আমাদের এই দেশটি সবুজ সুন্দর শ্যমল সোনালী রোদে ভরা। মাঠে কৃষক ফসল তোলে মাঝি নৌকা বায় নদীতে। কিন্তু এই মাঝি এই কৃষক কি জানে? তার জন্য আগামী কাল কি অপেক্ষা করছে? জানে না, সে জানে না তার জমিতে সে ফসল ফলাতে পারবে কি না! সে জানে না এই নদী একদিন ফুলে উঠবে রাক্ষুসের মত ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে নিয়ে যাবে তাদের সর্বস্ব। হ্যাঁ আমি যা বলছি তাই হয়েছে।
আমাদের বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা এই রকমই, ২০২৪ সাল আমাদের জন্য ঠিক এমটিই বয়ে নিয়ে এসেছিল বাংলার ঘরে ঘরে, আমাদের দেশটা চলছিল ঠিক মতই কোথা থেকে যেন এক রাক্ষস এসে আমাদের দেশের সব ঘরকে লন্ড ভন্ড করে শেষ করে দিল। দেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক, সাষ্কৃতিক, সামাজিক মূল্যবোধ কোন কিছুই আর বাকী রইলো না সব কিছুই ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। তাহলে কেন? কার দ্বারা? কাদের দ্বারা? প্রশ্নগুলো আর থেমে থাকছে না। কিন্তু কাউকে জিজ্ঞেস করতেও পারছি না, কাদের দ্বারা আমাদের এই সর্বনাশ। যা হোক পক্ষান্তরে আবির্ভাব হল নোবেল জয়ী এক জনের নাম, তিনি হলেন ড. ইউনুস। জুলাই আন্দোলনের কারীগরী দক্ষতা দেখেই মনে হয়েছিল ও তিনি! তিনি তো মানুষ কে কম ঋণ দিয়ে উচ্চ মূল্যে সুদ গননা করেন। যা হোক মানুষ আসা করে ছিল তাকে দিয়ে দেশের জন্য কিছু বয়ে আনবে, মানুষের আশা হল গুড়ে বালি, কিছু ছোকরা গুটি কয়েক বেশি নয় তারা কোটা মেধা আন্দোলন কইরা বাংলাদেশের যেই অধপতন ডেকে এনেছিল তা উনি নাকি ঠিক করবেন। তা তো হলোইনা উল্টো উনি এসেই উনার ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকির মামলাই সুধ শেষ করলেস না সাথে সাথে তার নীল নকশার বলি হল পুরো বাংলাদেশ। তাহলে আমাদের আগের সরকারের কি হইলো? তাকে তার ঘরেই থাকতে দিল না উল্টো তাকে দেশ ছাড়া করতে বাধ্য করল। হঠাৎ আমার রবিন্দ্র নাথের সেই দুই লাইনের কথা মনে পড়ে গেল, হায়রে সাত কোটি বাঙ্গালী রইল বাঙ্গালী হয়ে মানুষ হসনি। এই বেটা আসছে তার টাকা মারতে, আর বাঙ্গালী তাকে এমন যায়গায় স্থান দিল যে সেখানে আদিষ্ট হয়েই সে ফেরাউন হয়ে গেল।
এই বাঙ্গাল এর জম্নের ইতিহাসটা এমনই, নবাবী আমলেও তারা একই রকম ছিল, নিজেদের অধপতনটা তারা নিজেরাই ডেকে এনেছিল। একটি বৈধ শপথ নেয়া ও চলমান সরকারকে তারা হটিয়ে কিছু বাচ্ছা পোলাপাইনের কথায় এক ভিনদেশী আগুন্তুক কে ডেকে এনে এই বাংলার মানুষের ভাগ্য চলমান যত ধরনের প্রনোদনা ছিল সব বাদ দিয়ে জুলাইকে জাতির গর্ভান্তরিত সম্পদ হিসেবে ঘরে তুলে ছিল। এখন যেই অবস্থা বাংলাদেশের তা এক রকম বলতে পারেন এক জন জির্ণ রিক্সাওয়ালার অগ্নিঝরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ (ইউনুসের মায়েরে চুদি, দেশ টারে শেষ কইরা দিছে)।
নবাব সিরাজউদ্দোলার শাসন না দেখলেও তা গল্পে এবং পড়া লেখায় যা শিখলাম তা থেকে বোঝা যায় নবাব সিরাজউদ্দোলাকেও ঠিক এই ভাবেই হত্যা করে বাঙ্গালকে প্রায় দুইশত বছর গোলাম করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু যারা বাঙ্গালকে দাস বানিয়ে ছিল তাদেও কি পরিনতি হয়ে ছিল তা কি জুলাই গোদারা জানে? না জুলাই গোদারা এসেছিল বাংলার টাকা চুরি করার জন্য ক্ষমতা নিজ হাতে নিয়ে যা খুশি তা করে দেশকে একটি ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য, আর সেই আগুনে ঘি ঢেলে চলেছেন আমাদের দেশীয় কিছু অর্বাচিন সুশিল যারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ব্যাবহার করেছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের যার বেশিরভাই কোমলমতি ক্লাস ৬ থেকে ১১ পর্যন্ত। কারণ এরা যানে না ইতিহাস কি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম কি ভাবে হয়েছিল? তারা কি জানে কত মানুষের রক্তে সবুজ মাটির বুকে সূর্য লাল হয়েছিল? কত মা বোন এখনকার ঐ পাকিস্তানি ভাই দের হাতে সম্ভ্রম হারিয়ে ছিল? তারা কি জানে বাংলাদেশ ১দিন ২দিনে এই পর্যায়ে এসেছে না কি সময় নিয়ে বাংলাদেশ হয়েছিল?
পরিশেষে রাজনৈতিক নীল নকশার খেলা কখনও শেষ হয় নাই, খেলা চলমান, খেলা চলবে। মুক্তি যুদ্ধের খেলা চলবে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এই দেশের মাটি মানুষের দল, বাংলাদেশ এই আওয়ামীলীগকে জন্ম দেয় নি, বরং এই আওয়ামীলীগই বাংলাদেশ জন্ম দিয়েছে। আর জন্মদাতা কখনও হেরে যায় না। বাংলাদেশ তার অবস্থানেই থাকবে এবং যথাযথ ভাবে থাকবে। এসব আন্দোলন কারীরা যুগে যুগে আসবে আবার তাদের অস্তিত্তও বিলিন হয়ে যাবে, কিছু মানুষ আর কিছু মীরযাফর নামক পদার্থেরকরুণ নিকৃষ্ট পরিনতি হবে। দেখাযাক আমরাও দেখি সামনে কার খেলায় কি ভাবে চলে। অপেক্ষায় রইলাম।
প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন।এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।








