সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অগ্নিসংযোগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নৌকা ও ঈগলের।
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকে বহিষ্কার অগঠনতান্ত্রিক এবং জেলা সদরের বাইরে এমন অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তাদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে শহরের ঝিলটুলীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলা হয়। এসময় তারা অপরপক্ষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন।
অপরদিকে নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক অভিযোগ করেছেন, তার ১১টি ক্যাম্পে বৃহস্পতিবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এছাড়া গভীর রাতে শহরের পূর্বখাবাসপুর মোড়ের অদুরে নৌকার ক্যাম্পের সামনে থেকে রুদ্র রাজ প্লাবন (১৭), সাজ্জাদ (১৮) ও আল আমীন (২০) নামে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ কে আজাদের বাসভবনে ঈগল প্রতীকের সমর্থক অংশের সংবাদ সম্মেলনে এ কে আজাদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য বিপুল ঘোষের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জাহিদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাউকে কোন চিঠি বা নোটিশ না দিয়ে, কোন সভা না ডেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক ও সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ১০ নেতাকে বহিস্কারের একটি খবর তারা ফেসবুক মারফত জানতে পারেন। এই বহিস্কারাদেশের ক্ষমতা তাদের নেই। বলেন, জেলা কমিটি শুধুমাত্র বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠাতে পারে। আর সরাসরি কাউকে বহিষ্কারের এখতিয়ার কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটিরই হাতে রয়েছে। নৌকার ভরাডুবি টের পেয়ে এসবের মাধ্যমে তারা নির্বাচনকে বানচাল করতে চাইছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, যাদের বহিস্কারের কথা বলা হচ্ছে তারা সবাই পদস্থ ও সমাজের সম্মানিত। এভাবে ফেসবুকে তাদের বহিস্কারের গুজব ছড়িয়ে তাদের মানহানি করা হয়েছে। তারা চাইলে এই মানহানির আইনি প্রতিকার পেতে পারেন। যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ বলেন, পরাজয় টের পেয়ে তারা এসব করছে। রাতের আধারে নিজেরাই নৌকার ক্যাম্পে আগুন দিয়েছে যাতে আমাদের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে দিতে পারে৷ গতকালও তারা একটি সেন্টারে হামলা করে আমার লোকদের মেরেছে। আমার ইউনিয়নের নেতা ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে পুলিশের কাছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বিপুল ঘোষ নৌকার প্রার্থী শামীম হকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বলেন, তার সাথে আছে কিছু সন্ত্রাসী, পেশাদার ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ঈগল প্রতীকের জনসভাকে সর্বকালের সর্বসেরা জনসভা আখ্যায়িত করে বিপুল ঘোষ বলেন, শামীম হক জানেন নির্বাচন হলে তিনি হেরে যাবেন। তাই বিএনপির মতো নির্বাচন বানচাল করতে চাইছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ড. যশোদা জীবন দেবনাথ বলেন, ফরিদপুরে এখন নিরব চাঁদাবাজি হচ্ছে। সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ব্যবসায়ীরাই এর বেশি শিকার। যশোদা জীবন বলেন, যখন ইলেকশন আসে আমাদের মাইনরিটিদের উপরে নির্যাতন বেড়ে যায়। তারা কি চায় আমরা দেশ থেকে চলে যাই! সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি বিনয়ের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি- আমাদের রক্ষা করুন। এই টর্চার আর সহ্য করতে পারছিনা। আমরা নিরাপত্তা চাই।
অন্যদিকে, ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হক অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে শহরের ঝিলটুলী, চর কমলাপুর, পূর্ব খাবাসপুর এবং সদর উপজেলার কানাইপুর, নর্থ চ্যানেল, অম্বিকাপুর ও মাচ্চরে এগারোটি নির্বাচনী ক্যাম্পে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ তার নিশ্চিত পরাজয় জেনে এ আসনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে তার পক্ষে বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত মোতায়েন করেছে। এই দুর্বৃত্তরা নিশ্চিতভাবে ক্যাম্প পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত। তিনি দ্রুত তদন্ত শুরু করে দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইশতিয়াক আরিফ এবং পৌর মেয়র আ.লীগের বোস।
এদিকে, ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আব্দুল গাফফার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে আটক তিনজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন সমন্বয়কারী শোয়েবুল ইসলাম জানান, নৌকার ক্যাম্পে আগুন দেয়ার সময় ঈগল প্রতীকের সমর্থক শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান ওই তিনযুবককে পেট্রোল সহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।







