টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যেন এক মর্মরমুখর প্রান্তর। এখানকার মাটি যেমন উর্বর, তেমনি এ মাটির মানুষও সৃষ্টিশীল ও পরোপকারী। আর এই মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে বাসা বেঁধেছেন এক কৃতী সন্তান-মাওলানা মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি যেন সেই পুরাতন বটবৃক্ষের ছায়া, যার ডালপালায় আশ্রয় নেয় শরিক-বিচ্ছিন্ন পথিক। পিতা মরহুম মো. খলিলুর রহমান ৪ নং গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রুহুলী মধ্যপাড়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা-একটি প্রদীপ যিনি জ্বেলে গিয়েছেন জ্ঞানের অন্ধকার দূর করতে। সেই প্রদীপের শিখা আজ উত্তল হয়েছে মাওলানা ইসমাইল হোসেনের চরিত্রে।
কলম ও কণ্ঠের এক অদ্ভুত সমন্বয় যেন তাঁর সত্তায়। এক হাতে কুরআনের নূর, অন্য হাতে কম্পিউটারের কিবোর্ড-দুই হাতেই তিনি বুনছেন উন্নয়নের এক অভিনব জাল। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোবিন্দাসী ইউনিয়ন শাখার আমির ও ভূঞাপুর উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পরিচিতি যেন নক্ষত্রের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, কিন্তু কেন্দ্রে একটাই সত্য-মানবসেবা।
জ্ঞানের তৃষ্ণায় তিনি পাড়ি দিয়েছেন দূর-দূরান্ত। রুহুলী দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল, হাজী আহম্মেদ আলী আলীয়া কামিল মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ থেকে আলিম ও কামিল (হাদিস ও ফিকহ), লোকেরপাড়া ও এস ফাযিল মাদরাসা থেকে ফাযিল, সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে বিএ এবং আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে ইসলামিক স্টাডিজে এমএ-এই তালিকা যেন সোপান বেয়ে ওপরে ওঠার কাহিনি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তিনি যেমন সাবলীল, তেমনি আরবি ভাষায়ও তাঁর পারদর্শিতা প্রশ্নাতীত। মাইক্রোসফট অফিস আর এলএমএফে (স্থানীয় মেডিকেল সহকারী ও পরিবার) দক্ষতা তাঁর কর্মপথকে করেছে আরও বহুমাত্রিক। বর্তমানে তিনি বিলচাপড়া সবুজ সংঘ দাখিল মাদরাসার শিক্ষক এবং চর কয়েড়া বিল রুহুলী ঈদগাহ মাঠের খতিব ও ধর্মীয় আলোচক-দুটো ভিন্ন জগত, একই সেতুবন্ধন। আসন্ন ঈদুল আজহার পবিত্র মুহূর্তে তিনি গোবিন্দাসী ইউনিয়নবাসী ও দেশের সকল মানুষকে আন্তরিক ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর শুভেচ্ছা শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বরং তা সেবার অঙ্গীকারে মোড়ানো। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে সেবার মানচিত্রটাই বদলে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ভাষায়, “দূরবর্তী ওয়ার্ডের মানুষদের সেবা দেওয়ার জন্য তাদের ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হবে না, বরং আমি নিজেই ওয়ার্ডে গিয়ে তাদের সেবা করব।” এই কথাটি যেন বৃষ্টির মেঘের মতো-যেখানে রয়েছে তৃষিত ধরা হাজারো মুখের স্বপ্ন।
তিনি আরও জানান, ধনী আর গরিবের মধ্যে তিনি কোনো ভেদরেখা টানবেন না। ধর্ম-বর্ণ যেন একটি আবরণমাত্র, মানুষের অন্তর্নিহিত অধিকারই তাঁর কাছে প্রধান। তাঁর প্রতিশ্রুতি যেন সেই নবান্নের গান, যেখানে সবাই মেতে ওঠে সমান হক নিয়ে। এলাকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠেও যেন দারুণ প্রত্যাশার সুর। তাঁদের বিশ্বাস, এই মহৎ গুণী ব্যক্তি যদি গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, তবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনে ফুল ফুটবে রাতারাতি। তাঁর নেতৃত্বে গোবিন্দাসী যেন স্বপ্ন দেখছে এক সোনালি ভোরের-যেখানে দূর হবে অবহেলা ও অভাবের অমাবস্যা, ছড়িয়ে পড়বে সেবার সুবাস। মাওলানা ইসমাইল হোসেন যেন সেই চাষি, যার ক্ষেতে এখনো অঙ্কুরিত হয়নি ফসল, কিন্তু তাঁর হাতের মুঠোয় লুকিয়ে আছে বীজমন্ত্র-‘পৌঁছে দাও, ফিরে নিও না।’
জীবনটি যেন এক সেতারের তারে বাঁধা সুর-মাওলানা ইসমাইল হোসেন সেই সুরের উৎসমুখ। তাঁর পদচারণা যেন আলোকিত করবে অবহেলিত প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি ঘর। গোবিন্দাসী যদি আজ গর্বের নাম উচ্চারণ করে, তবে সেই গর্ব যেন বাতাসে ভাসে-মাওলানা ইসমাইল হোসেন, সেবার প্রহরী, প্রতিশ্রুতির সৈনিক।







