*
আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে – ক’দিন আগে পুতিন গিয়েছিলেন তুর্কমেনিস্তান?
সেখানে তিনি এরদোয়ানের সাথে ৪০-৫০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন।
সেখানেই মূলত তারেকের দেশে ফেরার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন পুতিন। সেদিন থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
কিন্তু, কেন পুতিন তারেকের দেশে ফেরার রাস্তা তৈরি করতে গেলেন?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন পুতিনের সাথে দেখা করার জন্য।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি অপমানিত হয়ে, বিরক্ত হয়ে রেগেমেগে চলে গিয়েছিলেন।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ৪০-৫০ মিনিট হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এমন এভেইলেবল হয়।
কিন্তু, সেই সময়টুকু তিনি সহ্য করতে না পেরে রেগে মেগে চলে গেলেন। কিছু মিডিয়া বলেছে – তিনি জোর করে পুতিনের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন – যা শিষ্টাচার বহির্ভূত।
কিন্তু, কেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এমন অস্থির হয়ে পড়েছিলেন?
প্রথম কারণ –
তিনি চেয়েছিলেন – এরদোয়ানের সাথে বৈঠকের আগে যেন তাঁর সাথে বৈঠক হয়।
সেই অনুযায়ী তিনি সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু, পুতিন সময় পরম্পরা ঠিক করলেন – আগে তুরস্ক।
দ্বিতীয় কারণ –
পাকিস্তানের কাছে ইনফরমেশন ছিলো – এই বৈঠকে পুতিন এরদোয়ান এমন কিছু সিদ্ধান্তে যেতে চলেছেন – যেটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির উপর প্রভাব রাখবে।
এবং সেটা অবশ্যই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে।
**
তার অল্পদিন আগে পুতিন ভারত ঘুরে গেছেন।
রাশিয়া বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র সেই ৬০ এর দশক থেকে। বঙ্গবন্ধুর সাথেও রাশিয়ার সহযোগিতার সম্পর্ক ছিলো।
ভারত, রাশিয়া চায় না বাংলাদেশের রাজনীতি উগ্রবাদীদের হাতে চলে যাক।
অস্পষ্ট মোটাদাগে দেখলে – জামাত গং চরম ডানপন্থী, বিএনপি মধ্য ডানপন্থী, আওয়ামীলীগ মধ্য বামপন্থী, সিপিবি গং চরম বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
বাংলাদেশে ২৪ এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মূলত চরম ডানপন্থী (ফার রাইট) উত্থান হয়েছে। সেখানে মধ্য ডান হিসেবে বিএনপি এবং চরম বামপন্থীদের অনেকের ভূমিকা থাকলেও কেউই মূল গেইমের ভিতরবাহির জানতো না, বুঝতে পারেনি।
ফলে, ক্ষমতা দখলের পর বিএনপি ভ্যাবাচেকা খেলেও জমাত যেহেতু তাদেরই মাসতুতো ভাই – সেহেতু তারা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসছিল। তাদের ভরসা ছিলো – বড় দল হিসেবে মাসতুতো ভাইয়েরা শেষ পর্যন্ত তাদের হাতে ছেড়ে দেবে।
আবার ক্যান্টনমেন্ট জামাতের হাতে থাকায় বিএনপি ভিজাবিড়াল হয়ে ‘জ্বী হুজুর’ করে আসছিলো।
২৫ এর মাঝামাঝি এসে তারা নিশ্চিত হলো – জামাত কখনোই বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না। বরং তারা একের পর এক মাস্টারপ্ল্যান করে যাচ্ছে – আগামী ২০-৩০ বা ৫০ বছরের জন্য ক্ষমতায় জেঁকে বসার। খিলাফত কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলকে মুছে দেয়াই তাদের শেষ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
জামাত গং যখন বুঝতে পারলো – দেশের ৫০% ( সকল জরিপের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮%, সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩০% এর গড় করলাম) আওয়ামী সমর্থক। বাকি ৫০% এর মধ্যে ফার রাইট আছে সর্বোচ্চ ১০-১৫ %, ৩০-৩৫ % বিএনপি।
জামাত গং বুঝতে পেরেছে – মধ্য ডান থেকেই তাদেরকে সমর্থন টানতে হবে, আওয়ামী বা বাম থেকে কঠিন বা অসম্ভব।
সুতরাং জামাত গংদের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের দল ভারি করতে হবে, এবং পরবর্তীতে মধ্য ডান এবং বামদের দমন-পীড়ন বা গৃহযুদ্ধ করা যাবে।
ফলে, স্ট্রাটেজিল্যালি – জামাত গংদের প্ল্যানের ধাপগুলি হলো –
– তারেককে ফেলে দেয়া,
–বিএনপিকে টুকরো টুকরো করে দেয়া,
––বিএনপির বড় বড় নেতৃত্বকে বুঝিয়ে, লোভ দেখিয়ে বা অস্ত্রের মুখে জামাতে টেনে নেয়া,
–– গ্রাউন্ড পর্যায়ে প্রচার ও প্রমাণ করা বিএনপি জামাত প্রায় একই দল। এই স্ট্রাটেজিতে বিএনপির কারো কারো মত থাকতে পারে।
এসব ইনফরমেশনই রাশিয়ার কাছে আছে।
***
পুতিনের ভারত সফর করার কথা ১২-১৫ ডিসেম্বর।
তিনি আকস্মিকভাবে সেই সফর এগিয়ে আনলেন ৫ ডিসেম্বরে।
কারণ – ১২ ডিসেম্বর তুর্কমেনিস্তান সফর করবেন এবং সেখানেই বোর্ডের ডানপাশের ঘোড়ার চাল অপেক্ষা করছিলো।
এবং পুতিন জানেন – ভারত সফর ছাড়া সেই চাল পূর্ণতা পাবে না।
গত ১ বছরে অফিসিয়ালী পাকিস্তানের বহু সামরিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করেছেন। আন-অফিসিয়ালী সেই সংখ্যা অসংখ্য।
সবগুলোর পিছনে লক্ষ্য –
–বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি,
–– ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা,
–সংবিধান পরিবর্তন করে দুই দেশএক হয়ে যাওয়ার উপায় খোঁজা,
–খিলাফত কায়েমের সম্ভাবনাগুলোর পরিচর্যা।
শেষোক্তটিই পুতিনের টনক নাড়িয়ে দিয়েছে।
পুতিনের কাছে গোয়েন্দা ইনফরমেশন ছিলো – বাংলাদেশে চরম ডানপন্থীরা গোপনে অনেকদূর এগিয়ে গেছে।
হাতে বেশি সময় নেই।
আপনারা জানেন – বাংলাদেশে পাকিস্তানের পাশাপাশি সহযোগিতা করে আসছে তুরস্ক।
পিনাকী তুরস্কপন্থী, ইলিয়াস পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়ে এক্টিভিজম করে আসছেন। ( যদিও এভাবে দেখলে ইকুয়েশন এবড়োখেবড়ো হয়ে পড়ে)।
যাক – সংক্ষেপ করি।
পুতিন ভারত থেকে ফিরেই এরদোয়ানের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং তুর্কমেনিস্তানে বৈঠকের ব্যবস্থা করলেন।
এই ইনফরমেশন পাকিস্তানের কাছে ছিলো যে, এরদোয়ান এবং পুতিনের বৈঠক বাংলাদেশের রাজনীতি পালটে দিতে পারে। ফলে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পুতিনের সাক্ষাৎ চাইলেনএবং সেটা এরদোয়ানের সাথে বৈঠকের আগেই।
তিনি সেটা পেলেন না।
ফলে, বাইরে অপেক্ষারএকেকটা মুহূর্ত তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল – নায়ক বাপ্পারাজকে বাইরে রেখে নায়িকা ভিতরে গেছে গুণ্ডা গাংগুয়ার সাথে দরজা এঁটে একান্ত বৈঠকে।
৪০ মিনিট তাঁর শরীরে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছিল।

****
তারেকের দেশে ফেরার পিছনে জামাতের বাধা এখনো আছে।
তবে বড় বাধা ছিলো তুরস্ক এবং পিনাকী – সেটা সরিয়েছেন পুতিন।
এরদোয়ানের সাথে পুতিনের বৈঠকের দিনই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইকুয়েশন পরিবর্তন হতে শুরু করলো। আমি এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম ( ৩ নং ছবিটা)।
এর পরপরই পিনাকী ছুটে গেছেন তুরস্কে।
তারেক রহমান প্রথমালো সহ মিডিয়া গিল্ড এবং কিছু কালচারাল উইংসে বড় বাজেট দিলেন ( সেখানে কি ভারত রাশিয়ার ভূমিকা ছিলো?)।
এসব পিনাকী ইলিয়াস জানবেন – সেটাই স্বাভাবিক। সেজন্যই তারা প্রথমালো এবং কালচারাল সেক্টরে আঘাত করেছিলেন।
এই আঘাতটাই বুমেরাং হিসেবে ব্যবহার করেছে বিগ বাজেটকৃত মিডিয়া গিল্ড।
এবং ইলিয়াস পিনাকীর একের পর এক ধ্বস নেমে আসছে।
খেয়াল করলে দেখবেন – তাদের আওয়াজ কমে আসছে এবং এক পর্যায়ে আর শোনা যাবে না।
সুতরাং, বলা যায় – পুরো ব্যপারটায় রাশিয়ার হাত আছে।
সেখানে ভারতের সম্মতি ছিলো। কারণ, ভারত চাচ্ছে – যেকোনোভাবে বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি বা সংঘাতের পরিবেশ এড়াতে। কারণ, বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ করে জিতলেও ভারতের লস ছাড়া কোনো লাভ নাই। বাংলাদেশেরও নাই। আছে পাকিস্তানের লাভ।
বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান হলে পাকিস্তানের বড় লাভ, তুরস্কের ছোট লাভ বা লাভের সম্ভাবনা। কিন্তু ভারতের বড় লস।
সেটা ঠেকাতেই তারেকের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ, আশা করা হচ্ছে – এর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা ফিরবে।
কিন্তু, তার জন্য বিএনপিকে ‘জামাতের ছোট ভাই’ পদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাড়তে হবে পাকিস্তান পন্থাও।
এগুলো জামাত মেনে নিচ্ছে না। তাদের কিছু শক্তির ব্যাকআপ সরিয়ে নেয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা দমে যাবে না।
বরং চেষ্টা করবে – বিএনপিকে ব্যবহার করে তাদের শিকড় আরো গভীরে প্রথিত করতে।
এমনও শোনা যাচ্ছে – বিএনপি গোপনে জামাতের সাথে আঁতাত অব্যাহত রেখেছে।
অর্থাৎ, সেই মধ্য ডান এবং চরমপন্থী মাসতুতো ভাই।
আদতে – চরিত্র তো বদলানো যায় না।
একদিন খেক শিয়াল হুক্কাহুয়া ডাকবেই।
Hasnat Nagasaki….

Post Views: 172
Related