গ্রেফতারে নিন্দা’প্রকাশ!
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ।।
আকিকুর রহমান রুমন:-হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আলোচিত ৯ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম(৩৫) ওরফে শহিদুল মেম্বারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ প্রায় ১৯ মাস পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বুধবার(১৭ জুন)সন্ধ্যার পর বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)নাজমুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার নোয়াপাড়া মহল্লায় শহিদুল মেম্বারের নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রথমদিকে শহিদুল মেম্বারকে আটকের কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত তথ্য দিতে না পারায় এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে ১৮জুন (বৃহস্পতিবার)সকালে বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হক তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান,শহিদুল মেম্বার বানিয়াচংয়ের বহুল আলোচিত ৯ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে পলাতক থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শহিদুল মেম্বার নোয়াপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুল জব্বার মিয়ার ছেলে।
এছাড়াও মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখ্য,২০২৪ইং এর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবি নিয়ে জুলাই থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ৫ই আগষ্ট সরকার যখন দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান।
এই দিন সারাদেশে ছাত্র আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে আন্দোলনকারীদের নিভৃত করতে এবং তারা নিজেদেরকে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে গুলি চালালে এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলনকারী নিহত হন।
এই খবরটি যখন পুরো আন্দোলনকারীদের সাথে অংশ নেওয়া বিএনপি,জামায়াত সহ সাধারণ লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে পড়লে মাইকিং করে থানা ঘেরাও করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এমনকি যার,যার যা কিছু রয়েছে এসব নিয়ে থানায় আক্রমণ করার জন্য আহবান করা হয়।
থানা পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাদের বেশ কয়েকজন সন্তানদের হত্যা করে লাশ থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও মাইকিং করে প্রচার করা হয়।
তারপর চারদিক থেকে হাজার,হাজার আন্দোলনকারীগন থানা ঘেরাও আগুন ধরিয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।
এ সময় থানা সহ আশপাশের পুলিশ কোয়ার্টার,ডাকবাংলো,
মসজিদ সহ আশপাশের বিভিন্ন পুলিশের বাসায় লুটপাট চালায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া একটি পক্ষ।
অন্যদিকে থানা ওসি সহ বেশ কয়েকজন সহকারী অফিসার ও পুলিশ সদস্য আহত হয়ে থানার সকল পুলিশ ছাঁদের উপরে অবস্থান নেন।
নিচে আগুন ধরিয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে ২য় তলায় লুটপাট চালায় একটি পক্ষ।
থানা ঘেরাও করাকালীন সময়ে আন্দোলনকারীগন সুহেল আখঞ্জি নামে এক সংবাদকর্মীকে থানার ভিতরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সেনাবাহিনীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করেন।
এবং অবরুদ্ধ সকল পুলিশকে হত্যা করে তাদের সন্তানদের হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে বাড়ি ফেরার ঘোষণা দেন হাজার,হাজার আন্দোলনকারীগন।
এমন অবস্থার মধ্যে কয়েকশো সেনাবাহিনীর সদস্য অবরুদ্ধ পুলিশকে বাঁচাতে থানার ভিতরে ও আন্দোলনকারীদের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যান সেনাবাহিনী।
এভাবে সারাদিন পেরিয়ে গিয়ে রাত শুরু হয়ে প্রায় ১৩ঘন্টা ধরে সকল অবরুদ্ধ পুলিশকে মুক্ত করার চুক্তিতে যায় আন্দোলনকারীগন।
এক পুলিশ সদস্য (এসআই)সন্তুশ দাশ চৌধুরী যার গুলিতে শত,শত আন্দোলনকারীগন আহত ও ৪/৫জনকে হত্যা করার অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
পরে সকল পুলিশ সদস্যকে সেনাবাহিনী যখন তাদের গাড়িতে উঠাচ্ছিলেন ঠিক তখনই কিছু আন্দোলনকারী থানার ভিতরে ডুকে গিয়ে এসআই শন্তুস এর উপর হামলা চালিয়ে থানার ভিতরে হত্যা করে।
এভাবে একে একে তার মৃত দেহের উপর ৩য় দফা হামলা চালায় তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে আসা আন্দোলনকারীগন।
পরে দিনের বেলা তার মরদেহ থানার সামনের একটি গাছে জুলিয়ে রাখা হয়।
এই দিন সাংবাদিক,পুলিশ সহ ৭জন আন্দোলনকারী মৃত্যু নিয়ে ৯জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।
এবং শতাধিক এর উপরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আন্দোলনে অংশ নেওয়া লোকজন।
পরদিন সিলেটে চিকিৎসারত অবস্থায় আনাস নামে এক গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু ঘটনা ঘটলে পুলিশের গুলিতে শিশু হাসান সহ ৮জন আন্দোলনকারী মৃত্যু বরণ করেন।
এবং একই দিনে আন্দোলনকারীদের হামলায় সাংবাদিক সুহেল আখঞ্জি ও (এসআই)শন্তুস চৌধুরী দাস নামের এক পুলিশ সদস্য সহ আন্দোলনকারীদের হামলায় ২জনের মৃত্যু নিয়ে মোট ১০জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
পরদিন ৬ আগষ্ট পুলিশের গুলিতে নিহত ৭জনের জানাজার নামাজ স্হানীয় এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার,হাজার মুসল্লীগন জানাজা নামাজের পূর্বে মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন।
যথা সময়ের মধ্যে অর্ধ লক্ষাধিক মুসল্লীদের অংশ গ্রহনের মধ্যে দিয়ে জানাজার নামাজটি অনুষ্ঠিত হয়।
তারপর প্রত্যেক নিহতদেরকে তাদের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয় স্বজন নিজ নিজ এলাকায় দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের হাতে নিহত সাংবাদিক সুহেল আখঞ্জিকে এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাদের সাথে জানাজার নামাজে অংশ গ্রহন করার জন্য স্হান দেওয়া হয়নি এমনটা অভিযোগ ছিলো বিধবা স্ত্রী ও তাদের পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনদের।
পরে এলাকার মধ্যে নিহত সাংবাদিক সুহেল আখঞ্জির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত করা হয় এলাকাবাসী নিয়ে।
এবং পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এছাড়াও ৫ আগষ্টে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে সিলেটে চিকিৎসারত আনাস নামের এক যুবক পরদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পরে তার মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।
এবং তার গোসল কাজ শেষ করে জানাজার নামাজের জন্য স্হানীয় রাজবাড়ী মাঠ প্রাঙ্গনে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।
এবং নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এশারের নামাজ শেষে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করে তৃতীয় নম্বর মসজিদের পাশে রাজবাড়ী কবরস্থানে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশের গুলিতে
নিহতদের ঘটনার ১৬দিন পর নিহত শিশু হাসান এর পিতা ছানু মিয়া বাদী হয়ে সাংবাদিক সুহেল আখঞ্জি সহ তার শিশু পুত্র ও অন্যান্য নিহত ৭ পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে ৯জন হত্যার ঘটনায় ১৬০জন নামীয় আসামী ও অঞ্জাত ২০০জন আসামী করে মোট ৩৬০ জনের বিরুদ্ধে জ্বলজ্যান্ত একটি সত্য ঘটনার মিথ্যা একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় প্রধাণ আসামী করা হয় হবিগঞ্জ-০২ (আসন)বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ এর আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য এডভোকেট ময়েজউদ্দিন শরীফ রুয়েল,সাবেক সাংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান,
আওয়ামীলীগের সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী ও ইকবাল হুসেন খান,আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হুসেন মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আঙ্গুর মিয়া সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ এর নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।
এই মামলা দায়েরের (আইও)হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়(এসআই)
জাহাঙ্গীর আলমকে।
কিছুদিন এই মামলার দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন অভিযোগ এর ভিত্তিতে তাকে বদলী করা হয়।
তারপর মামলার দায়িত্বভার চলে থানার অফিসার ইনচার্জ এর নিকট।
দীর্ঘ ২বছরের ভিতরে একে,একে ৪জন অফিসার ইনচার্জ এর বদলি জনিত কারণে ধারাবাহিক ভাবে মামলার(আইও)পরিবর্তন হতে থাকেন।
অন্যদিকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে এই মামলার আসামীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া,আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ মিয়া সহ অনেক পলাতক আসামীদেরকে র্যাব,ডিবি পুলিশ,থানা পুলিশ ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।
পরবর্তীতে থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন।
কিন্তু ৯জনের পক্ষে মামলা দায়েরের ঘটনার পর থেকে ফাঁস হতে থাকে অনেক নিহত পরিবারের পক্ষ হতে তাকে দায়িত্ব না দেওয়ার সত্য বিষয়টি।
এমনকি সাংবাদিক সুহেল আখঞ্জির স্ত্রীর কাছ থেকে কোন দস্তখত আনেন নাই এবং তিনি তার স্বামী হত্যার বিষয়ে কাউকে দায়িত্ব দেন নাই বলেও অভিযোগ করেন সংবাদকর্মীদের নিকট।
যাহা নিয়ে বিভিন্ন পিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়া এই মামলার আসামীদের কাছ থেকে কোটি টাকার বানিজ্যর বিষয়টিও লোকে মুখে প্রচার হয়ে পড়লে মামলাটি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলেন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জেলা ও উপজেলাবাসী।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭জুন বিএনপি কর্মী বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২নং উত্তর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল মেম্বারকে তার নিজ বাড়ি মাগরিবের আজানের পর থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী।
এছাড়াও শহিদুল মেম্বারকে ৯ মার্ডার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসাবে থানা পুলিশ গ্রেফতার করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম”ফেসবুক”
এর মাধ্যমে জানাজানি হয়ে পড়লে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতৃবৃন্দ দেশ-বিদেশ থেকে তাকে গ্রেফতার করায় নিন্দা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি শহিদুল মেম্বার বিএনপির একজন একটিভেট কর্মী ছিলেন বলেও তারা বিষয়টি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিশ্চিত করে প্রকাশ করেন।
তারা শহিদুল মেম্বারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মামলার (আইও)থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি)নাজমুল হক ১৮জুন
(বৃহস্পতিবার)
সকাল ১০টার দিকে শহিদুল মেম্বার এর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এবং শহিদুল মেম্বার এই মামলার এজাহার নামীয় আসামী ছিলেন।
দীর্ঘ ১৯মাস পলাতক থাকার পর তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই মামলায় কিছুক্ষণের ভিতরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।







