লক্ষ্মীপুর মাদকে সয়লাব, বাড়ছে অপরাধের মাত্রা ।।
মোঃ কামাল উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদাতা ঃ
লক্ষ্মীপুরে মাদকের সহজলভ্যতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে অপরাধ। মাদকাসক্তদের হাতে গত চার মাসে অন্তত সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে পুলিশ বলছে, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই গ্রেফতার হয়েছে। মাদক নিরাময়ে নিয়মিত বিশেষ অভিযান সহ সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের ব্যবহারে নেশায় ডুবছে টগবগে তারুণ সমাজ। মাদক আসক্তির কারণে ঘটছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও।
গত ১৪ জানুয়ারি সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে মাদক সেবনের টাকা না দেওয়ায় কাউছার হোসেন তার মা কিরণ বেগমকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, কাউছার মাদকসেবী। মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তিনি।
এছাড়াও গতবছরের ২৮ ডিসেম্বর সদর উপজেলার উত্তর টুমচর গ্রামে রডের আঘাতে জাহাঙ্গীর আলম নামের একজনের মৃত্যু হয়। হামলাকারী ছোট ভাই মাহফুজ আলম মাদকাসক্ত ছিলেন। মামলার পর মাহফুজ আলমকে গ্রেফতার করে র্যাব।
এরআগে ২৮ নভেম্বর সদর উপজেলার বশিকপুরে কামাল হোসেন নামে এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার ঘুমন্ত স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে দরজা বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে আগুনে পুড়ে দুই শিশু ও তার স্ত্রী মারা যান। কামাল হোসেন পেশায় অটোরিকশা চালক।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রামগতির চরকলা কোপা গ্রামে স্ত্রী-শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা ও শাশুড়িকে রক্তাক্ত করেন মাদকাসক্ত জামাতা জাকির হোসেন।
মাদকের কারনে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। মাদক সেবন কারীদের সাথে সাথে যারা মাদক বিক্রির সাথে জড়িত তাদেরও আইনেও আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ মাদক ব্যবসায়ী ও আসক্তরা গ্রেফতার হচ্ছেন। জামিনে বেরিয়ে আবারও পুরনো জগতে জড়িয়ে পড়েন মাদক ব্যবাসায়ীরা।
মাদক নিরাময়ে পুলিশের কিছু তৎপরতা থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস শুধু নিয়ম রক্ষার অভিযান পরিচালনা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল আলমকে কয়েকবার খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রাসেল মাহামুদ মান্না বলেন, লক্ষ্মীপুরের পাড়াগাঁয়ে সহজে মাদক দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে। যুব সমাজসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এর সাথে জড়িয়ে পড়েছে। যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অশনী সংকেত। এ পরিস্থিতির উত্তরণ হওয়া দরকার। অথচ পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তর-অধিদপ্তরের আশানুরূপ কোন অ্যাকশন না থাকায় মাদকের ভয়াল থাবা মুক্ত হচ্ছে না লক্ষ্মীপুর। এসব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কথা উঠালেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসা মাদক দ্রব্যে সয়লাব হয়ে আছে লক্ষ্মীপুর। পুলিশের কিছু নিয়ম রক্ষার অভিযানে হাতেগোনা কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা ধরা পড়লেও এর সাথে জড়িত মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া যারা ধরা পড়ে জেলে যাচ্ছে তারাও বিভিন্ন তদবিরে অল্প দিনেই জামিনে বেরিয়ে আসছেন। ফলে দিন দিন মাদকের জাল আরও বিস্তার লাভ করছে।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা হাসান স্বপন জানান, গত কয়েকমাসে হত্যাকাণ্ডসহ যে কয়টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে সেসব ঘটনার মূলে মাদকের সম্পৃক্ততা অনেকাংশে দায়ী। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বেশিরভাগই গ্রেফতার হয়েছেন। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। মাদক উদ্ধার ও বিক্রেতাদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সভাপতি মো.কামাল হোসেন বলেন,মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি জনসচেনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Post Views: 197







