বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসকের অপশাসন ও ধ্বংসাত্মক কর্মে জনগণ গভীর অনিশ্চয়তায় দিনযাপন করছে। জনগণ মুক্তির জন্য নতুন দিনের প্রত্যাশা করছে। এ অবস্থায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।”
তিনি আজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সমাপনী অধিবেশনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, জামায়াত ইসলামীর প্রচার সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আমীর ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান—এই মৌলিক বিশ্বাসটুকু সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিতে পারছে ইসলামী ছাত্রশিবির, আলহামদুলিল্লাহ। ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কুরআন-হাদিসের যে শিক্ষা পায় তা রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সার্বিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে। তাই ছাত্রশিবির গোটা জাতির জন্য একটি নিয়ামত। ছাত্রশিবিরকে এ প্রচেষ্টা আরো গতিশীল করতে হবে। আর তার জন্য কুরআন-হাদিসের পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।জ্ঞানার্জনে শীর্ষে থাকতে হবে। আকর্ষণীয় চারিত্রিক গুনাবলির অধিকারী হওয়া খুবই জরুরি। সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটি হতে হবে মজবুত।
মনে রাখতে হবে, ইসলাম প্রতিষ্ঠায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রের প্রভাব ছিল বেশি। পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী ও অধীনস্থদের হক আদায় ও আর্থ-সামাজিকসহ সকল বিষয়ে সহায়ক হওয়া ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঈমানী দৃঢ়তা দিয়ে সকল ভয়কে তুচ্ছ করে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে। ক্যারিয়ার, রিজিকসহ সকল বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভর করতে হবে এবং এতে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ভীতু, ভোগ-বিলাসী কেউ ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত নয়।”
তিনি আরো বলেন, “আজকে অযোগ্য ও ভোগবাদী নেতৃত্বের কারণেই জাতির জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। জাতিকে এ অপশাসন থেকে মুক্তি ও কুরআনের সমাজ কায়েমের জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে জাতির প্রত্যাশা পীরণ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “আমরা একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাজ করছি এবং লক্ষ্যের ক্ষেত্রে আমরা কখনো আপোস করিনি। এদেশে ইসলামী আন্দোলনের অপার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই আছে। এদেশের মানুষ ইসলামপ্রিয়। তাই সর্বস্তরের মানুষকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের দিকটি বুঝিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে গতিশীল করতে হবে। একই সাথে চলমান সংকট মোকবিলা করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, “দৃঢ় ঈমানের ওপর আমরণ অটল থাকতে হবে। একই সাথে ঈমানের দাবি পূরণ করতে হবে। তাহলেই ব্যক্তিজীবন ও ইসলামী আন্দোলনের সফলতা আসবে। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।”
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও নেতা-কর্মীরা সর্বোচ্চ কুরবানির নজরানা পেশ করেছে। এখন নিজেদের অবস্থান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আরো ত্যাগ-কুরবানির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান বলেন, “আজ এ অধিবেশন থেকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য শহীদ, আহত, জীবন্ত শহীদ, কারাবরণকারী ও জুলুমের শিকার সকলের কুরবানি কবুলের জন্য মহান রবের কাছে দুআ করছি। প্রিয় মাতৃভূমি আজ ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটাপন্ন সময় পার করছে। এ সংকট স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের। জাতির প্রতিটি সংকট মোকাবিলায় তরুণরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
আওয়ামী জুলুমের মোকাবিলা, জাতিকে মুক্ত ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে ছাত্রশিবির সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে অগ্রভাবে থেকে সংগ্রাম করছে। জাহেলিয়াতের মোকাবিলা করে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে আমাদের সংগ্রাম চলছে। কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির মুক্তি জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”







