রংপুর ব্যুরো: রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে খোঁচা দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন একই দলের বহিষ্কৃত সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তার জবাবে জিএম কাদের বলেন, “আমি মনে করি যে আমার সৌভাগ্য এমন একজন মানুষ আমার প্রতিদ্বন্দ্বি।”
রাঙ্গার এই কথার জবাবে তিনি বলেন, “উনার (তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী) আরও উত্তরোত্তর মঙ্গল হোক। আমি উনার ভালো কামনা করি। আমার যদি সুযোগ থাকত আমি উনাকে প্রমোট করতাম। উনি যাতে আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারেন, এজন্য আমি তাকে সহযোগিতা করবো। ভবিষ্যতে উনি যদি থাকেন এবং আমি যদি তাকে পাই উনি যেন আরও উপরে উঠতে পারে রাজনীতিতে তার জন্য সহযোগীতা করবো।”
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে চেম্বার ভবনে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে রাঙ্গার বিষয়ে অবগত করে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনীতি এবং উন্নয়ন বরাদ্দে রংপুর অঞ্চল বিভিন্নভাবে বৈষম্য ও বঞ্ছনার শিকার দাবি করে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, উত্তরবঙ্গ বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার। আমাদের জাতীয় পার্টি মোটামুটি একটা উত্তরবঙ্গের দল। হয়ত সেই কারণেও বিভিন্নভাবে বঞ্ছনার শিকার। রংপুর সিটি কর্পোরেশন আয়তনের দিক থেকে বিশাল। কিন্তু এখানে বরাদ্দ খুব সামান্য দেওয়া হয়। এটাও উত্তরবঙ্গের প্রতি একটা বৈষম্য, বিশেষ করে রংপুর বিভাগের প্রতি। আরেকটা বৈষম্য জাতীয় পার্টির প্রতি।
সিটি মেয়র মোস্তফা (মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা) পর পর দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও তাকে সাধারণভাবে কোনো পদমর্যাদা দেওয়া হয়নি। এটাও এক ধরনের বঞ্চনা-বৈষম্য। এ ব্যাপারে আমরা সংসদে কথাও বলেছি, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি বলেও জানান জিএম কাদের।
দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব এলাকায় ব্যক্তিগত কাজে আসেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় জিএম কাদেরকে জড়িয়ে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীকে কটাক্ষের ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বরং প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, সব মানুষই আল্লাহর সৃষ্টি। সুতরাং কে কি নিয়ে জন্মগ্রহণ করল এটাও কোনো বিষয় নয়। একটা মানুষের কর্মে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায় সেটা যে মানুষই হোক। অনেক জায়গায় মেয়ে মানুষ এমপি নির্বাচিত হয়ে এসেছে। আমি রংপুরের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ ব্যাপারে আমি করজোড়ে মাফ চাই।
পথসভায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিএম কাদের সাহেব আমার চেয়ারম্যান ছিলেন, আমি ওনার মহাসচিব ছিলাম। উনি আমাকে তা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আমি অব্যাহতিপ্রাপ্ত একজন মানুষ হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছি। সেকারণে আমার নির্বাচনী এলাকা বা রংপুরে লাঙ্গলের গ্রহণযোগ্যতা কমেনি। লাঙ্গল একটা প্রতীক মাত্র, এটার কোনো দোষ নেই। লাঙ্গলকে যে পরিচালনা করবে, তার দোষ থাকলে থাকতে পারে। তাদের কোনো দোষ থাকলে রংপুরের মানুষ সেটা বিবেচনা করবে।







