এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাঞ্জা লড়ছে ৬ বারের সাবেক ইউপি সদস্য
মিরসরাইয়ের আবুল কাশেম। তিনি উপজেলার ১৬ নং সাহেরখালী
ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ বার ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত
হন। সারা জীবন সমাজসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়া মানুষটিকে ৬৫
বছর বয়সে কে বা কারা হত্যার চেষ্টা করছে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে
এলাকাবাসীর মনে। হামলার ৫ দিন পরও এখনো জ্ঞান ফেরেনি তাঁর।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ বার অপারেশন করেও শারীরিক
কোন উন্নতি হয়নি, রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্টে। কাশেম
সাহেরখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মঘাদিয়া ঘোনা এলাকার মৃত আলী
আকবরের পুত্র।
জানা যায়, গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে মায়ানী ইউনিয়নের
আনন্দবাজারে যান আবুল কাশেম। সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ তিনি নিখোঁজ
হন। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে খুঁজতে খুঁজতে রাত ১০ টা
নাগাদ স্থানীয় মঘাদিয়া খালের পাশে কাদার মধ্যে ছুরিকাহত অবস্থায়
তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রথমে মিরসরাই উপজেলা সদরের একটি
বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবণতি হলে চমেক হাসপাতালে
তাকে ভর্তি করা হয়।
আবুল কাশেমের স্ত্রী বিবি ফাতেমা জানান, হাসপাতালে আমার
স্বামীকে নিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ৩ বার অপারেশন হয়েছে।
কিন্তু এখনো জ্ঞান ফিরেনি। তিনি মরনের সাথে লড়াই করছেন। স্বামীকে
হাসপাতালে রেখে এখনো থানায়ও যেতে পারিনি। চিকিৎসকরা
জানিয়েছেন, ফুসফুসে পানি জমেছে, কিডনী ও মাথায় আঘাত
লেগেছে। আমরা আল্লাহর কাছে আমার স্বামীর জীবন ভিক্ষা চাই বলে
হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন ফাতেমা।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী আবুল কাশেমের
সাথে স্থানীয় সাহেরখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য
বেলাল হোসেনের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে কয়েকবার
হত্যার হুমকিও দিয়েছিল সে। এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি
মামলা রয়েছে। আমাদের ধারণা বেলালের নির্দেশে আমার স্বামীকে হত্যা
চেষ্টা করা হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর
ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, ‘কাশেম সাহেব গত
নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষও ছিল না। তার সাথে কোনকালে আমার
কোন বিরোধ ছিল না। হয়তো বা আমার কোন বিরোধী পক্ষ কাশেম
সাহেবের পরিবারকে ভুল বুঝাচ্ছে।’
মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) অলি উল্ল্যাহ জানান, আমরা আহত আবুল
কাশেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখে এসেছি। তবে
এই ঘটনায় থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তি
আইনি প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।







