গতকাল ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সাথে তথাকথিত কিছু সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাতের ঘটনায় আমি, কবি ও সংস্কৃতি কর্মী আবু জুবায়ের, গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, জাতীয়তাবাদী শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আজ এমন সব ব্যক্তিদের বরণ করে নেওয়া হচ্ছে, যারা বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে প্রত্যক্ষভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্র হননে লিপ্ত ছিল।
সাক্ষাৎ করতে যাওয়া এই প্রতিনিধি দলের প্রত্যেক সদস্যই কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভক্ত কিংবা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের উচ্ছিষ্টভোগী। এদের মধ্যে অন্যতম শ্যামল জাকারিয়া, যিনি কুখ্যাত ‘ইমডেনিটি’ মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বিকৃত ও জঘন্যভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। যে নাটকের মাধ্যমে ইতিহাসের মহানায়ককে ‘ভিলেন’ সাজানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল, সেই নাটকের অভিনেতাকে আজ দলের হাইকমান্ডের পাশে দেখা রক্তের সাথে বেইমানি করার শামিল।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেজাউদ্দিন স্টালিন, যিনি ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং নিজেকে সবসময় নব্য বিএনপিপন্থী হিসেবে জাহির করলেও মূলত তিনি আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদি। গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে এদের কাউকে রাজপথে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। বরং তারা আওয়ামী লীগের নেতাদের ড্রয়িংরুমে আড্ডা দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দালাল কবি মোহন রায়হান, যিনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বিরোধিতা করেছিলেন। এছাড়া আসাদ কাজল (বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি) এবং সোহেল রশীদ (বঙ্গবন্ধু কবিতা পাঠের লেখক)-এর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের আজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে হাজির করা হয়েছে। এছাড়া শিমুল পারভীন বংগবন্ধু লেখক পরিষদের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা বই প্রকাশ করেছে ।
আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমার বাবা, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ছড়াকার আবু সালেহ সেই ভয়ের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাহসের সাথে মামলা করেছিলেন, এই ইমডেমনিটি নাটকের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন , যখন তথাকথিত এই বুদ্ধিজীবীরা নিশ্চুপ ছিলেন। কবিতা পরিষদে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অপমান করার প্রতিবাদ করায় আমার বাবাকে সেই পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আমরা সেই ত্যাগী ও নির্যাতিত পরিবারের সন্তান।
আজ যখন রিজভী আহমেদ এবং দলের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের তদ্বিরে এই আল্ট্রা ধান্দাবাজ ও আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে, তখন প্রকৃত ত্যাগী ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মীরা অবহেলিত। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যারা দলের দুঃসময়ে ছিল না, বরং দল ও জিয়ার পরিবারের বিষোদগার করেছে, তাদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বরণ করে নেওয়া দলকে আদর্শিক দেউলিয়াত্বের দিকে ঠেলে দেবে।
আমি অবিলম্বে এই সুবিধাবাদী, বর্ণচোরা এবং শহীদ জিয়ার অপমানকারীদের বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি। নতুবা, এই আল্ট্রা ধান্দাবাজরা নেতাকে ঘিরে ধরে প্রকৃত কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে, যা দলের জন্য অশনিসংকেত।







