মোঃ কামাল উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদাতা
যে ঠাণ্ডা, নদীর পাড়ে না আসলে বুঝতেন না ঠাণ্ডা কারে কয়। কয়দিন থাকি খুব কষ্ট করি থাকতেছি। সরকারের কম্বল পাইছি অন আরামে থাকতে পারমু।’ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে কম্বল পেয়ে এভাবে নিজের অনুভূতি জানান উপজেলার চররমণী মোহন ইউনিয়নের মেঘনা নদী পাড়ের কর্মজীবী নারী আমেনা বেগম (৪৫)। শুধু আমেনা বেগম নয়, তার মতো শীতে কষ্ট পাওয়া মেঘনা নদী পাড়ের প্রায় দুই শত নর-নারী সরকারি সহায়তা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাদের কথায় ও আচরণে স্বস্তির ছাপ।
আমেনা বেগমের মতো চলমান শীত মৌসুমে কনকনে ঠাণ্ডায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপকূলীয় জেলালক্ষ্মীপুরের লাখোমানুষ। বিশেষ করে, নদী তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি বর্ণানাতীত। শীতবস্ত্র অভাবে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। এ অবস্থায় চরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের পাশে শীতবস্ত্র সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসন।
সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার মূল ভূ-খণ্ডসহ চরাঞ্চলের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন চরাঞ্চল, সরকারি আশ্রায়ণ প্রকল্প, হাট-বাজারে শীতবস্ত্র হস্তান্তর করা হচ্ছে।
সদরের চররমণী মোহন, মহাদেবপুর, কুশাখালী, চরশাহী, উত্তর হামছাদী, আঁধার মানিক, দালাল বাজার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শীতবস্ত্র সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিয়ন গুলো ছাড়াও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও শীতার্তদের সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মকবুল হোসেন শীত শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন অসহায় এসব শীতার্ত মানুষকে সরকারি সহয়তা শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করে আসছেন।
উপজেলার চররমণী মোহন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ইউনিয়নটির মেঘনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের কয়েকশ মানুষকে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দেওয়া হয়েছে।
চররমণী মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জানান, মেঘনা নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়ের মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনে পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। মেঘনা নদীর চরাঞ্চলের এই এলাকার শীতার্ত মানুষ কম্বল পেয়ে সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
দালাল বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান সোহেল জানান, কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে ইউএনও স্যার প্রায় দুইশ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, শীতে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া কম্বল গুলো বিতরণ চলমান রয়েছে। আমরা গ্রামের শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছানো নিশ্চিত করছি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলের শীতের তীব্রতা শহরাঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য আমরা চরাঞ্চলের শীতবস্ত্র সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। এমনকি সরকারি ছুটির দিনেও সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। শীতার্তদের কষ্ট লাঘবে সরকারের প্রচেষ্টার কমতি নেই। বরাদ্দ পাওয়া শীতবস্ত্র (কম্বল) প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।
Post Views: 274
Related