এক বছর আগে আমার সাথে একজন বিবাহিত নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে । সে আমার পূর্ব পরিচিত, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তাকে আমি চিনি । সে তখন এক বাচ্চার মা ছিল, আর আমি অবিবাহিত । দুইজনের ইচ্ছাতেইই আমরা একটা হারাম সম্পর্ক বেছে নেইই ।
সম্পর্ক চলাকালীন তার সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয় কয়েকবার । আমরা দুইজন দুইজনের প্রতি এতটাইই আকৃষ্ট হয়ে পড়ি যে, আমি ওকে বিয়ে করতেও রাজি হই বা সেও তার সংসার ছাড়তে রাজি হয় আমার জন্য । তার স্বামীর সাথে তার মনোমালিন্য ছিল, কিছু ব্যাপারে সে খুশি ছিলনা । কিন্তু ডিভোর্স দিলে তার স্বামী বাচ্চাকে দিবেনা, বাচ্চা নিজের সাথে রাখবে । বাচ্চার বয়স ২.৫ বছর, এত ছোট বাচ্চা মা ছাড়া থাকতে পারবেনা । সবকিছু ভেবে সে আমার সাথে আসার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং কম্প্রোমাইজ করে তার সংসার কন্টিনিউ করার ডিসিছন নেয় ।
তারপরেও আমাদের সম্পর্ক চলতে থাকে । যদি কোন মিরাকেল ঘটে বা ০.০০১% আশা নিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যাইই । আমরা দুইজন ই বুঝতেছিলাম আমরা ঠিক করতেছিনা বা অন্যায় কাজ করতেছি । এরপরেও সম্পর্ক চালিয়ে যাই, বলতে পারেন মোহতে আটকে ছিলাম । সুযোগ হলেই আমাদের শারীরিক সম্পর্ক ও চলতে থাকে ।
সে মানসিকভাবে আমার প্রতি প্রচুর দুর্বল হয়ে পরে । পরিস্থিতির কারনে বা সামাজিকতার কারনে, তার বাচ্চার কারনে সে আগের সংসার থেকে বের হতে পারছিল নাহ । এভাবে চলতে চলতে সে প্রেগন্যান্ট হয় ।কিন্তু সে কনফিউজড ছিল বাচ্চা আসলে কার (আমার সাথে শারীরিক সম্পর্কের পর পিল খাওয়াই সেদিন ই, আর ওর স্বামীর সাথে ওইই টাইমটায় মিলিত হয়নি) । দুইজন ই ৯০% শিউর ছিলাম যে বাচ্চা হয়ত আমার ই । ওর স্বামীও সন্দেহ করে যে এই টাইমে গর্ভবতী হওয়ার কোন চান্স ই নাইই । এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়, বাট সে তার স্বামীকে সামহাউ কনভেন্স করে ।
তখনো আমাদের কথা চলতে থাকে, তবে শারীরিক সম্পর্ক ওটাই লাস্ট । এইদিকে সে আমার প্রতি পুরাপুরি দুর্বল কিন্তু তার আগের বাচ্চার জন্য সেক্রিফাইস করে সংসার করতেছে । আবার ওইদিকে তার স্বামীও নতুন অতিথি আসবে, এভাবে সব প্রিপারেশন নিতে থাকে । খুশির আমেজ সবার ভেতর ।
এমন পরিস্থিতিতে আমি খুব ডিসিছনহীনতায় ভুগি । আমি নিজেকে নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতেছিলাম । একদিকে সে আসতে পারবেনা আমার কাছে বুঝতেছিলাম, আবার সে আমার প্রতি যথেষ্ট দুর্বল, অন্যদিকে বাচ্চাটা আমার মোটামোটি শিউর ছিলাম, আবার আমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা নিয়ে বাসায় ঝামেলা চলতেছিল । সবকিছু মিলিয়ে একটা জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পরি ।
এরকমভাবে চলতে থাকে । তবে ততোদিনে আমি শিউর সে আমার কাছে আসবেনা বা আসা সম্ভব নাহ । সেটা সেও জানে । তার প্রেগন্যান্সির ৭ মাসের মাথায় আমার একজনের সাথে কাবিন হয় । কিন্তু বিষয়টা আমি তাকে জানাইনা । ইচ্ছাকৃতভাবেইই জানাইনা । কারন সে নিজেই বলত আমাকে ছাড়া থাকতে পারবেনা, আমি যদি বিয়ে করিও অন্তত যেন বাচ্চাটা হওয়ার পর বা সে সুস্থ্য হওয়ার পর করি । সেও জানত আমার বিয়ে করার সম্ভাবনা আছে । অসুস্থ অবস্থায় সে এটা টলারেট করতে পারবেনা এই ভেবে তাকে বিষয়টা আমি জানাই নাহ ।
তার ডেলিভারীর সময় ঘনিয়ে আসে এবং ঠিকঠাক মত বাচ্চা প্রসব করে । কিন্তু হসপিটালে থাকা অবস্থাতেই বিপত্তি বাধে বাচ্চার ব্লাড গ্রুপ নিয়ে । তার, তার স্বামীর এবং আমার তিনজনের তিন রকম ব্লাড । নতুন বাচ্চার ব্লাড গ্রুপ আমার সাথে মিলে যায় । বাচ্চার ব্লাড গ্রুপ হয় বাবার মত হবে বা মায়ের মত হবে, তৃতীয় কোন গ্রুপ আসা অসম্ভব । তার স্বামী পুরোপুরি ভাবে শিউর হয় বায়োলজিকালি বাচ্চার বাবা সে নাহ । সে এটা নিয়ে অশান্তি শুরু করে এবং সত্যিটা জানার জন্য চাপ দিতে থাকে ।
আমার প্ল্যান ছিল বাচ্চা হওয়ার পর, সে কিছুটা সুস্থ্য হলেই তাকে আমি আমার বিয়ের ব্যাপারটা জানাব । কিন্তু অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে যায় যে তাকে আমি এ ব্যাপারটা জানাতে পারছিলাম নাহ । একদিকে সে সদ্য সিজার করা পেশেন্ট, আবার ওদিকে তার স্বামী প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে তাকে হেয়, অপমান এবং সত্যিটা জানার জন্য চাপ দিতে থাকে । কিন্তু সে অস্বিকার করে আসতেছিল সবকিছু । এইই অবস্থায় তাকে আমার ব্যাপারটিও জানানোর সুযোগ পাচ্ছিলাম নাহ । এমনেই মানসিক চাপে আছে, নতুন করে একটা শকড দেয়াটা ঠিক হবে বলে মনে করিনি ।
সত্যি বলতে এইদিকে আমিও ইমোশনাল হয়ে পরি । হাজার হোক বাচ্চার বাবা আমি, এটা নিয়ে আর কোন সংকোচ নাইই । বাচ্চার চেহারাও আমার সাথে অনেকাংশে মিলে যায় । সবকিছু মিলিয়ে আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ি । একদিকে আমার নতুন বউ, সমাজ আবার অন্যদিকে বাচ্চা । খুব ই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পরি ।
বাচ্চার বয়স যখন ৭ দিন, সে আমার সাথে আলোচনা না করেইই তার স্বামীকে আমার পরিচয়সহ সবকিছু খুলে বলে । সেও মানসিকভাবে আর নিতে পারতেছিলনা বা এত বড় একটা সত্যি আসলে লুকিয়ে রাখা যায়না । কিংবা বাচ্চা বড় হলে তার ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে জানার পর যদি জিজ্ঞেস করে এরকম কিভাবে হইল, সে কি উত্তর দিবে!!! সবকিছু মিলিয়ে সে আর চাপ সহ্য করতে না পেরে তার স্বামীকে বলে দেয় ।
তার স্বামী আমার সাথে যোগাযোগ করে । তার স্বামীর ভাষ্য সে তার বউকে ছাড়বেনা আবার এই বাচ্চাকেও মানতে পারবেনা । পরিস্থিতি এতটাই খারাপ পর্যায়ে যায় যে সে আমাকে জানায় তার ওখানে সংসার করা সম্ভব নাহ । সে তার প্রথম বাচ্চাকে সেক্রিফাইস করতেও রাজি হয় । তখন আমি সমুদ্রের মাঝখানে পরে যাইই । একদিকে একজনের সংসার ভাংতেছে আমার জন্য, একটা নিষ্পাপ বাচ্চা । আবার অন্যদিকে আমার নতুন বিয়ে, ফেমিলি, সমাজ । সবকিছু মিলিয়ে খুবি দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যাইই, কি করা উচিত আমার । না পারতেছিলাম এদিকে সইতে আবার না পারতেছিলাম এদিকে আরেকজনের জীবন নষ্ট করতে ।
পরদিন আমি তাকে আমার বিয়ের ব্যাপারটা জানাইই । তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় আমার কাছে আসবেনা, যদি তার স্বামী তাকে ছেড়েও দেয় তবুও সে আসবেনা । নতুন একটা মেয়ের জীবন সে নষ্ট করতে পারবেনা । যত কষ্টই হোক, যত অপমান ই সহ্য করা লাগুক সে ওইদিকেই সংসার করবে । আমারো আসলে তাকে এইই মুহূর্তে নেওয়ার মত সুযোগ ছিলনা, আমার বিয়ের আগে হইলে আমি সবকিছু ট্যাগেল দিতে পারতাম কষ্ট হলেও ।
এখন শেষমেশ পরিস্থিতি এরকম দাড়িয়েছে তার স্বামী তার সাথেই সংসার করবে । উনি মানুষ হিসেবে যথেষ্ট ভালো, বউ এর প্রতি ১০০% ডেসপারেট । তারা প্রেম করেই বিয়ে করেছিল । এতকিছু জানার পরেও এই পরিস্থিতিতেও বউকে ছাড়তে রাজি নাহ । কিন্তু সন্তানকে মন থেকে মানতে নারাজ । মেনে নিয়েছে, তবে সামাজিক স্বিকৃতি স্বরুপ । মন থেকে হয়ত কোন পুরুষের পক্ষেই সম্ভব নাহ । সে কথায় কথায় এই নিষ্পাপ বাচ্চাকে জারজ, নাজায়েজ বিভিন্ন রকম কটুক্তি করে । এগুলা আমিও মানতে পারতেছিনা । আমার বাচ্চাকে আরেকজন এভাবে গালাগালি করবে বা ও অবহেলায় বড় হবে ।
এই অবস্থায় আমি খুবইই বাজে মানসিক পরিস্থিতিতে আছি । নরমালি আমি খুবইইই কঠিন মানুষ । কিন্তু বাচ্চার জন্য আমি আমার ইমোশন কোনভাবেইই দমায় রাখতে পারতেছিনা । একটা সেকেন্ডের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারতেছিনা । আমি জানি আমরা সমাজের সবচাইতে নিকৃষ্ট, জঘন্যতম কাজটা করছি । আল্লাহ ভয়াবহ শাস্তি আমাদের দিবে । তার শাস্তির কিছু অংশ হয়ত সে দুনিয়াতেই পাচ্ছে । বাকি জীবন তাকে তার স্বামীর কটুক্তি, অপমান, অবহেলা এসব সহ্য করেইই থাকতে হবে । সে সেটাও মানতে রাজি । কিন্তু বাচ্চাকে নিয়ে এরকম আজেবাজে কথা আর সহ্য করতে পারতেছেনা । সে এটা বুঝতেছেও এই বাচ্চা অবহেলায় বড় হবে, তার ১০০% সে কখনোইই পাবেনা, উঠতে বসতে কটুক্তি শুনবে । বড় হলে হয়ত নির্যাতনের স্বিকার ও হতে পারে । শুধুমাত্র নামেইই সামাজিক স্বিকৃতি পাবে । মাশাল্লাহ এরকম একটা বাচ্চা হয়ত সবাই আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চায় (বাচ্চার গায়ের রঙ, স্বাস্থ্য, চেহারা, ওয়েট সব খুবি পারফেক্ট । এক কথায় রাজপুত্র) এগুলা শুনে আমিও ঠিক রাখতে পারতেছিনা নিজেরে, আবার আমার পক্ষে কিছু করাও এই মুহুর্তে সম্ভব নাহ । কাপুরুষ লাগতেছে নিজেরে, এই জীবনে বাচার আর কোন অধিকার ই নাই আমার এরকম ফিল হচ্ছে। কতগুলা মানুষরে ঠকাইলাম, কতগুলা জীবন নষ্ট আজকে আমার জন্য । একটা নিষ্পাপ বাচ্চাও আমার জন্য সারাজীবন সাফার করবে ।
না পারতেছি কারো সাথে কিছু শেয়ার করতে বা কারো কাছে কোন উপদেশ নিতে । নিজে ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছি অনুশোচনায় । বাধ্য হয়ে গ্রুপে পোস্ট করলাম, যদি একটু হালকা হইতে পারি বা কোন সাজেশন পাই । জানি ভাইই আমি বুঝে শুনে জঘন্যতম কাজটা করছি । আমারে গাইলান, যা খুশি বলেন । বাচ্চাটার জন্য দুয়া কইরেন । আর যদি পারেন কোন উত্তম সাজেশন দিয়েন ।








