাজার খামারে প্রায় চার লক্ষ গরু রয়েছে। রংপুর জেলায় কোরবানির প্রাণির চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া দুই লক্ষাধিক, সেখানে প্রস্তত করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৬৩ হাজারের বেশি। এই জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি। একইভাবে বিভাগের অন্যান্য জেলায় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির প্রাণি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত বছর পশু কোরবানি হয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ। এ বছর বিভাগে কোরবানির উপযুক্ত গরু খসি প্রস্তুত রয়েছে আরও সাড়ে ৫ লক্ষাধিক। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে তিন লক্ষাধিক । কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর জাতের গরু চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক মাস আগে খামারিরা এ ধরনের গরু স্বাস্থ্য সম্মতভাবে মোটা তাজাকরণ শুরু করেছেন। এদিকে কোরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গবাদি প্রাণির দরদাম করছেন। তবে গবাদি প্রাণির খাদ্যের দাম বাড়ায় গবাদি প্রাণি পরিপর্যায় এবার খরচও হয়েছে অনেক বেশি। সেই কারণে গত বারের তুলনায় এবার গরু-ছাগলের দামও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন খামারিরা। রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বলেন, রংপুর অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক গরু-ছাগল। এসব গরু-ছাগল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







