মনির হোসেন, বরিশাল :
ঝালকাঠি জেলার নলছিটির উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোর বেহাল চিত্র বহু বছরের। উপজেলার প্রধান সড়কগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। যেসব সড়কে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলছে, সেখানেও অনিয়ম ও দুর্নীতির স্পষ্ট চিত্র উঠে আসছে।
সরকার সড়ক সংস্কারে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিলেও ঠিকাদারদের একাংশ কাজের মানে চরম কৃপণতা ও সীমাহীন দুর্নীতির ছাপ উপলব্ধি হয়েছে । সরকারি অর্থ লোপাট করাই যেন তাদের নেশায় পরিণত হয়েছে-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলার মানপাশা,ফুলতলা টু খেজুরতলা পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলের অনুপযোগী ছিল।
এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।ফুলতলা বাজার থেকে বরিশাল মহাসড়কের খেজুরতলা পর্যন্ত।
কাজ শুরুর পর থেকেই সড়কের লোয়ার লেভেল ও ম্যাকাডাম নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির সম্পূর্ণ অংশ কোরবানির ঈদের আগেই কার্পেটিং সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল,কার্পেটিং উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি দেখা দিয়েছে।
ফুলতলা বাজারের পূর্ব পাশে দিঘীরপাড় এলাকায় রাস্তা ভাটল সহ পিস উঠে যাওয়া লক্ষ্য করা যায়।
রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কোথাও ২ ইঞ্চি, কোথাও আবার ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রশস্ত ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণ কাজের রাস্তার পাইলিং কাজে বালু দিয়ে বরাট না করে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে বেকু দিয়ে মাটি দেয়ার কারণে রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং ফাটল ধরছে এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়ক ফেটে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীসহ সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা।
সিএনজি চালক,আবুল কালাম, জামাল হাওলাদার, বলেন, গত দুই-তিন বছর এই সড়কে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
ফুলতলা,থেকে খেজুরতলা যেতে যেখানে ২০/২৫ মিনিট লাগার কথা, সেখানে ঘণ্টা লেগেছে। একবার যাতায়াত করলেই গাড়িতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিত। এই নিন্ম মানের কাজ আমরা মেনে নেব না। প্রয়োজনে:অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবো।
স্থানীয় বাসিন্দা, আলী আকবার হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার কি টাকা দেয় কন্ট্রাক্টরের পকেট ভরার জন্য? কেউ সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। কাজ শুরুর দিন থেকেই এই কন্ট্রাক্টর দুই নম্বরি করছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা ফেটে যাচ্ছে, কোথাও এজিন ভেঙে পড়ছে। তারপরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
নির্মাণাধীন সড়কের কার্পেটিং ফাটল বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।








