ভয়াবহ বন্যায় ফুঁসে উঠেছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি। অতি বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি বেড়ে যাওয়ায় ১০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ফেনী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, কুমিল্লা রয়েছে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে। বন্যা ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের অঞ্চলেও। হঠাৎ এ বন্যায় এসব এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে ফেনী-নোয়াখালীর উদ্দেশে ২৫০ উদ্ধারকারী বোট পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর ছাত্র-ছাত্রীরা। ইতোমধ্যে ৫০-এর বেশি উদ্ধারকারী বোট রওনা দিয়েছে এবং সারাদিনে আরও দুইশ উদ্ধারকারী বোট যাওয়ার কথা রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে এমনটা জানিয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নুসরাত জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৫০-এর বেশি বোট (উদ্ধারকারী নৌকা) এতোক্ষণে ফেনী-নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সারাদিনে আরও ২০০ বোট যাবে ইনশাআল্লাহ। একইসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বন্যাকবলিত এলাকায় ইন্টারনেট ফ্রি রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, আজ সারাদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গণত্রাণ সংগ্রহ চলবে। শুকনো খাবার (মুড়ি, চিড়া, বিস্কিট), স্যালাইন বা অন্যান্য জরুরি জিনিস কেউ দিতে চাইলে সেসব নিয়ে আসতে পারেন। সারাদেশ এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। এক থাকলেই মুক্তি!
এদিকে, বুধবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ফ্রি টকটাইম ও ইন্টারনেট সুবিধার কথা ঘোষণা দিয়েছে দেশের ৪টি অপারেটর কোম্পানি (গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল)।
উল্লেখ্য, ভয়াবহ বন্যায় তীব্র আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশের ফেনী, নোয়াখালী কুমিল্লা, সিলেট অঞ্চলে। ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর পানি উপচে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। নেই বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ। সম্প্রতি ত্রিপুরার ডম্বুর হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট বা ডম্বুর গেট খুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্যটির প্রশাসক। এই বাঁধ খুলে দেয়ায় ভারতের পানি ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশে। যা সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে খুলে দিয়েছিল ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায় পানি বেড়ে যাওয়ায় উৎকণ্ঠার মাঝে রয়েছেন নদীর চরাঞ্চলের কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।








