রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধমে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) নিয়ে কটুক্তি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলদাদপুর গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার নেতৃত্ব দেয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। সেদিন তারা কারও কোনো কথা শোনেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য যেসব যুবক হামলার উসকানি দিয়েছে, তারা থাই লটারি ও ভিসা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদর চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান মিঠু বলেন, মাইকে সবাইকে বলেছি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। মানববন্ধন করতে চাইলে এই এলাকায় করুন। কিন্তু সেখান থেকে কয়েক উচ্ছৃঙ্খল যুবক আমার অনুরোধ অমান্য করে লাঠি হাতে আলদাদপুরের দিকে রওনা দেয়। আমি পরিস্থিতি ঠেকাতে বারবার চেষ্টা করেছি, এমনকি খিলালগঞ্জ বাজারের পাশে ব্যারিকেড দিলেও ওই যুবকরা কারও কথা না শুনে ব্যারিকেড ভেঙে গ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। অতুল চন্দ্র রায় বলেন, গত ২৭ জুলাই সকালে কয়েকজন এসে বলর কাকা এখানে সমাবেশ হবে, আপনারা সহযোগিতা করবেন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনারাও তো চান, যিনি দোষ করেছেন, তার শাস্তি হোক। সকালে সহযোগিতা চেয়ে বিকালে এসে আমাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করল। চন্দনা রানী বলেন, যখন ওরা লাঠিসোটা নিয়ে আইসে, তখন হামরা বাড়ি থাকি পালাইছি। বিয়্যানা (সকালে) সহযোগিতা করবের কথা কয়া হঠাৎ আসি হামলা করিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন,, ঘটনার দিন বিকালে তিনি একটি ভ্যানে করে গঙ্গাচড়া-কিশোরগঞ্জ সীমান্তবর্তী খিলালগঞ্জ বাজারের সেতুর কাছে যান। সেখানে সেতুর এক পাড়ে ইজিবাইক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া ছিল। তিনি সেখানে কয়েকজন হুজুরকে সঙ্গে নিয়ে সবাইকে শান্ত থাকতে এবং লাঠি ফেলে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু মিছিলকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যায়। আলদাদপুর গ্রামের প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, বিক্ষোভকারীরা সেতু পার হয়ে খিলালগঞ্জ বাজারে পৌঁছলে গঙ্গাচড়া থানার পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কিন্তু তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এরপর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে গ্রামমুখী হলে হিন্দুপাড়ায় প্রবেশের দুটি পথেই পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু সেখানেও তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসময় পুলিশ সদস্যরা আহত হলে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আশ্রয় নেন। প্রশান্ত কুমার রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর ঘণ্টাব্যাপী হামলাকারীরা গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনীর সদস্য সেখানে পৌঁছায়। হামলার ঘটনার জন্য কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকাল থেকেই সিঙ্গেরগাড়ী বাংলাবাজার এলাকায় মাইকিং করে বিক্ষোভকারীরা মানববন্ধনের নামে জমায়েত শুরু করলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে থাকলেও সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাংলাবাজার এলাকায় কোনো বিক্ষোভ হয়নি। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছিল। ঘটনাস্থলে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। তবে সেখানে উপস্থিত মাগুরা ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ৩-৪ জন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। পরে তিনি বিক্ষোভকারীদের বাঁধা দিতে পুলিশ সদস্যদের ডাকলেও তাদের সহযোগিতা পাননি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ওই দিন পুলিশ কোনো ভূমিকা পালন করেনি। পুলিশ চাইলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করতে পারত, সেনাবাহিনীকে ডাকতে পারত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলে ওই হামলা ঠেকানো যেত। ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কিশোরগঞ্জ থানায় দুই সাংবাদিক এর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও আটকের হুমকি দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম। আলদাদপুরে হামলার আগে কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজারে মানববন্ধন ঘিরে পুলিশের প্রস্তুতি কেমন ছিল এমন প্রশ্ন করায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলো ও কালবেলার দুইজন প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালি দেন এবং উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের তাদের আটক করতে বলেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার অপসারণ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব, নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়ন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








