আমার দু’ মিনিট আগেই কোথায় থেকে এসে এক মেয়ে(বয়স ২০/২২ বছর) হোটেলের ভেতরে ঢুকলো।
এই ভোরবেলায় একা একটা মেয়ে হোটেলে ঢুকছে। অনুমান করছি হোটেলের পরিবেশ কেমন হতে পারে।
কিন্তু আশে পাশেতো আর নেইও আবাসিক হোটেল। আত্মীয়’র বাসায় যেতে হলে এ মুহূর্তে গাড়িও পাবো না। তাছাড়া তারা ফোনও ধরে না।
হোটেল ম্যানেজারকে বললাম- আমি জাস্ট তিন চার ঘন্টা থাকবো। এখন ভোর। ইন্টারভিউ সকাল ১০ টায়। শহরে এই ভোরবেলা কোনো আত্মীয়স্বজনকে বিরক্ত করতে চাই না।
ম্যানেজার আমার দিকে ভ্রু বাঁকিয়ে তাকালেন। যেন এমন হাবা গোবা এই হোটেলে এর আগে কেউ আসেনি।
কিম্বা হতে পারে সবাই এই স্টাইলেই কথা বলে। পরে ঠিকই আনন্দ ফূর্তি চায়।
আমাকে একটা রুম দিলেন তিনি। চার তলায়।
রুমটা খুবই ছোট।
মেঝেটা ভয়ানক নোংরা। যাক কোনোরকম একটু ঘুমাতে পারলেই হবে।
আমার ব্যাগে অল্প কিছু টাকা আছে।
একটু নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছিলাম।
ঘুমিয়ে পড়লে কী হবে? ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ পাবোতো। কিম্বা দেখা গেলো পুলিশ এসে রেইড এলার্ট দিয়েছে ।
তখন খবরের কাগজে ছাপা হবে-
“রাজধানীর আবাসিক হোটেল থেকে তিন নারীসহ এক যুবক আটক”
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীর এক আবাসিক হোটেল থেকে অনৈতিক, অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ২৭ বছরের এক যুবক আটক হয়েছে। সাথে ৩ নারীকেও আটক করেছে পুলিশ।
যুবকের ব্যাগে প্রায় এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও পাওয়া গেছে। জানা যায় যুবকটির ব্যাগে হাফকেজি গাজাও ছিল…। পুলিশ যুবককে তেরো দিনের রিমান্ডে নিতে চাইলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। যুবকের অসামাজিক কাজের ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে৷
আমার ব্যাগে এইসব কিছু না থাকলেও কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড ‘সাংবাদিক হয়তো এভাবেই লিখতেন বা লেখেন। বিরাট অনুসন্ধানী রিপোর্ট।
যাহোক এমন সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি।
কিছুক্ষণ পর ঘুম ভেঙে যায়।
দরজা ধাক্কাচ্ছে কেউ একজন। জানালা খুলে দেখি বাইরে মাত্র কিছুটা আলো ফুটেছে। এই সময়ে দরজায় কে ধাক্কা দেবে?
আতংক নিয়ে দরজা খুললাম। পুলিশ নয়তো ?
দেখি এক মেয়ে। শাড়ি পরা। ফর্সা। বেশ উচু এবং লম্বা। বললাম কী চাই ?
বলল- দরজা খুলেন। আমি রুম পরিস্কার করি এই হোটেলেই।
মেয়েটাকে কোনোভাবেই মনে হয় না কাজের মেয়ে। একেবারে ভদ্র গোছের গৃহিণী হবে।
বললাম- লাগবে না। আপনি পরে আসেন।
সে ধমক দিয়ে বলল-
“আপনি বললে হবে না। ম্যানেজার পাঠাইছে আমারে।”
কী আজব। যে হোটেলের মেঝে নোংরায় কিছু দেখা যায় না সেখানে কিনা ভোরবেলায় হাজির পরিচ্ছন্নতা কর্মী!
আমার মাথা খুব ব্যাথা করছে। টানা ১৯ ঘন্টা জার্নি করেছি।
বিছানায় বসে আছি। কখন তার মেঝে পরিস্কার করা হবে। সে মেঝে পরিস্কার করছে।
তবে মেঝের দিকে তার চোখ নেই। চোখ আমার দিকে।
আমার কিছুটা আশংকা হতে লাগলো। বুঝে গেছি এই মহিলা কাজের বেটি নয়।
শ্রেফ হোটেল ম্যানেজারের কূটকৌশল। এ অবশ্যই পতিতা।
সে আমার দিকে তাকিয়েই তার বুক থেকে আঁচল খুলে ফেললো।
মুচকি হাসি দিলো। আমি লজ্জিত হলাম। এমনটা আগে দেখিনি। তবে শিউরে উঠলাম কিছুটা।
পুরুষের কাম মনোভাবে হয়তো এই শিউরে ওঠার বহি:প্রকাশ।
বলল- মামা কিছু লাগবে আপনার?
কথা শেষ না করেই এসে আমার বিছানায় বসে পড়লো।
আমি একটু সরে বসলাম।
– “মামা বেশি লাগবো না। অল্প টাকায় কাজ হবে। আপনি যেভাবে চান।”
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংগঠিত হয় নারী পুরুষের এই অবাধ মেলামেশায়। নারীর প্রতি পুরুষের, পুরুষের প্রতি নারীর এই আকর্ষণে।
ঠিক আমি যে পরিবেশে আছি তাতে করে এহেন পাপকম্ম ঘটতে খুব একটা সময়ও লাগবে না।
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা বড্ড কঠিন।
আমি প্রায় লাফ দিয়ে বাইরে এলাম।
পাশের রুমগুলোতেও আরো সব মেয়ে ঢুকে গেছে। বেশ কয়েকজন লোককে বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখলাম।
দেখতে সবাই ভদ্রলোক।
তাদের একজন বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক মেয়ের সাথে হাসি ঠাট্টা করছে। গায়ে হাত দিচ্ছে। খুব অশ্লীল সে ঠাট্টা।
এদের বাড়িতে নিশ্চয় স্ত্রী সন্তান আছে। আছে মা বাবা।
আমার মোবাইল বেজে উঠলো। ফোন করেছেন মা।
“তুই ঠিকমতো ঢাকায় গেছিস তো বাপ…”
বললাম – মা তুমি ঘুমাও নাই ? এখনো জেগে?
কথা শেষ করতেই আমার ভেতরে কেমন একটা অনুভূতি আসলো।
আমি এক মায়ের সন্তান। যে মা আমাকে জন্ম দিয়েছেন সে মা আজ অবধি কষ্ট করে চলেছেন…
শুধু মাত্র মানুষের মতো মানুষ হবো এই কামনায়…
আমি অল্প কিছু মুহূর্তের আনন্দের জন্য তার সারাজীবনের কষ্টকে ধুলিস্মাত করবো?
হতেই পারে না।
আমি এক মুহূর্ত দেরি না করে হোটেল কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলাম।
রাস্তায় এসে এক চা স্টলে বসলাম…
সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত। পাপে লিপ্ত হবার মুহূর্তে মায়ের ফোন পেয়েছিলাম বলে হয়তো বেঁচে গেছি। বিবেক নাড়া দিয়েছে…
আমার সামনে এক মা কোলে বাচ্চাকে নিয়ে বসে চা খাচ্ছেন। ইনি হয়তো ফুটপাতে কোথাও থাকেন।
তবুও সন্তানকে বুকে আগলে রেখেছেন।
এ সন্তান একদিন মানুষ হবে। চরিত্রবান হয়ে বেড়ে উঠবে…। তবেই না মায়ের কষ্ট সফল…
এই সফলতা আনতে, নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে সন্তানেদেরকেও চাই একটু বুঝে শুনে চলা…
সকাল হয়ে গেছে। সূর্যের মিষ্টি আলো গায়ে এসে পড়ছে।। নতুন পবিত্র একটি দিনের শুরু এভাবেই…
সংগৃহীত








