বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কার্যকরি কমিটির সদস্য ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আজমত উল্লা খানের রাজনৈতিক জীবন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
সব শেষ গত ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এই পরাজয়কেই তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি মনে করছেন অনেকে। তবে এবার এক প্রকার আনুষ্ঠানিক ভাবেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলেন তিনি।
রোববার (৪ জুন) আজমত উল্লা খানকে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২০’ এর ধারা ৭(১) ও ৭(২) অনুযায়ী এ নিয়োগ দিয়ে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য তিনি এ নিয়োগ পেয়েছেন।এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত অনুমোদিত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
এর মানে হচ্ছে, তিনি এই দায়েত্বে থাকাকালীন সময়ে অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
নির্বাচন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন আজমত উল্লা খান। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল তিনি গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নতুন দায়িত্বের বিষয়ে আজমত উল্লা খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৮ মার্চ সাক্ষাৎ করার সময় তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। আমার কারণে নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে, এমনটি তিনি মনে করেন না। তিনি আমাকে বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করে সৎ ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে দল পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তা সৎভাবে পালন করেছি। ভবিষ্যতে তিনি যে দায়িত্ব দেবেন, আমি তা পবিত্র আমানত মনে করে সঠিকভাবে পালন করব।’
উল্লেখ্য, ক্রমবিকাশমান গাজীপুর নগরীকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত, শিল্প ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নতুন এ সংস্থাটি গঠিত হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আদলে।
আজমত উল্লা খান ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা সদরের টঙ্গী ভরানে সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত ইউসুফ খান ও মাতা ফাতেমা খানম। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের প্রজ্ঞা, মেধা-মনন ও যোগ্যতা দিয়ে শিক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিমন্ডলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আসীন হয়েছেন। ১৯৬৯ সালে টঙ্গী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এর বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পৌর চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে স্থানীয় সরকারে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক বিশেষ পুরষ্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও দেশ মাতৃকার সংকটময় কালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিশেষ অবদান রাখেন।








