বক্তারা প্রধান অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং অবৈধভাবে উপার্জিত তার সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বাবুকে অব্যাহতি, সাংবাদিক নিরাপত্তা সুরক্ষা আইন করার দাবি জানান।
জানা যায় , গত বুধবার (১৪ মে) রাত ১০টার দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জের পাটহাটি মোড় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথের সামনে মোটরসাইকেল থামিয়ে কিলঘুষি মারা হয় বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির উপজেলা প্রতিনিধি নাদিমকে । এ সময় তাকে টেনেহেঁচড়ে রাস্তার অপর প্রান্তে নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায় অপরাধীরা। ঘটনার সময় ওই গলিতে অন্ধকারে আড়ালে দাঁড়িয়েছিলেন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবু। সেসময় তার ছেলে ফয়সাল, রিফাত, রেজাউল, মনির, সাইদসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে বকশীগন্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাদিমকে জামালপুর হাসপাতালে প্রেরণ করেন । জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় । পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বিকালে তিনি মারা যান। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন বাবু। শুক্রবার (১৬ জুন) সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে বাবুকে বহিষ্কার করা হয় । আরো জানা যায় , সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই হুমকি পাচ্ছিলেন সাংবাদিক নাদিম। তিনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন চেয়ারম্যান। যদিও সেই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত।
কথা হলে জামালপুর সুপার নাসির উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদক মাসুদুর রহমানকে জানান , সাংবাদিক নাদিমের হত্যাকান্ডটি পৈশাচিক এবং নারকীয়। আমরা ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন দিন টানা অভিযান চালিয়ে ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। ইতিমধ্যেই ভিকটিমের স্ত্রী ২২ জনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে। আমরা অন্যান্য আসামিদেরও খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। আমাদের প্রতিটা টিম এখনও নিরলস ভাবে আসামি গ্রেফতার এ কাজ করে যাচ্ছে।








