ভারতের নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার রয়টার্স, এএফপি ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে লাখ লাখ সমর্থক ভোট বয়কট করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পরবর্তী সরকারের নির্বাচনি বৈধতা থাকতে হবে। কার্যকর রাজনৈতিক সিস্টেম চাইলে মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।’
বিএনপির নেতারা তার মন্তব্যকে যথার্থ মনে করছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোট কাকে দেওয়া হবে, না দেওয়া হবে -এটি জনগণের অধিকার। শেখ হাসিনার বক্তব্য ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনা।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘উনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় নির্বাচনের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, সেটিই প্রশ্ন। ভোটাধিকার হরণের নজির তৈরি করার পর এই কথা বলা তার মুখে শোভা পায় না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সকলের আকাঙ্ক্ষা হলেও শেখ হাসিনা তিনটি নির্বাচনে যা করেছিলেন, তার সামান্যতম উপলব্ধি নেই।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মন্তব্য করেন, ‘আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দল ছাড়া নির্বাচন হওয়া সম্ভব, সেই নজির তারা নিজেই সৃষ্টি করেছেন। সেখানে ভোট বয়কট নিয়ে বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত নয়।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপিও একই দিক থেকে মন্তব্য করেছে। যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘দেশবাসী গত তিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হয়েছে। যদি আগামী নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে ভোট দেয়, তবে তবেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।’
এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলোতে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়েছে।







