নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ী ইউএনওর অপসারণ দাবীতে দুই হাজার পাচশত নাগরিকের গণস্বাক্ষর দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন ও অভিযোগ পত্র জমা দেওয়া হয়েছে । ২২ মার্চ বুধবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কেন্দ্রীয় পত্র গ্রহণ ও অভিডেযাগ শাখায় মাসুদুর রহমান নামের যুবক আবেদন ও অভিযোগ পত্র জমা প্রদান করেন। এদিকে মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মির্জা আজম এমপি, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ,জামালপুর জেলা প্রশাসক ,জামালপুর পুলিশ সুপার,এনএসআই এর উপ পরিচালক (ডিডি) , জামালপুর প্রেস ক্লাব, জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাব, সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাব,উপজেলা প্রেস ক্লাবকে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে ।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায় , সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উপমা ফারিসা ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট সরিষাবাড়ীতে যোগদানের পর থেকে টিআর, জিআর, কাবিখা, এডিপি, এলজিএসপি,১% সহ উপজেলা পরিষদের সরকারি বরাদ্দে নানা অনিয়ম,ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকাশ্যে ঘুষ-বাণিজ্য,ভুয়া বিল বাউচার,১০% না দিলে বিল পাশ না করা , বেনামি একাউন্টের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা স্থানান্তর সহ বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। সরিষাবাড়ীতে দুর্নীতির রাম রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তার মা খালা সবাই জামাপুরে বসবাস করে । তার বোন নির্ঝর আহমেদ ২০০২ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ছাত্রীবাসের বাসিন্দাদের টেনে এনে আক্রমণ করে। ছাত্রদলের রাজনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে। যা তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে জানতে পারা যাবে। তারা ছোট থেকেই জামালপুরেই বড় হয়েছে । যার ফলে তিনি যোগদান করেই যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে এ উপজেলায় । ধারাবাহিক অপকর্ম, আর্থিক দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অসারণের জন্য হাজার হাজার মানুষ ঝাটা সহ সরিষাবাড়ী রাজপথকে প্রকম্পিত করেছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিষয়ে অভিযোগ কারীরা লিখিত জবানবন্দি প্রদান সহ দালিলিক তথ্য প্রমাণ উপাত্ত দাখিল করেছেন। কিন্তু বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অদ্যাবধি সরিষাবাড়ী থেকে বদলী করা হলো না এটিই শুধু মাত্র সরিষাবাড়ী জনসাধারণকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে তার সীমাহীন দুর্নীতি সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর কালিমা লেপন করছে। ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল সরিষাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে রহস্যজনকভাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র, চেয়ার-টেবিল, আলমারিসহ কক্ষটির সমস্ত কিছু। সে সময়ে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্টিকে অগ্নিকান্ড হয়নি বলে দাবী করেছিলেন। আগুনে তাঁর কক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সকল নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনাটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হিসেবে বলা হয়। তার বিভিন্ন অপকর্ম অণ্যায় ও দুর্নিতীর স্বাক্ষীর আলামত নষ্ট করতেই তিনি আগুন লাগিয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। এ ছাড়াও সহকারী কমিশনার-ভূমির (এসিল্যান্ড) পদটি গতবছরের ১৬ আগস্ট শূন্য হওয়ার পর ইউএনও উপমা ফারিসা অতিরিক্ত এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পান। তার দায়িত্বকালীন ১৮ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা ভূমি অফিস ও পার্শ্ববর্তী কামরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরি হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের দুটি জানালার গ্রিল ও একটি আলমারির তালা এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কলাপসিবল গেট, একটি দরজা ও তিনটি আলমারির তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র তছনছ ও চুরি করে নেয় চোরচক্র। এরপর ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভূমি অফিসে পুনরায় চোর প্রবেশের চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টার পর ফাঁস হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটন হয়নি। উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হয়। সে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মালিকদের থেকে তিনি নিজেই অর্থ নিয়ে থাকে। অতি সৎম্প্রতি সরিষাবাড়ীর পৌরসভার ঝালুপাড়া ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় বিপুল বালুর মজুদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন মোবইল কোর্টের মাধ্যমে সমুদয় বালু রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয় কিন্তু কি পরিমাণ বালু জব্দ করা হলো কিংবা জব্দকৃত বালুর সর্বোচ্চ বাজার মুল্য কত সেই বিষয়ে কোন ট্যাকক্যিাল কমিটি গঠন না করে তরিগরি করে অকশনে উদ্যোগ নেয় । অকশনের পুর্বে এলাকাতে কোন প্রকার মাইকিং বা টিন পিটিয়ে অংশনের সংবাদ প্রচার করা হয়নি। এখানে উল্লেখ্য যে ,প্রচনশীল মালামাল জব্দ করা হলে তাড়াতাড়ি অকশনের উদ্যোগ নেওয়া হয় । এই আইনের বিধান বালু কোনভাবেই প্রচনশীল মালামালের আওতায় পড়ে না । তরিগরি করে অকশনের উদ্যোগ নেওয়ার পিছনে কিংবা পুর্ব নির্ধারিত ব্যাক্তির নিকট নাম মাত্র মুল্যে অকশন দেখানোর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ব্যাক্তিগত আর্থিক লাভের বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত । সম্প্রতি হাটবাজারের ইজারা লক্ষনীয় বিষয় হলো গোপালগঞ্জের হাটের গত অর্থবছরের থেকে এবারের অর্থ বছরে টাকার ব্যবধান ১ কোটির উপরে যাহা সরাসরি রাষ্টের ক্ষতিসাধন। এই অতিরিক্ত অর্থ হাটের ইজারা গ্রহীতা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আর্থিক দুর্নীতি এখানেই প্রমাণিত। কারণ তিনি কম অর্থের দরপত্র গ্রহণ না করে রাষ্টের স্বার্থে পুনরায় টেন্ডার আহবান করা বাধ্যতা মুলক ছিলো। কারণ যেখানে রাষ্ট্রের স্বার্থ সম্পৃক্ত এবং রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেখানে রাষ্ট্রকে আর্থিক থেকে রক্ষার জন্য সরিষাবাড়ী পিংনা এলাকার গোপালগঞ্জ হাটের নাম মাত্র মুল্যের টেন্ডার গ্রহণ না করে পুনঃ দরপত্র আহবান করা দেশের প্রচলিত বিধান। এই বিধানই সরকারী অফিস আদালত অনুসরণ করে থাকে কিন্তু প্রকাশ্য দুর্নীতিবাজ ,স্বেচ্ছাচারী ,ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই হাট ইজারার ক্ষেত্রেও আর্থিক দুর্নীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।
এ ছাড়াও তথ্য অধিকার আইনানুযায়ী নির্ধারিত ফরমে সাংবাদিকরা আবেদন করলেও বিভিন্ন প্রকল্প হরিলুটের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই কোনো তথ্য প্রদান করা হয় না। কেউ তথ্যের জন্য আবেদন করলে সে খবর পৌঁছে যায় প্রকল্প সংশি¬ষ্ট রাজনৈতিক নেতার কানে, এতে হয়রানির শিকার হন স্থানীয় সাংবাদিকরা । মানব কন্ঠের জাকারিয়া জাহাঙ্গীর , নয়া দিগন্তের ইব্রাহীম হোসসাইন লেবু , জাগো নিউজের নাসিম , রাশেদুল ,দৈনিক সকালের সময় এর মতিউর রহমান ,ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনবাণী ও জামালপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলোচিত জামালপুর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান সহ কয়েকজন সাংবাদিক আবেদন দিয়েও তথ্য পায়নি। পরে ১৬ জানুয়ারী মাসুদুর রহমান নামের সাংবাদিক জামালপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আপীল করেন। জামালপুর জেলা প্রশাসক সাংবাদিক মাসুদের আপীল আবেদন মঞ্জুর করে চাহিদাকৃত তথ্যাদি সরবরাহের সরকারের কোষাগারে খরচা বাবদ টাকা জমা দানের নির্দেশ সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ৫ দিনের মধ্যে আপীলকারী সাংবাদিক মাসুদকে পত্র মারফত কবে কোনদিন তথ্য গুলো সরবরাহ করবে সেই মর্মে লিখিত পত্র প্রেরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী উপমা ফারিসাকে লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের আদেশ মতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আপীলকারীকে অদ্যাবধি কোন পত্র প্রেরণ করেন নাই। জেলা প্রশাসকের আদেশ অমান্য ও লঙ্গন করায় সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসা সরকারি চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী পেশাগত অসদাচরণ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে এই বিষয়ে তদন্তপুর্বক বিভাগীয় মামলা আনয়ন অতিব জরুরী দাবীও জানানো হয় । অন্যথায় প্রশাসনের চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। অন্যান্য অফিসারের মধ্যে উর্ধোতন কতৃপক্ষের আদেশ অমান্য করার চর্চা ত্বরাননিত হবে ইহাতে প্রশাসন, সরকার,এবং রাষ্টের ক্ষতিসাধন হবে বলে অভিযোগ সুত্রে জানা যায় ।
মাসুদুর রহমান বলেন ,বিনয়ের সাথে আমরা দাবী জানাচ্ছি অত্র আবেদন প্রাপ্তির পর অতি জরুরী ভাবে তাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা থেকে প্রত্যাহার বা বদলী করে সেখানে একজন সৎ, দক্ষ অফিসারকে প্রেরণ করা হোক।সাথে এসিল্যান্ড পদে কাউকে পাঠানো হোক । এবং পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে আনিত সমুদয় অভিযোগ গুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এটি বাস্তবায়ন করবেন। সেই প্রত্যাশা রাখলাম।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসাকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামরুল হাসান এনডিসি জানান , অভিযোগের কপি হাতে পেলে তদন্ত করে দেখা যাবে।
এদিকে কথা হলে জন প্রসাশন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন চৌধুরী জানান ,কিছু দিন আগে ঝাড়ু মিছিল হয়েছে শুনেছি । অভিযোগ হাতে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাসুদুর রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







