মিরসরাই প্রতিনিধি
স্মরণকালের ভয়ানক বন্যার কবলে পড়েছে মিরসরাই উপজেলা। ইতোমধ্যে উপজেলার এক তৃতীয়াংশ অংশ বন্যার কবলে পড়েছে। ফেনী ও মুহুরী নদীসংলগ্ন কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যার পানিতে জলমগ্ন হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে মানুষ। এসব ইউনিয়নের মধ্যে করেরহাট, ধুম, জোরারগঞ্জ, হিঙ্গুলী, ওচমানপুর, ইছাখালী ও কাটাছরা ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া নতুন করে অনেক গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আজ শনিবার ২৪ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের ভিড়। বন্যায় পানিরবন্দি মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় উপজেলার করেরহাট, ধুম, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ওচমানপুর, কাটাছড়া, ইছাখালী, খৈয়াছড়া ও মায়ানী ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খোলা হয়েছে ৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র। শনিবার সকাল পর্যন্ত এসব আশ্রয় কেন্দ্রে অন্তত ২০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দিতে উপজেলার জোরারগঞ্জ ও করেরহাট ইউনিয়নে দুটি ক্যাম্প করেছে সেনাবাহিনী।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিত দে মিঠু বলেন, আমার ঘরের নিচতলায় গলা সমান পানি। পরিবার নিয়ে প্রতিবেশী চারতলায় আশ্রয় নিয়েছি। কোনো রকমে বেঁচে রয়েছেন। পানি নামার কোনো লক্ষণ দেখছেন না।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, মিরসরাইয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের জন্য ১৬টি মনিটরিং টিম করা হয়েছে। এখনো প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দী। এর মধ্যে মাত্র ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে বন্যাদুর্গত মানুষদের সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ টন চাল ও নগদ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজ পরিচালনা, চিকিৎসাসেবা প্রদান ও খাবার পানি সরবরাহে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।








