বেশি দামে কেনাকাটা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি প্রকল্পগুলোতে। কখনও বেশি দামের প্রস্তাব দিয়ে সফল হচ্ছে, কখনও ব্যর্থ। তবে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে বেশি দামে কেনাকাটার প্রস্তাব দিয়ে সফল হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
ধানের বা বিভিন্ন ফসলের বিজ লাগাতে যে ট্রে বাজারে প্রতিটি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কেনার প্রস্তাব দিয়ে সফল হয়েছে তারা। এখন বেশি দামেই ট্রে কিনছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি পিস ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে ২৫ কোটি টাকায় ১ লাখ ট্রে কিনছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
চাষাবাদে সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং ফসলের অপচয় কমাতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বাস্তবে তা অর্থ লোপাটের মচ্ছবে পরিণত হয়েছে।
এদিকে দেশের অন্যতম কৃষি যন্ত্রপাতির বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কৃষি বন্ধুর ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ৫০ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ট্রে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রির আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই এসব ট্রে বিক্রি হয়। বাজারে সর্বোচ্চ কত দামের ট্রে পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার ট্রে রয়েছে।
ট্রের অস্বাভাবিক দাম প্রস্তাব বিষয়ে জানতে প্রকল্পটির পরিচালক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বেনজির আলমকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে স্পেসিফিকেশন আছে। ট্রের প্রায় ১০টি কোয়ালিটি আছে। এটা হাই কোয়ালিটি দেওয়া হয়েছে। এটা ৮০ টাকা দামেরও আছে, আবার ১৫০ টাকা দামেরও আছে।’
ট্রের সর্বোচ্চ দাম কত আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার মনে নেই।’ একটা ট্রের সর্বোচ্চ দাম ৫০০ টাকা হতে পারে কি না জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘একটা ট্রে ৩ হাজার টাকা কোয়ালিটিরও বানানো যাবে।’
আপনারা কত দামে কিনছেন জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর আবারও কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বারবার কল দিয়ে ডিস্টার্ব করছেন কেন।’ এর আগে তাকে কল দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘এই প্রকল্প এখন আমি দেখছি না, ডিপিডি (ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর) দেখছে।’
এদিকে প্রকল্পটির ডিপিডি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প এখনও তিনিই (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বেনজির আলম) দেখছেন। তিনি এখনও কাউকে দায়িত্ব দেননি।’
প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান বলেন, প্রকল্পটি আমাদের হাতে নেই। একনেকে অনুমোদনের পর আর আমাদের হাতে থাকে না। এটা এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন। আর যখন এটা অনুমোদন হয় তখন আমি ছিলাম না। আমি এখানে নতুন এসেছি।
প্রকল্পটিতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলাম বলেন, আমাদের যেকোনো ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে ক্রয় করা হয়। এসব জিনিস যে কোয়ালিটির, যে লেবেলের এবং যে ম্যাটারিয়ালস দিয়ে তৈরি করা হয় তা বাজারদরের সঙ্গে অবশ্যই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এটার নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন সেভাবে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম হয়েছে কি না আমি সেটা পরীক্ষা করে দেখব।
এদিকে কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দামের বিষয়ে কথা বলতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদেবার্তা দেওয়া হলে সেটা তিনি দেখেন। তবে কোনো মন্তব্য করেননি।







