এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
ক’দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রার্থীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের মন জয় করতে ছুটে যাচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারখ্যাত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মূলত লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে। দুই দলই সমানে পাল্লা দিয়ে বড় বড় জনসভা, উঠান বৈঠক, পাড়া বৈঠক, মিছিলের মধ্যদিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) জনপদ। এই আসনে এবার জয় পরাজয় নির্ভর করছে তরুণ ভোট, সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট। এই আসনে এবার সোয়া লাখ তরুণ ভোটার প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। এদের অধিকাংশই এবার জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এসব ভোট যাদের বাক্সে যাবে তারাই জয়ের স্বাদ পাবেন।
বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। জামায়াতে ইসলামী ছিল অনেক পিছিয়ে। এবার আওয়ামী লীগ মাঠ ছাড়া হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে উভয় দল। বিএনপির দাবি-এবারের নির্বাচনে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে। তবে জামায়াতে ইসলামীও সুসংগঠিত হয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি মহিলা কর্মী বাহিনীও মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে চোখে চোখ রেখে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সামনাসামনি থাকবে জামায়াত।
ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি
দীর্ঘ সময় মিরসরাই উপজেলা বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত থাকলেও এই আসনে পঞ্চমবারের মতো নিজেদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারে নেমেছে। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে থাকা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বর্তমান আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন ও আরেক সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি ছিল। অবশেষে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ধানের শীষের মনোনয়ন পান। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে তিনি দলের সকল অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনরাত ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির পঞ্চমবার নাকি জামায়াতের প্রথমবার
দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছয়বার, বিএনপির ওবায়দুল হক খোন্দকার ও এম এ জিন্নাহ দুইবার করে এবং জাতীয় পার্টির আবু ছালেক একবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে বিএনপি সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেই এ আসন থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের মোশারফকে ৪ হাজার ২৯৩ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ৭ জানুয়ারি এক তরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনের ফলাফলে নির্ধারণ হবে বিএনপি পঞ্চমবারের মতো জয়ী হতে যাচ্ছেন এই আসনে নাকি জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো বিজয় লাভ করতে যাচ্ছেন।
১০৬ কেন্দ্রের ৪৮টি ঝুঁঁকিপূর্ণ
মিরসরাইয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন এবং এর মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৪ জন। পোস্টাল ভোট ৬ হাজার ৫৭২। পোস্টাল ভোট ছাড়া ভোটার হলো ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০২টি। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৬টি, মোট বুথের সংখ্যা ৭১৮। ১০৬ টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। মিরসরাই থানায় ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুতপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ), জোরারগঞ্জ থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি। দুইটি থানা মিলিয়ে ১০৬টি ভোট কেন্দ্রের ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনে এবার ১৮ বছর থেকে ৩৩ বছর বয়সের ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭২ জন।
লড়ছেন যারা
এই আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাসদ (আ.স.ম আব্দুর রব) মনোনীত প্রার্থী একেএম আবু ইউসুফ।
যা বলছেন প্রার্থীরা
বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৪ সালে আমাকে উপজেলা নির্বাচনে মিরসরাইবাসী বিজয়ী করেছেন। এবার ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মিরসরাইবাসী আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশাবাদী। আমি নির্বাচিত হলে মিরসরাইয়ের বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। বিশেষভাবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে থাকবে নিরাপত্তা, শান্তি, শৃঙ্খলা। এসব ফিরিয়ে আনতে মাদক নির্মূলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো, বেকার যুবকদের দক্ষ মানব সম্পদে রুপ দেবো এবং তাদের জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর পাশাপাশি নানা প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবো।’
নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ছিল এবং তা বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা কোন উস্কানিতে পা দেবো না। মিরসরাইবাসীকে আমরা কোন সংকটে ফেলার চেষ্টা করবো না। যদি অন্য কেউ সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করে তাদেরকে আমরা বলবো শান্তির মিরসরাইকে অশান্ত করবেন না। একটি পক্ষ মাঠে বলছে তারা হাত কেটে ফেলবে, চোখ তুলে ফেলবে। আমরা তাদের বলবো এসব থেকে সরে এসে সবাই মিলে একটি সুন্দর মিরসরাই গড়ে তোলার কথা।’
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোটে ছাইফুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সমস্ত সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল তাদেরকে পর্যায়ক্রমে এলাকায় এনে পুণর্বাসনের পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে যারা দু’য়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের বিষয়ে কিন্তু কেউ কেউ কথা বলছেন। এছাড়া যারা জুলাই বিপ্লবের পরে নিজেরা অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে দলীয় লোকদেরকে হত্যা করেছে একে অন্যকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়েছে এরাই কিন্তু এখন নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি যদি অস্ত্র উদ্ধার না হয় এই সন্ত্রাসীদেরকে নির্বাচনের আগে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে নির্বাচনে অবশ্যই একটা শঙ্কা লক্ষ্য করা যায়। আমাদের মহিলা ভোটাররা যারা হাউজ ক্যাম্পিংয়ে গেছে তাদেরকে কিছু সন্ত্রাসী হুমকি ধমকি দিয়েছে। যদি সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।’
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘মিরসরাইয়ে সব কয়টি ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যামরার আওতায় থাকবে। তবে যেসকল ভোট কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোর প্রতি বাড়তি নজরদারী রাখবেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এখন পর্যন্ত মিরসরাইয়ে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে এতে কোন শঙ্কা নেই।’
নবীনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান
নবীনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের...








