রাজধানীর ফার্মগেট, বিজয় স্বরণি, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ বেশ কিছু জায়গায় দেখা মেলে ভাসমান যৌনকর্মীদের। এদেরই একজন সীমা। বয়স ৩৩ এর কাছাকাছি। দিনের আলোয় সীমার দেখা মেলে কম। সারারাত গতর খেটে ঘুমান দিনভর। ছেলেমেয়ে জানে, তাদের মা একটি হাসপাতালে কাজ করেন। সীমার দেহব্যবসা থেকেই আসে সন্তানদের পড়ালেখা, বাড়ি ভাড়া, সংসার আর স্বামীর নেশার টাকা।
এক খদ্দেরের হাত থেকে আরেক খদ্দেরের হাতে পড়ে সীমা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে স্বামীর কাছে। রাতের বেলায় প্রায় প্রকাশ্যে যৌন পেশায় লিপ্ত হয়ে গতর খাটা আয়েও অধিকার নেই সীমার।
প্রতি রাতে সীমার স্বামী কনডম গুনে গুনে তার হাতে ধরিয়ে দেয়। স্বামীর দেয়া কনডম নিয়েই রাস্তায় দাঁড়ায় সীমা। তার হিসাব এখানেই। এক কনডম, এক খদ্দের। আর এক খদ্দেরে একশ টাকা। সকালে বাসায় ফিরলে তার স্বামী কনডমের হিসেব নেয়। রাতে দশটি কনডমের ব্যবহার হলে স্বামীকে এক হাজার টাকা গুনে দিতে হয়। এক টাকা কম হলে রক্ষা নেই।
তালুকদার বংশের মেয়ে সীমার শৈশব কেটেছে খুলনায়। পড়ালেখায় ইতি টেনে মনের খেয়ালে শৈশবে একবার সীমা চলে যায় সিলেট হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে। সেখানে কয়েক দিন কাটিয়ে চলে আসে কমলাপুর স্টেশনে। ২০০১ সালের কথা। আর এখানেই নিভতে শুরু করে জীবনের স্বপ্নময় আলো। স্টেশনেই পরিচয় হয় এক ভাসমান যৌনকর্মীর সঙ্গে। সে সীমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। জোর করে ওই নারী তার স্বামীর বিছানায় শুইতে দেয় সীমাকে। কিশোরী সীমার সঙ্গে রাতভর চলে ধস্তাধস্তি। তবুও যৌন কাজে বাধ্য করাতে পারে না- বলছিলেন সীমা।
পরের দিন এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় সীমাকে। দালাল তাকে নিয়ে যায় পল্টনের এক আবাসিক হোটেলে। বাধ্য করে যৌন পেশায়।
বিয়ের পর সীমা খুলনায় বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন দু’বার। কিন্তু স্বামী নিজেই গিয়ে বদনাম ছড়িয়ে দিয়েছে সীমার গ্রামে। আর থাকা হয়নি বাবার বাড়ি।
অশ্রুশিক্ত নয়নে সীমা বলেন, ‘অনেকবার চেষ্টা করেছি স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার। ও আমার জীবনের অভিশাপ। এখন সে মরলেই বাঁচি। সন্তান নিয়ে দেশে চইলা যামু।’








