রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের আট জেলা ও রংপুর মহানগরে ৪৭টি মামলায় ৬৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে বিভাগের আট জেলায় ২৫টি মামলায় এ পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাথ্য ও ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মো.আব্দুল বাতেন। আজ ২৯ জুলাই সোমবার জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত রংপুর মহানগরীর ২২ মামলাসহ বিভাগের আট জেলার ৪৭টি মামলায় ৬৭৫ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার দুপুরে ডিআইজি বাতেন বলেন, গাইবান্ধায় চার মামলায় ১১৪, লালমনিরহাটে দুই মামলায় ২৭, নীলফামারীতে চার মামলায় ৬৫, দিনাজপুরে সাত মামলায় ৭৯, ঠাকুরগাঁওয়ে চার মামলায় ৩৪, পঞ্চগড়ে তিন মামলায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও রংপুর জেলা পুলিশ মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করলেও কুড়িগ্রাম জেলার থানাগুলোতে কোটা সংস্কার নিয়ে কোন মামলা হয়নি। তবে মামলা না হলেও রংপুরে ৬৪ ও কুড়িগ্রামে ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। যারা অন্য জায়গায় নাশকতার সাথে জড়িত। তিনি আরও বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে মানুষের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে স¤পদের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর ও সৈয়দপুরে। বিভিন্ন অফিস আদালত ভাংচুর করেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলায় যারা নাশকতা করেছে অগ্নিসংযোগ করেছে। স¤পদ বিনস্ট করেছে। তাদেরকে আইডেনটিফাই করে যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে। যারা নাশকতায় অংশগ্রহণ করেছে, ভাংচুরে অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের যার যার অপরাধ অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, তদন্ত ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আমরা এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি যে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি এখানে ইনভল্ড হবে সেটা আমরা করব না। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যারা অভিযুক্ত হবে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। পেশাদারিত্ব ও বিধি ফলো করে আমরা সব কার্যক্রম করছি। এদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় গত ১০ দিনে ২২ মামলায় সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগের আট জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় গ্রেফতার করা হলো ৬৭৫ জনকে। রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বলেন, ২২টি মামলায় ২৮ জুলাই রবিবার সকাল ৮টা থকে ২৯ জুলাই সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬নংওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ স¤পাদক মো. রেজওয়ানুর রহমান রহমান রোমান এবং সারাই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক স¤পাদক আলমগীর হোসেনসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে মহানগরীতে গ্রেফতার করা হলো ১৮৬ জন। অন্যদিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, একই সময়ে শরীফ নওয়াজ জোহাসহ ২জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা গ্রেফতার করা হলো ৬৪ জন।
রংপুরে অস্বচ্ছল ব্যক্তির মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: দেশের সংকটময় মুহূর্তে খেটে খাওয়া অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে যুবলীগ। আজ ২৯ জুলাই সোমবার দুপুরে রংপুর জেলা যুবলীগ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের মাঝে এ খাবার বিতরণ করা হয়। জেলা যুবলীগের সভাপতি লহ্মীন চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ স¤পাদক মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মাজেদ আলী বাবুল, অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ, শেখ মীর, শরিফুজ্জামান শিপন, কামরুজ্জামান শাহীন, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক আশিকুর রহমান সোহেল, শেখ মাহবুব নাসের টুটুল, সাংগঠনিক স¤পাদক শামীম সর্দার, নাহিদ হাসান লিটন, প্রচার স¤পাদক কামরুজ্জামান লিটনসহ নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: কারফিউ শিথিলের মধ্যেই আজ ২৯ জুলাই সোমবার দুপুর থেকে রংপুর মহানগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সেনাবাহিনী বিজিবি ও পুলিশের টহল। বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। পুলিশ জানিয়েছে জীবন ও স¤পদ রক্ষায় এই বাড়তি সতর্কতা। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি কার্ডে ঘোষণা দেয়া হয় জিলা স্কুলের মেইন গেটের সামন থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করবে। মূলত ওই ঘোষণা সামনে আসার পর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে নগরীতে নিরাপত্তা জোড়দার করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়, চেক পোস্ট, লালকুঠি মোড়, ডিসির বাংলোর সামনে, পায়রা চত্ত্বর, শাপলা চত্ত্বর, মেডিক্যাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোথাও বেঞ্চ দিয়ে আবার কোথাও ডিভাইডার দিয়ে। তল্লাশি চৌকির সামনে থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয় কারফিউ শিথিলে নগরীতে প্রবেশকারী মোটরসাইকেল, সাইকেল, রিকশা , ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকসহ ধরনের যানবহান। ডিসির মোড় থেকে নগর ভবন পর্যন্ত পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের টহল এবং মহড়া বাড়ানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল চত্ত্বর ও জিলা স্কুলের সামনে সেনাবাহিনী তাদের সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান করে। এর আশেপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক বিজিবিও অবস্থান নেন। আশেপাশের সব সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিয়েছে। সেখানে একধরণের রণ প্রস্তুতি দেখা যায়। তবে বিকাল পৌনে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ওই এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের জড়ো হতে দেখা যায়নি। এদিকে কারফিউ শিথিল থাকায় নগরীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অনেক মানুষ ও যানবাহন ঢুকেছিল নগরীতে। হঠাৎ করে কড়াকাড়ি হওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়ে যান। তল্লাশি চৌতিকে পড়ে অনেকেই যানবাহন ছেড়ে দিয়ে হেঁটেই নগরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছুটতে দেখা গেছে নানা বয়সী নারী-পুরুষকে। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেন কেউ অনুপ্রবেশ করে নগরবাসীর জীবন, মালামাল ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ধংসাত্নক কর্মকান্ড চালাতে না পারে সেজন্যই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবারো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে যানবাহন চলাচল।
রংপুর বিভাগে ৪৭ মামলায় গ্রেফতার ৬৭৫
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের আট জেলা ও রংপুর মহানগরে ৪৭টি মামলায় ৬৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে বিভাগের আট জেলায় ২৫টি মামলায় এ পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাথ্য ও ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মো.আব্দুল বাতেন। আজ ২৯ জুলাই সোমবার জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত রংপুর মহানগরীর ২২ মামলাসহ বিভাগের আট জেলার ৪৭টি মামলায় ৬৭৫ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার দুপুরে ডিআইজি বাতেন বলেন, গাইবান্ধায় চার মামলায় ১১৪, লালমনিরহাটে দুই মামলায় ২৭, নীলফামারীতে চার মামলায় ৬৫, দিনাজপুরে সাত মামলায় ৭৯, ঠাকুরগাঁওয়ে চার মামলায় ৩৪, পঞ্চগড়ে তিন মামলায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও রংপুর জেলা পুলিশ মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করলেও কুড়িগ্রাম জেলার থানাগুলোতে কোটা সংস্কার নিয়ে কোন মামলা হয়নি। তবে মামলা না হলেও রংপুরে ৬৪ ও কুড়িগ্রামে ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। যারা অন্য জায়গায় নাশকতার সাথে জড়িত। তিনি আরও বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে মানুষের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে স¤পদের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর ও সৈয়দপুরে। বিভিন্ন অফিস আদালত ভাংচুর করেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলায় যারা নাশকতা করেছে অগ্নিসংযোগ করেছে। স¤পদ বিনস্ট করেছে। তাদেরকে আইডেনটিফাই করে যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে। যারা নাশকতায় অংশগ্রহণ করেছে, ভাংচুরে অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের যার যার অপরাধ অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, তদন্ত ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আমরা এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি যে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি এখানে ইনভল্ড হবে সেটা আমরা করব না। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যারা অভিযুক্ত হবে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। পেশাদারিত্ব ও বিধি ফলো করে আমরা সব কার্যক্রম করছি। এদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় গত ১০ দিনে ২২ মামলায় সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগের আট জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় গ্রেফতার করা হলো ৬৭৫ জনকে। রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বলেন, ২২টি মামলায় ২৮ জুলাই রবিবার সকাল ৮টা থকে ২৯ জুলাই সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬নংওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ স¤পাদক মো. রেজওয়ানুর রহমান রহমান রোমান এবং সারাই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক স¤পাদক আলমগীর হোসেনসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে মহানগরীতে গ্রেফতার করা হলো ১৮৬ জন। অন্যদিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, একই সময়ে শরীফ নওয়াজ জোহাসহ ২জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা গ্রেফতার করা হলো ৬৪ জন।







