রিজিকেরমতো বিশুদ্ধ প্রতিশ্রুতি দ্বিতীয়টি হয় না। যা নসিবে নেই, তা হাজার চেষ্টা করলেও পাবেন না। যা ভাগ্যে আছে, তা তাড়িয়েদিলেও ছেড়ে যাবে না। আমরা আশা করতে পারি, বড়জোর চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু কোনো কিছু ছিনিয়ে এনে তা ধরে রাখতে পারি না। কত কত সুযোগ আমাদের নাকের ডগা দিয়ে হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রত্যাশা ছাড়াও কত কতসুখবর আমাদের দরজায় দাঁড়ায়। আমি যা পেয়েছি, সে-সব কিছুর যোগ্য আমি? যা পাইনি, সে-সবেই আমার মঙ্গল ছিল—সে কথা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি?
কিছু না পেলেই যাতে ভেঙে না পড়ি, বিষণ্ন না হই। আমার কীসে মঙ্গল আর কীসে ক্ষতি, সেটা আমার চেয়ে আমার মওলা ভালো জানেন। এই বিশ্বাসে স্থির থাকাই ঈমান। আপনি ইচ্ছা করলে এই বিশ্বাস রক্ষা নাও করতে পারেন। তাতেও আপনার যা না পাওয়ার, তা পাবেন না আর যা পাওয়ার, তা এড়াতে পারবেন না। মধ্যখান থেকে ঈমান হারা হবেন এবং স্রষ্টা আপনার কীর্তিকলাপে অসন্তুষ্ট হবেন।
আপনার দৃষ্টিতে অনেক অযোগ্য লোক উচ্চপদে আবার অনেক যোগ্য লোক বঞ্চিত। এখানে আপনি খুঁত ধরতে পারেন, বৈষম্য দেখতে পারেন। কিন্তু কে কোন পরীক্ষায় আছে, সেটা আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। কত শক্তিশালী ক্ষমতার চেয়ারে বসা ছিল, কত অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছিল, অথচ জিল্লতির জীবন পদে পদেঅসম্মানিত করছে। অন্যদিকে, একজন মজলুম স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সুখে সংসার করছে। আপনি কোনটিকে শ্রেষ্ঠ বলবেন? যদি লোভী হন, দুনিয়ার বড়শিগিলে থাকেন, তবে আপনার দ্বারা ভোগের পক্ষেই ভোট পড়বে। অথচ ত্যাগ করেও অনেকে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেয়েছে।
সম্মানিত এবং অসম্মানিত করার এখতিয়ার একমাত্র মওলার। আমরা সবকিছু কেবল দুনিয়ার সীমানায় বিচার করতে চাই। অথচ ইহলৌকিক জীবনের পরে আরেকটাচিরস্থায়ী পারলৌকিক জীবনে বিশ্বাসীদের প্রবেশ করতে হবে। সেখানে এইখানের কথা ও কাজের, আমানত ও দায়িত্বের কৈফিয়ত দিতে হবে। না পাওয়া মানেই আফসোস নয়, বরং বেশিকিছু পাওয়ার গ্রাউন্ড সৃষ্টি করা। যে বান্দা একটি গোলাপ না পেয়ে হতাশ হয়, কী জানি, হয়তো রহমান তার জন্য গোলাপের বাগান রেখেছেন।
জীবন পরীক্ষা। কেউ প্রভু হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছে, আবার কেউ-বা দাস হিসেবে। যার পরীক্ষা, তাকেই কৃতকার্য হতে হবে। সময় সার্কেলে আবর্তন করছে। দুঃখ আছে বলেই সুখের এত মূল্য। হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। যারা আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে উপনীত হয়েছে, তাদেরকে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। খোদা বাহ্যিকতায় বিশ্বাসী নন। তিনি বান্দার অন্তর দেখেন। তিনি যাকে ইচ্ছা, বেহিসাবি ও বেশুমার দিতে পারেন। যাকে ইচ্ছা, তার থেকে সম্মান ও সম্পদ কেড়ে নিতে পারেন। আমরা চাই এবং চেষ্টা করি। ফয়সালা করার মালিক আমাদের প্রতিপালক।
রিজিকেঅন্যায্যতার ঠাঁই নেই। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যেটা অসংগতি দেখি, সেটারও অভ্যন্তরীণ যুক্তি আছে। যারা অল্পতে ভেঙে পড়ে, হতাশ হয় এবং ভাগ্যকে দোষারোপ করে, স্রষ্টাও তাদের ওপর থেকে রহমউঠিয়ে নেন। অথচ যারা প্রভুকে জিম্মাদারবানিয়েছে, খোদা দুই জগতের সমন্বয়ে তাদেরকে সম্মানিত ও সন্তুষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আকাশকুসুম কল্পনা, অবাস্তব চাওয়া মানুষের মনের শান্তি নষ্ট করে এবং নসিবে যা আছে, সেটার বরকতও কমিয়ে দেয়। রিজিক রবের বিশুদ্ধ প্রতিশ্রুতি। কাজেই তাঁর নিয়ম ও পরিকল্পনার মাঝেই যেন থাকি। যা আমার জন্য কল্যাণ, শুধুই তাই যেন হয় আমার—এই হোক প্রার্থনা।
রাজুআহমেদ, প্রাবন্ধিক।
Raju69alive@gmail.com








