আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার গণেশপুর ইউপিতে তিন শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মান্দা উপজেলার গণেশপূর ইউপির পারইল হঠাৎপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল আজিজ (৪৫) পারইল মধ্য পাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের পুত্র ও ইউপি সদস্য শামসুল হকের ছোট ভাই।স্থানীয়রা জানান, বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিন শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার ঘটনা ধাঁমাচাঁপা দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জুতাপেটা ও কান ধরে উঠবস করে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সামসুল হক। গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত আজিজসহ সালিশদারদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এমন জঘন্য ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। অন্যদিকে ঘটনার ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের ভয়ে এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবার। ইউপি সদস্য শামসুল এর ক্ষমতার দাপটে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না। এনিয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে প্রাণনাশসহ এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে মেম্বার সামসুল বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে
জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল আজিজ প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া তিন শিশুকে চকলেট ও টাকার লোভ দেখিয়ে নির্জন ধানখেতে নিয়ে যান। মাঠের মধ্যে কৃষকদের বিশ্রামাগারে নিয়ে একজনকে বলাৎকারের চেষ্টা করে। এঘটনা দেখে অপর দুই শিশু চিৎকার দেয়। এ সময় বাচ্চাদের চিৎকারে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেন। তবে এই কথা যাতে বাড়িতে না বলে এই জন্য বাচ্চাদের শাসিয়ে দেন। এদের মধ্যে এক বাচ্চা তার মাকে ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। এরপর অপর দুই বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চকলেট ও ৫ টাকার নোট দিয়ে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খারাপি করেছে। পরে আমরা কান্নাকাটি করলে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানার পর, শিশুর অভিভাবকেরা স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুলকে জানালে, তিনি মীমাংসা করে দিবে বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর ঘটনা ধাঁমাচাঁপা দিতে ইউপি সদস্য রাতারাতি বাচ্চাদের অভিভাবকদের ডেকে নিয়ে তাদের সামনে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজকে জুতাপেটা ও কান ধরে উঠবস করে মীমাংসা করে দিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাদেরকে নিষেধ করেন। স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী পরিবার গরীব অসহায় এবং সরকারি জমিতে বসবাস করেন। তারা অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন আনে দিন খায়। তাদের করার মতো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। এজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় সালিশ করে ঘটনাটি ধাঁমাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা গরীব হওয়ায় শিশুর সঙ্গে নোংরামি করেছে। এ রকম দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির শাস্তি হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের বিচার করার ক্ষমতা নেই। তারা বলেন, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে তার বড় ভাই ইউপি সদস্য শামসুল, মাদ্রাসা সুপার আব্দুর রাকিব, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় কয়েকজন জুতাপিটা করে মীমাংসা করে দেন। আর এলাকার মান ক্ষুন্ন হবে বলে তারা তাদের ধৈর্য ধরতে বলেন ।এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য শামসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ক্ষমতায় আমি বিচার করেছি। আপনাদের যা করার তাই করেন। মাদ্রাসা সুপার আব্দুর রাকিবের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে গনেশপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং এর কর্মকর্তা মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাটি জেনেছি অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ইউপি সদস্য বিচার করতে পারেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সালিশ বিচার তিনি করতে পারেন না। এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন,শিশু নির্যাতন ঘটনার বিচার ইউপি সদস্য করতে পারেন না ।








