জীবনে সুখের থাকার, ভালো রাখার সব উপাদানগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যায়। জ্যোছনা
শোভিত রাত, ভরা পূর্ণিমা, ফুলের আলোর বিচ্ছুরন, ঢেউয়ের গান, বৃষ্টিতে ভেজার
আনন্দ কিংবা ভালোবাসা-এসব একপয়সা দিয়েও কেনাবেচা হয় না! অথচ আমরা যত্ন
করেই জীবনকে জটিল করে ফেলি! লোভ এবং মোহে শান্তির জীবনেকে অশান্তির
গারদখানায় বন্দী করি। পাখির মত স্বাধীন জীবনকে খাঁচায় বন্দী করে স্বাধীনতা দাও,
স্বাধীনতা দাও বলে চিৎকার করি!
গোলাপের সামনে দাঁড়িয়ে, ঘাসের গায়ে হারিয়ে, মেঘনাদের আকাশ দেখে, দখিণা বাতাস
মেখে যে আনন্দ মেলে সে আনন্দ কৃত্রিমতায় মোড়ানো ইট পাথরের শানশওকতে মিলবে
না। প্রকৃতির যে রূপ হৃদয়কে প্রশস্ত করে সেই সোহাগ মানুষের চিড়িয়াখানায় পাবেন না।
খাঁচায় ভরা মানুষগুলো বাঁচার জন্য মিছিল করে অথচ তারা মুক্ত ছিল! একটু ভোগের
জন্য, মনের লোভের জন্য মানুষ সুন্দরকে অসুন্দর করে সাজিয়েছে! রুচিতে অরুচি ভর
করেছে!
আমাদের জীবন থেকে জ্যোছনার আবেদন হারিয়ে ফেলেছি। বৈদ্যুতিক আলোয় দিন-রাত
এক হয়ে গেছে! পূর্ণিমা দেখার আগ্রহ হারিয়ে গেছে কেননা সৌন্দর্যের চেতনাই মেরে
ফেলেছি! কৃত্রিম ফুলে ফুলে রুম সাজিয়েছি, চুল ভরিয়েছি কিন্তু শোভা বাড়াতে পারিনি!
রজনীগন্ধা-চামেলির রূপ কৃত্রিমতার অ-রূপে মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে!
রুচি মরে গেলে মন-আত্মা আর ভালোকে সহ্য করতে পারে না। তখন সাগর-পাহাড় টানে
না, বৃষ্টির ফোঁটা মনের মধ্যে রিমঝিম সুর তোলো না! ভালোবাসায় ভেজালের ছাপ লেগে
মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করে না! শুদ্ধ ভালোবাসা কবিতাতেও নাই! সমবেদনায় প্রেম
থাকে না! এক দুর্বিষহ জটিলতার মধ্যে জীবন জড়িয়ে গেছে! খাঁচা ছেড়ে পাখি আর
স্বাধীনভাবে উড়ে সুখ পায় না। অসুখ সুখকে গ্রাস করে নিয়েছে।
জীবন কেন জটিল করলাম? ঐ যে সুখে থাকতে ভূতে কিলাইছিলো! আমাদের লোভ বেশি,
রক্তে ক্ষোভ বেশি! আমাদের ক্ষুধার চেয়ে বেশি খেতে ইচ্ছা করে, প্রয়োজনের চেয়ে
বেশি সঞ্চয়ের স্বভাব আছে! অন্যের অসুখে নিজেকে ডুবাতে যাই, পরশ্রীকাতরতায়
ন্যায়-নীতি জলেতে চুবাই। স্বার্থের জন্য প্রিয়জনকে বলিতে চড়াই! অভাবে আমাদের
স্বভাব নষ্ট হয়নি, আমাদের স্বভাব নষ্ট হয়েছে চারিত্রিক নষ্টামীতে। ভ্রষ্ট পথে
গন্তব্যে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম!
আবার যদি জ্যোছনার কাছে ফিরি, পাখির গানে কান পাতি, বৃষ্টির ফোঁটার সাথে সন্ধি
পাতাতে পারি তবেই সুখ তার পুরানো পথে ফিরবে। লোভ ত্যাগ করতে পারলে, ভোগ
কমিয়ে আনলে জীবনের পরতে পরতে সৌন্দর্য বাড়বে। পূর্ণিমায় রূপে গোসল করতে
পারলে-সে সুখ তাবৎ দুনিয়ার দ্বিতীয় কোন উৎসে মিলবে? ফুলের সুবাসে অন্তর তৃপ্ত
হলে-তেমন প্রশান্তি আর কোথায় পাওয়া যাবে? সহজ জীবন সরল থাকুক। অযথা ব্যথা
বাড়িয়ে জটিল করার ইচ্ছা দমে যাক। লোভের অসুখ বেদনায় মরে যাক!
রাজু আহমেদ। কলাম লেখক।
raju69alive@gmail.com







