রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার এলাকায় অবস্থিত পাটোয়ারী স্টোর। মূল সড়কে নয়, গলির ভেতর দোকানটির অবস্থান। মুদিদোকান হলেও এখানে পাওয়া যায় সবজি, মাছ ও মাংসসহ ফলমূল। তবে অন্যসব দোকানের চেয়ে পাটোয়ারী স্টোরে ক্রেতারা কেনাকাটা করতে পারেন অবিশ্বাস্য কম দামে!
এ মুদির দোকানে মানুষরা তার সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারেন। দোকানের সামনে আলাদা একটি টেবিলে সাজিয়ে রাখা আছে সেসব পণ্য। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ৫ টাকার সয়াবিন তেল, ১০ টাকায় গরুর মাংস, ২৫ টাকায় ইলিশ মাছ ও ২ টাকায় লবণ পাওয়া যায় এই মুদির দোকানে।
পাটোয়ারী স্টোরের মালিক মালিক শাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো জিনিসের দাম বাড়তে পারে কিন্তু কেউ যদি তার সাধ্যমতো কিনতে চায় তবে কিন্তু তার পরিমাপ আছে। অনেকদিন ধরে ব্যবসা করে আমি অনুভব করি, মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায় বোধ করে মুদিদোকানে এলে। তারা চাইলেই পারে না তাদের চাহিদামতো জিনিস কেনাকাটা করতে। তাই সেখান থেকেই আমার চিন্তাধারাটা এমন ছিল জিনিসের দাম যতই বাড়ুক, অল্প পরিমাণে হলেও যদি আমি ওজন মেপে ক্রেতাকে দিতে পারি তাহলে তার পরিপূর্ণ তৃপ্তি না হলেও স্বাদ কিন্তু নিতে পারবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহাদাত হোসেনের পাটোয়ারী স্টোরে আধা কেজি চালের প্যাকেট পাওয়া যায়। ৫ পিছ পেঁয়াজ, বড় দুই কোয়া রসুন আর এক টুকরো আদা এক প্যাকেটে বিক্রি করেন ১০ টাকায়। এছাড়া ছয় রকমের ডাল দিয়ে আছে ৩০ টাকার প্যাকেট। যার সঙ্গে চাল মিশিয়ে রান্না করা যাবে খিচুড়ি। ছোট শিশুদের জন্য চাল, ডাল আর মসলা একসঙ্গে প্যাকেট পাওয়া যায়, যা বাসায় নিয়ে সরাসরি রান্না করে খাওয়ানো যাবে।
পাটোয়ারী স্টোরে দেখা গেছে, যেকোনো সময়ই ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে। সাধ্য অনুযায়ী অল্প টাকায় দামী নিত্যপণ্য পাওয়া যায় বলে অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা পাটোয়ারী স্টোরে আসেন।
দোকানের মালিক শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, আমি চিন্তা করি, যদি অল্প করে বিক্রি করি তাহলে মানুষ তাদের সাধ্যের মধ্যে একদিন রুই মাছ, একদিন ইলিশ মাছ আবার একদিন চিংড়ি মাছ, কোনো দিন গরুর মাংস, কোনো দিন মুরগির মাংস খাইতে পারে। এতে কারও মাঝে কোনো আফসোস থাকে না।’
পাটোয়ারী স্টোরের সামনে শক্ত কাগজের ওপর হাতে লেখা আছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। কোথাও লেখা, প্রয়োজন যতটুকু, কিনবেন ততটুকু। শাহাদাত হোসেনের দোকানটি এলাকার শিশুদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। কারণ, এ দোকান থেকে মাত্র ৫ টাকায় পাওয়া যায় নানা ঠান্ডা পানীয়। যেগুলো অন্য সব দোকানে লিটার বোতলে বিক্রি হয়।
এদিকে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে নানা ফল দোকানে তুলেছেন শাহাদাত। তার দোকানে পুরো একটি মাল্টার দাম ৩০-৩৫ টাকা আর প্রতি টুকরা কাটা মাল্টা বিক্রি হয় ৫ টাকায়। তবে কাটা কমলার টুকরা, বরই, আঙুর, কাটা মাল্টা এক প্যাকেটে ‘মিক্স ফ্রুট’ হিসেবে বিক্রি করেন তিনি। দাম ৫ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে।








