স্বৈরশাসনের দোষ সংবিধানের নয়,এবং অপব্যবহারকারীদেরঃ শাহদীন মালিক।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডঃ শাহদীন মালিক বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানে কোন ভুল ছিল না আবার কোন দোষ ত্রুটি ছিল না তাও নয়।
কিন্তু বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাশাসন, জবাবদিহিহীনতা বা সেচছাচারীতা সংবিধানের দোষ নয়। সংবিধান যারা বার বার অপব্যবহার করেছে তাদের দোষ।
আমাদের অধিকারহীনতা, বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরে অধিকার বঞ্চিত হতে হতে, কুশাসন এবং দুঃশাসন এবং অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হতে হতে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ২৪ সালের জুলাই আগষ্টের আন্দলোন।
পিঠে দেয়াল ঠেকে গেলে রুখে দাড়ানোই আমাদের জাতিগত ঐতিহ্য। জুলাই আগষ্টে আমরা যে সরকারের বিরুদ্ধে দাড়ালাম তাদের কোন নীতিগত বৈধতা ছিল না। তাকে উচ্ছেদ করা ই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল, তাদের পক্ষে সরকারি আমলা, পুলিশ ছাড়া কেউ ছিল না। স্বৈরাচারীদের এমন পরিনতি অবশ্যম্ভাবী ছিল।
বিগত বছর গুলিতে আইনের শাসন না থাকায় আমরা আইন কে দোষারোপ করছি বলা হচ্ছে আইনের শাসন না থাকায় দোষ আইনের, আইনের শাসন না থাকার দোষ কিন্তু আইনের না।
আইনকে যারা অপপ্রয়োগ করেন,দোষ তাদের।
বর্তমানে আমরা আইনের দোষ তুলে ধরে আইন তৈরীর যে কথা বলা হচ্ছে এটাকে আমরা সমর্থন করতে পারি না, আইনের শাসন বাস্তবায়নকারীরা যদি আইনের সঠিক ব্যবহার না করেন তবে নতুন নতুন আইন তৈরি কখনো ই রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না বরং যারা আইনের অপপ্রয়োগ করবেন তাদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করা উচিৎ, তবে আইনকে তারা ভয় পাবে, আইনের শাসনও বজায় থাকবে।
আমরা যদি সব সময় আইনের দোষ দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাই এবং সুবিচার পাওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলি তবে আমাদের অধিকার নিশ্চিত হবে না এবং আইনের সঠিক প্রয়োগও হবে না।
( ৭২ এর সংবিধানের রচয়িতারাই বিচ্যুতির জন্য দায়ী)
শাহদীন মালিক বলেন ৭২ এর গণপরিষদের সদস্য দের প্রসংশা করেন বলেন তখন দেশের যে পরিস্থিতি ছিল ইচ্ছে করলে গণপরিষদের সদস্যগন আরও ২/ ৪ বছর পরিষদে কাজ করতে পারতেন তারা সেটা করেননি, সেটা না করে তারা গণপরিষদ হতে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছিলন, তাদের মতো এতো বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তি গন আর আমরা পাব কি না সন্দেহ।
শাহদীন মালিক বলেন তখনকার গণপরিষদ সদস্য গন ১বছর সময় নিয়ে তর্ক বির্তক সমালোচনা আলোচনা করে তখন সংবিধানের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।
জনাব মালিক আরও উল্লেখ করেন ৭২ এর সংবিধান রচয়িতার ৭ মাসের মাথায় সেখান থেকে সরকার সরে আসতে শুরু করলেন সংবিধানের কয়েকটি সংশোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন সবচেয়ে সর্বগ্রাসি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে জানুয়ারিতে হওয়া চতুর্থ সংশোধন, সেই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাকশাল কায়েম শুরু হলো, অর্থাৎ সংবিধান যে আদর্শের উপর নির্ভর করে হয়েছিল তা হতে আমাদের বিচ্যুতি হতে বেশি সময় লাগল না।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট এরশাদের সংবিধান সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন জনাব মালিক।
(সংসদে আইন নিয়ে আলোচনা হয় না)
আজকাল সংসদে আইন নিয়ে আলোচনা হয় না, আইনটিতে কি লাভ কি ক্ষতি, আগামী তে এর কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না তা নিয়ে কোন গবেষণাও হয় না, আইন তৈরীর সময় জনগনের অংশগ্রহণও থাকেনা।
তিনি বলেন সংসদে আইন প্রনেতারা যখন আইন তৈরি করেন তখন এর বিরুদ্ধে ও পক্ষে ব্যাপক আলোচনা থাকা উচিৎ সাথে জনগনের অংশগ্রহণ।
আমাদের দেশে তার কোনটাই হয়না।
আমরা লক্ষ্য করেছি বিগত সরকারগুলিতে ৬০/ ৭০% ব্যবসায়ী সংসদ সদস্য ছিলেন, তারাতো আইন বোঝেন না, তাহলে সংসদে আইন প্রয়নের ক্ষেত্রে তারা কি করবেন, তাদের অনভিজ্ঞতার কারনে সংসদে আইন হলেও টিকসই আইন হয়নি,দুর্বল আইনের বেড়াজালে জনভুগান্তি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
(সব ক্ষেত্রে ইয়েস বললে সংসদের দরকার কি)
বিগত অন্তবর্তী সরকারের আমলের ১৩৩ টি অধ্যাদেশ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা না করে যদি হা ভোটে পাশ করিয়ে দেন তবে সংসদের দরকার কি?
অন্তবর্তী সরকার গড়ে ৪ দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি করেছেন, সেই অধ্যাদেশ এর পক্ষে বিপক্ষে কোন আলোচনা হয়নি, কেউ সেখানে অংশগ্রহণ করেননি, আর সেই পাশ করা অধ্যাদেশ গুলি সরকার চাইলেই হা ভোটে পাশ করিয়ে দিতে পারেন না, তাহলে জনগনর আকাঙ্খা পুরন হবে না।
নিয়ম হচ্ছে দুটি সংসদের মাঝে ৬০ দিন বিরতি দিয়ে আবার সংসদ শুরু করতে হয় কিন্তু শুনছি ১৮০ দিন বিরতি দিবে, আমি বলি ৬ মাস ধরে অধ্যাদেশ জারি করে ৬ মাস পরে বলুন পাস পাস পাস।
Post Views: 205
Related