আজ ২৪ এপ্রিল-২০২৬, রানা প্লাজা হত্যাকান্ডের ১৩ বছর। শ্রমজীবি মানুষের শোকার্ত এই দিনে গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে সাভারে রানা প্লাজার সামনে অবস্থিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।
গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের সভাপতি সুলতানা বেগম এর নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস, সহ-সভাপতি সেলিনা হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদ উদ্দীন, যুগ্ম সম্পাদক রোজিনা আক্তার সুমি, প্রচার সম্পাদক মোঃ তাহেরুল ইসলাম, আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ ইউসুফ শেখ, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক নিলুফা, শিলা, নিলুফা, হাসিনা, মাসুদা এবং নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। তারা সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের ন্যায় বিচারর নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সংঘটিত রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৬ জন শ্রমিক নিহত এবং ২,৪৩৮ জন শ্রমিক আহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ শ্রমিক। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন উপযুক্ত চিকিৎসা এবং ন্যায্য বিচার পাননি। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিক নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পথে নানামুখী বাধার কারণে তারা তাদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে নি। শুধু রানা প্লাজার ঘটনা নয়, অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রেও বারবার দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে, যার মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও ব্যর্থ। রাষ্ট্র এই ক্ষেত্রে তার দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।
বক্তার আরও বলেন, এই সমস্ত দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এখনো উপযুক্ত শাস্তি পাননি, যা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়েছে। শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তার মান উন্নয়ন এবং সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। মালিকপক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত না হওয়ার ফলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবির জন্য রাস্তায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। আগামী দিনে শ্রমিক নিরাপত্তা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সংহতি, সচেতনতা এবং সক্রিয় উদ্যোগ অপরিহার্য, যাতে শ্রমিকেরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারে এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা যায়। সকল শিল্প দুর্ঘটনার বিচার, যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হলে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। একই সঙ্গে কার্যকর নজরদারি, আইন প্রয়োগের শক্তিশালী ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







