মীর জাফরের বংশধরদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় মজার কিছু বিষয় লক্ষ্য করলাম। এই যারা মুসলমানদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে বলে গালি দিচ্ছিল তারা আবার এই ঘট্নায় মহাখুশি! এখনো গাদ্দারির প্রতিরূপ হিসেবে মীর জাফরকে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এর সঙ্গে বাংলার স্বাধীনতা পরাধীনতার কোনই সম্পর্ক নেই। মীর জাফর যদি গাদ্দার হয় তাহলে সিরাজদৌলার নানা আলিবর্দি তারচেয়ে বড় গাদ্দার!
আলিবর্দি তার মনিবের পুত্রকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে। এর আগে সে কুরআন ছুঁয়ে শপথ করেছিল কোনভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। সেই বেঈমানীর মসনদ লাভ করেছিল সিরাজ। সিরাজ অতিশয় নিষ্ঠুর লোভী লম্পট এক কিশোর শাসক ছিল। আমরা যে ইতিহাস জানি তা আসলে একটা নাটক। যে নাটক লেখা হয়েছিল স্বদেশী যুগে দেশপ্রেম জাগাতে। আলিবর্দি সিরাজ বা মীর জাফর এদের কারোর শাসনকেই কোনভাবেই বলা যায় না বাংলার সার্বভ্রৌমত্ব। বাংলা আগে পরে যে পেরেছে দখল করেছে, শাসন করেছে। এতে কোথায় স্বাধীন হলো কোথায় পরাধীন হলো? সিরাজের পরাজয়কে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তিমিত বলাটা আহাম্মকী। সিরাজের পরাজয়ের পর মীর জাফর, তার জামাতাসহ আরো অনেকে শাসন করেছে। মীর কাসেমের সঙ্গে তো ইংরজেদের সম্পর্ক ছিল খুবই খারাপ। ফলে সিরাজের পরাজয়ের পর ইংরেজরা বাংলা দখল করে নিয়েছিল সেরকম কিছু নয়। কিন্তু সিরাজ বা তার নানা আলিবর্দি বাংলার কে? তারা কেউ বাঙালি ছিল না। বাংলা ভাষাতেও কথা বলত না।
আলিবর্দি, মীর জাফর দুজনই বিদেশী ছিলেন। কিন্তু সিরাজের জন্ম এখানেই। তাতেই তার পরাজয়ে স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যায় না। মীর জাফর যে বেঈমানী করেছে এটি সেকালে রাজনীতির খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। এসব এত ঘটেছে যে তার মধ্যে মীর জাফর একা কেন বেঈমান হয়ে গেলো বুঝি না! বাংলা প্রাচীন কাব্যগুলোতে আলিবর্দিকে দুরাত্মা বলে ঘৃণা করা হয়েছে। মীর জাফরের বংশধর তাহলে একা কেন গ্লাণি নিবে? ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই রকম কার্যকলাপ খুবই বিতর্কিত। দোষ ত্রুটি যেটাই থাকুক, এতকাল ধরে যারা এই মাটিতে বসবাস করছে তারা এদেশেরই নাগরিক। ইতিহাসের যার যার ফল আমরা দিবো কিন্তু বংশধররা সেসব থেকে নিস্পাপ। এটাই বিচার হওয়া উচিত।








