আর মাত্র কয়েকদিন পরই পরিবারের কাছে ফিরতেন তিনি। পাঁচ বছর পর দেশে ফেরার জন্য টিকিট কাটা, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা—সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, জীবিত অবস্থায় আর বাড়ি ফেরা হলো না প্রবাসী শহীদ উল্ল্যাহর। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা শেষে সড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেটকারের চাপায় প্রাণ হারান তিনি। এখন তিনি ফিরবেন কফিনবন্দী হয়ে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার গ্রামের আস্কর আলী বৈদ্দ্য বাড়ীর মরহুম মোহাম্মদ মিস্ত্রীর চতুর্থ ছেলে শহীদ উল্ল্যাহ (৪৮) শনিবার রাত ১১টার দিকে ওমানের লুলু মার্কেটের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। এদিকে শহীদ উল্ল্যাহর মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে পরিবার পাঁচ বছর পর প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, সেই পরিবারকেই এখন গ্রহণ করতে হবে তার নিথর দেহ। প্রবাসজীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ঘরে ফেরার স্বপ্নটি শেষ পর্যন্ত থেমে গেল ওমানের একটি সড়কের ওপর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওমানে একটি প্রতিষ্ঠানে এমব্রয়ডারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন শহীদ উল্ল্যাহ। এর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এলেও এবার টানা পাঁচ বছর পর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন ওমান থেকে সকাল ১১ টায় রওয়ানা হয়ে ১২ জুন সকাল ৭ টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। শনিবার রাতেই ওমান থেকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে ভেঙে পড়ে পরিবার। বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে কয়েক দিনের মধ্যে তার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।
নিহতের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন বলেন, ভাইয়া পাঁচ বছর পর বাড়ি আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। টিকিট কাটা হয়েছিল, পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও ছিল। শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু কেনাকাটা করে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের ওপর উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিল ভাইয়াকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু এখন ভাইয়া ফিরবেন লাশ হয়ে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।








