বরগুনা: সমন্বয়ক পরিচয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছেন বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয়ে বহুরূপী সরোয়ার ওরফে স্বপন ওরফে সোহাগ ওরফে সুমন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় বিভিন্ন দপ্তরে করছেন তদবির বাণিজ্য। কোনো কর্মকর্তা তার কথা না শুনলে করে দিচ্ছেন বদলি।
একসময় টিনের ঘরে বসবাস করলেও হাসিনার পতনের পর আলাদীনের চেরাগ পাওয়া সরোয়ার নিজ বাড়িতে শুরু করছেন পাকা দালান নির্মাণের কাজ। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এসব সেলফি ভাগ্য বদলে দিয়েছে বরগুনার এই কতিথ সমন্বয়ক সরোয়ারের।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন।
এই সময়ে বদলির তদবির করে অবৈধ উপায়ে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সমন্বয়ক পরিচয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ১৮টি প্রকল্পের অনুমোদন এনেছেন এই কথিত সমন্বয়ক সরোয়ার।
তার নির্দেশনা অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান না করায় বদলি করে দিয়েছেন এলজিইডির বরগুনা কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মীর আলী শাকিলকে।
বরগুনার বিভিন্ন দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীরা জানান, সমন্বয়ক পরিচয়ে সবসময় দপ্তরগুলোতে কাজ বাগিয়ে নেয়ার তদবিরেই ব্যস্ত থাকেন সরোয়ার।
জানা গেছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভুয়া নেতা সেজে ভয় দেখিয়ে এলজিইডি বিভাগ, জনস্বাস্থ্য বিভাগসহ অনেক দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন সরোয়ার।
বর্তমানে বরগুনা জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিজের লাইসেন্স না থাকায় ভাড়াকৃত লাইসেন্স দিয়ে তিনটি কাজ নিয়েছেন। সেখানে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার কাজ চলমান। এর মধ্যে ৫০টি গভীর নলকূপ ও একটি লেট্রিনের কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নলকূপ বসানো প্রতি এলাকার লোকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ৩০ হাজার টাকা করে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে , সরোয়ার চান্দখলী কদভানু মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে বেতাগী থানায় তার নামে একটি মামলা রুজু হয়। মামলা নং ১১। সেই মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। শিক্ষার্থীর ঐ অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে সরোয়ারকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যহতি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রেজাউল করিম জানান, সরোয়ার নামে এনসিপির কেন্দ্রীয় কোনো নেতা আছে কিনা আমার জানা নেই। এনসিপির কেন্দ্রীয় সব নেতাকে আমি চিনি। সরোয়ার নামে এনসিপির কেন্দ্রীয় কোনো নেতা নেই। এটা শতভাগ নিশ্চিত। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ রকম ভুয়া অনেক নেতা বের হইছে।
যাদের কাজই হচ্ছে মানুষকে হয়রানি করে স্বার্থ হাসিল করা। এসব ভুয়া নেতাদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। বরগুনা জেলা ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রনেতা নিলয় মুহিত সরোয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে এক কথায় বলেন, সরোয়ার একজন প্রতারক।
এ বিষয়ে মো. সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কোনো এনসিপির নেতা নই। একটি পিরোজপুর জেলার দেবীপুরে মাদ্রাসার ইংরেজী শিক্ষক। আমার বিরুদ্ধে এক ছাত্রী মামলা দিলেও আমি তা থেকে অব্যাহতি পাই।
শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য এনসিপি নেতাদের সঙ্গে যাওয়া আসা। গত ১ বছর ধরে আমি একটু লেখালেখিও করি দৈনিক সকালের সময়ে। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।








